বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪২

মতলব উত্তরে মিড ডে মিলে পচা রুটি!

অনলাইন ডেস্ক
মতলব উত্তরে মিড ডে মিলে পচা রুটি!

মতলব উত্তর উপজেলায় স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা রুটি খেয়ে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে উপজেলার প্রভাতী শিশুকানন মান্দারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীর নাম ইসরাত জাহান, সে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীর বাবা কামাল হোসেন প্রধান জানান, বাড়িতে এসে দেখি আমার মেয়ে বমি করছে। পরে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, স্কুলে দেয়া রুটি খেয়ে তার এমন অবস্থা হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। পরে প্যাকেটে থাকা আরেকটি রুটি দেখে বুঝতে পারি সেটি পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, যদি শিক্ষার্থীদের এমন পচা ও নষ্ট খাবার দেয়া হয়, তাহলে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য তা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোহরা আক্তার বলেন, প্রত্যাশী সংস্থার কর্মীরা যে রুটির বক্স আমাদের কাছে সরবরাহ করেছে, সেখান থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেছি। আমরা বুঝতে পারিনি যে, রুটির মধ্যে খারাপ কিছু ছিলো। পরবর্তীতে শুনেছি এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। বিষয়টি অভিভাবকদের কাছ থেকে জেনে আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থা ‘প্রত্যাশী’র মতলব উত্তর প্রজেক্ট ম্যানেজার আহাম্মেদ তাসনীন আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মতলব উত্তর উপজেলায় গত ২৯ মার্চ থেকে ‘মিড ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ ধরনের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের কথা রয়েছে।

মতলব উত্তর থেকে মিড ডে মিলের নামে ‘প্রত্যাশী’ নামক সংস্থার মাধ্যমে পচা রুটি সরবরাহ এবং সেটি খেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীর অসুস্থ হবার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে চাঁদপুর সদর ও মতলব দক্ষিণের সরকারি কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোটেও খাবার পরিবেশন না করা এবং নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে ফলাও করে। এর ফলে ‘প্রত্যাশী’র বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হলো সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে নি। হয়তো বা ম্যানেজড্ হয়ে কোনো ব্যবস্থাই নেয় নি। প্রতিদিন ‘প্রত্যাশী’র সরবরাহকৃত খাবারের মান যাচাই করার দায়িত্ব সরকারের কোন্ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেটিও স্পষ্ট নয়। ‘প্রত্যাশী’ কি ফেরেশতা যে কোনো দোষ করবে না বলে নিশ্চয়তা আছে? ‘প্রত্যাশী’র কাছে মিড ডে মিল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন কী প্রত্যাশা ও নির্ভরতা আছে যে, তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল সরবরাহ করবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনসমক্ষে এ বিষয়টি আনা দরকার। তাদের প্রেস ব্রিফিং করাটা জরুরি। অন্যথায় মিড ডে মিল যে গণমাধ্যমকর্মীদের সংবাদের জন্যে বড়ো উপজীব্যে পরিণত হবে তাতে সন্দেহ নেই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়