বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩

বোগদাদ ট্রান্সপোর্টের কাছে দারোয়ান বিল্লালের জীবনের মূল্য কতো?

অনলাইন ডেস্ক
বোগদাদ ট্রান্সপোর্টের কাছে দারোয়ান বিল্লালের জীবনের মূল্য কতো?

বোগদাদ ট্রান্সপোর্ট আর আইদি পরিবহন সড়কে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে। সেই প্রতিযোগিতার সর্বশেষ বলি হলো দারোয়ান বিল্লাল হোসেন (৫৫) । তিনি কর্মস্থলের ২০ গজ দূরে বাসের চাপায় নিহত হন। রোববার (৩১ মে ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড়ের মনির ফিলিং স্টেশনের সামনে। নিহত ব্যক্তি একই এলাকার ডক্টরস্ সিটি স্ক্যান সেন্টারের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাতের ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। তিনি শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মুড়াগাঁ গ্রামের মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা। স্থানীয় একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, এদিন সকালে কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিলো আইদি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস। ঠিক তার পেছনে ছিলো বোগদাদ ট্রান্সপোর্টের অপর একটি যাত্রীবাহী বাস। বোগদাদ বাসটি আইদি বাসটিকে ওভারটেক করতে চেয়েছিলো, কিন্তু আইদি বাসটি বোগদাদকে ওভারটেকের সুযোগ না দিলে বোগদাদ বাসটি রং সাইডে প্রবেশ করে। এ সময় সড়কের পাশে থাকা দারোয়ান বিল্লাল হোসেনকে চাপা দেয় বোগদাদ বাসটি। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার পরেই বাস দুটি রেখে বাসের চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে যান। সেন্টু নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুটি বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে অসহায় ও দরিদ্র লোকটির মৃত্যু হয়েছে। এটি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান জানান, সংশ্লিষ্ট বাস দুটি জব্দ এবং নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। বোগদাদ ট্রান্সপোর্টের বাসগুলো যখন চাঁদপুর-কুমিল্লা রুট মাত্র দেড় ঘণ্টায় অতিক্রম করতো, তখন দুর্ঘটনার হার ছিলো বেশি। মামলা-হামলা যা-ই হতো, সকল মহলকে ম্যানেজ করে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে বিশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতো। সদ্য মারা যাওয়া দারোয়ান বিল্লালের জীবনের মূল্য বোগদাদ ট্রান্সপোর্ট কতো দেয়, সেটাই দেখার বিষয়। বিল্লাল কিন্তু শিশু নয় যে, সড়কে তার ভুলের জন্যে তিনি মারা গেছেন, যেটা অল্পতেই সামলানো যাবে। বরং রং সাইড দিয়ে আইদি পরিবহনের বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে দারোয়ান বিল্লালকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। মূলত এটি শুধু বিল্লালকে হত্যা করা নয়, সড়কের পাশে যথাস্থানে প্রতিনিয়ত দণ্ডায়মান সকল যাত্রীর নিরাপত্তাকে হত্যা করার শামিল। যতোদিন চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বোগদাদ ও আইদির অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ না হবে, ততোদিন এ নিরাপত্তা কেউ দিতে পারবে না। বোগদাদের সাথে আইদি কতো মিনিটের ব্যবধানে ছাড়বে সেটা যতোক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে কড়া মনিটরিং না করবে, আর বোগদাদের পেছনে আইদি ছুটবে কিংবা আইদির পেছনে বোগদাদ ছুটবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে বাসযাত্রী ও সড়কের পাশে বিল্লালের মতো দাঁড়িয়ে থাকা অপেক্ষমান যাত্রী বা অন্য কেউ মোটেও নিরাপদ নয়--এটা হলফ করে বলা যায়। চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্য সকল কর্তৃপক্ষ বোগদাদ ও আইদির অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করার উদ্যোগ না নিলে চাঁদপুর-কুমিল্লা রুট দেশের অস্বস্তিময় রুটগুলোর মধ্য এগিয়ে থাকবে--এটা জোর গলায় বলা যায়। এ অস্বস্তি কোনো গোপন সন্ধিতে টেকসই হয়ে যায় কিনা সেটাই পর্যবেক্ষণের বিষয়। আমরা চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের এই অস্বস্তি দূর করতে স্থানীয় সকল এমপি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়