প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫১
তাঁরা শ্রদ্ধেয়, কেবল সন্দিগ্ধদের নজরদারিতে রাখুন

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মধ্য দিঘলদী গ্রামে ৯ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) রাতে মাইনুল ইসলাম (২৭) নামক এক মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি মধ্য দিঘলদী মাস্টার বাজার এতিমখানা জামে মসজিদের ইমাম। তার বাড়ি বরিশাল। পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মধ্য দিঘলদী গ্রামের ৯ বছরের শিশু বেশ ক’দিন যাবৎ ওই মসজিদের ইমাম মাইনুল ইসলামের নিকট আরবী পড়তো। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে মসজিদের সাথেই এতিমখানায় আরবী পড়তে গেলে শিশুটিকে ইমাম মাইনুল ইসলাম বলাৎকার করে। ঘটনাটি শিশু বাড়িতে গিয়ে তার মাকে জানালে তিনি তার স্বামীকেও অবহিত করেন। শিশুর পিতা শাহজালাল রাজু ঘটনাটি জেনেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ইমামকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে অস্বীকার করেন। এতে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শাহজালাল রাজু বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ইমামের পক্ষে এবং বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় নিজের শিশু পুত্রকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্যে নিয়ে যান। হাসপাতালে বলাৎকারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে ইমামকে আসামি করে মতলব দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই থানার এস আই আউয়াল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ইমাম মাইনুল ইসলামকে আটক করে। মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, এ ঘটনায় ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক লঞ্চের কেবিনে শিশুছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা চাঁদপুরের মানুষের মন থেকে মুছে না যেতেই মতলবে শিশুছাত্রকে একজন ইমাম কর্তৃক বলাৎকারের ঘটনায় সাধারণ্যে মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামের প্রতি সাময়িক ঘৃণা ও সন্দেহ জাগাটা স্বাভাবিক। নিঃসন্দেহে এমন শিক্ষক ও ইমাম সমাজে অনেক শ্রদ্ধেয়। কিন্তু কম বয়সী ও অবিবাহিত এমন শ্রদ্ধেয় লোকের কাছে একলা কোনো শিশুই নিরাপদ নয়। এছাড়া বয়স্কদের মধ্যে যারা সপরিবারে কর্মস্থলে বসবাস করেন না কিংবা আমলে ঘাটতি আছে, বিপথগামিতা রয়েছে, তাদের কাছেও একাকী কোনো শিশু নিরাপদ নয়। এটা আমাদের সমাজে অনেক অসচেতন অভিভাবক তাদের উদাসীনতা বশত মানতে নারাজই থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো অঘটন না ঘটে। গৃহ শিক্ষক, মাদ্রাসা শিক্ষক, ইমাম, মোয়াজ্জিনের কাছে অভিভাবকরা তাদের সন্তান বা পোষ্যদের পড়াতে দিয়ে নির্ভার ও নিশ্চিন্ত থাকাটাকে বেশ উপভোগ করেন। কিন্তু খোঁজখবর/তদারকি ও নজরদারি ছাড়া এমন উপভোগ যে নিজ সন্তান/পোষ্যের দুর্ভোগ-দুর্গতি ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে সেটা কিন্তু মাথায় রাখতে হবে। আর সেটি করলে শ্রদ্ধেয় নামধারীদের দ্বারা ধর্ষণ, বলাৎকারসহ যৌন নিপীড়নের হার অনেক কমবে, কেবল পুলিশ দিয়ে শায়েস্তা করলেই কমবে না। আবারো বলছি, অভিভাবকদের তীক্ষè সচেতনতা শিশু ধর্ষণ/বলাৎকারের ঘটনা হ্রাসে পুলিশের ভূমিকার চেয়েও কার্যকর--এটা হলফ করে বলতে আমাদের কোনো কুণ্ঠা নেই।




