প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০১
পুলিশ সুপারের বিনয় ও মুগ্ধতা

চাঁদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত চৌকস সদস্যদের সম্মানে ব্যতিক্রমধর্মী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চাঁদপুরের স্বনামধন্য প্রথম নৃত্য সংগঠন সপ্তরূপা নৃত্য শিক্ষালয়ের আয়োজনে এই সংবর্ধনার শিরোনাম ছিলো ‘গ্র্যান্ড স্যালুট টু পুলিশ ফোর্স’। রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর ও লুৎফুর রহমান। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি পুলিশিং চাঁদপুর অঞ্চল-৫-এর সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক রোটা. কাজী শাহাদাত। সপ্তরূপা নৃত্য শিক্ষালয়ের সভাপতি হারুন অর রশিদ জাকির বন্দুকশীর সভাপতিত্বে এবং সহ-নৃত্য পরিচালক প্রান্তসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব চাঁদপুর রূপালীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন টিটু, নারী সমাজসেবিকা মাহমুদা খানম, নাঈমা মোশারফ ও সেলিনা রহমান লিপি। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে পুলিশে চাকরি করছি। কখনো ভাবিনি কোনো নৃত্য সংগঠন আমাদের পুলিশকে এভাবে সংবর্ধনা দেবে। বাংলাদেশের কোনো সরকার বা সমাজ এভাবে পুলিশের পরিশ্রম ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করেনি। তিনি বলেন, পুলিশের কর্মঘাম ও পরিশ্রম অনেক সময়ই মানুষের চোখে পড়ে না। কিন্তু আজ আপনারা যে সম্মান দেখালেন, তাতে বোঝা গেলো পুলিশদেরও কেউ না কেউ ভালোবাসে। আপনারা আমাদের ভালোবাসার বন্ধনে বেঁধে দিয়েছেন। এই সম্মান আমাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি আরো বলেন, আমরা যদি মানুষের মনের কথা আন্তরিকভাবে শুনতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষ পুলিশের প্রতি আরও বেশি আস্থা পোষণ করবে ও গুরুত্ব দেবে। অনেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন, কিন্তু পুলিশের ভেতরে অসংখ্য সৎ ও নিষ্ঠাবান সদস্য রয়েছেন, যারা নীরবে দেশের জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে জেলার সাত উপজেলার সাতজন এবং ট্রাফিক বিভাগের একজন চৌকস ও ন্যায়পরায়ণ কনস্টেবলকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন : সদর মডেল থানায় কর্মরত ৭৮৪ মো. মহসিন ভূইয়া, হাইমচর থানায় কর্মরত ৭৬৩ সঞ্জয় কুমার কির্তনীয়া, ফরিদগঞ্জ থানায় কর্মরত ৪৫০ মো. নাহির হোসেন আখন্দ, মতলব দক্ষিণ থানায় কর্মরত ১৯৪ মো. জোয়াহেব আলী, মতলব উত্তর থানায় কর্মরত ২৪৬ মো. মাঈনুল আলম, হাজীগঞ্জ থানায় কর্মরত ৭৫৭ নুর মোহাম্মদ, কচুয়া থানায় কর্মরত ৪২৭ মো. আবু তাহের ও ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ১৩২ মো. হেলাল হোসেন। তাদের সততা, দায়িত্বনিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উপস্থিত অতিথিদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান পুলিশ কনস্টেবলদের সংবর্ধনার আয়োজকদের স্যালুট জানান এবং সপ্তরূপা নৃত্য শিক্ষালয়ের অধ্যক্ষ অনিমা সেন চৌধুরীকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। ২০১৫ সাল থেকে চালু হওয়া ‘গ্র্যান্ড স্যালুট টু পুলিশ ফোর্সে’র অন্যান্য বছরের অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। এটা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজকদের বিরাট মূল্যায়ন বলে সুধীজন মনে করছেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকলেও সংবর্ধিত পুলিশ কনস্টেবলদের হাতে তিনি ক্রেস্ট তুলে দেন নি। আয়োজকদের হাত দিয়েই তিনি ক্রেস্টগুলো সংবর্ধিতদের দেয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বক্তৃতাকালে কনস্টেবলদের থানা ব্যারাকে কষ্টকর অবস্থানসহ তাদের ঝুঁকি ও প্রয়োজনের খাতিরে দৈনিক ১৮-২০ ঘণ্টা ডিউটির বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর পুরো বক্তব্যে পুলিশে ২০ বছর চাকুরির অভিজ্ঞতা ও সঙ্গত আক্ষেপ উপস্থাপনে ছিলো বিনয়-শোভন উচ্চারণ। তিনি সপ্তরূপার মতো একটি নৃত্য সংগঠন কর্তৃক পুলিশ কনস্টেবলদের সংবর্ধনা জ্ঞাপনে তাঁর ভীষণ মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। যার প্রমাণ হিসেবে বক্তৃতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আয়োজকদের প্রতি স্যালুট দেন এবং সপ্তরূপা নৃত্য সংগঠনের প্রাণ অনিমা সেন চৌধুরীকে মূল্যবান ক্রেস্ট প্রদান করেন। এটা ছিলো স্মরণকালে চাঁদপুরের কোনো পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে বিরল ঔদার্য প্রদর্শনের ঘটনা। এতে সপ্তরূপার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যক্তি প্রেরণাবোধ করছে এবং ‘গ্র্যান্ড স্যালুট টু পুলিশ ফোর্স’ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ব্যাপারে দৃঢ়তা পোষণ করছে। একটা ব্যতিক্রম ভালো কাজে পুলিশ সুপারের মুগ্ধতা ও আয়োজকদের মূল্যায়ন করার বিষয়টি স্মরণীয়ও হয়ে থাকবে।




