প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৭
২৬ মার্চ: রক্তিম সূর্যোদয় ও সার্বভৌমত্বের অবিনাশী শপথ

|আরো খবর
অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন
প্রতিবেদক:
অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন
সিনিয়র সাব-এডিটর, বিশেষ প্রতিনিধি ও কলামিস্ট, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহর ছিল বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার মুহূর্ত। রক্তঝরা ২৫ মার্চের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যে প্রতিরোধের ডাক এসেছিল, তা-ই ছিল আমাদের টিকে থাকার এবং লড়াই করে জেতার অমোঘ মন্ত্র। আজ ৫৬ বছরে দাঁড়িয়ে সেই স্বাধীনতা আমাদের কাছে কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এক অপরাজেয় চেতনার নাম।
সূর্যোদয়ের সেই লগ্ন
বাঙালির ইতিহাসে ২৬ মার্চ এক অনন্য অগ্নিঝরা দিন। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর যখন তৎকালীন পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাঙালির পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছিল, তখনই এসেছিল এই অমোঘ মুহূর্ত। ২৫ মার্চ কালরাত্রির সেই বিভীষিকাময় গণহত্যার মধ্য দিয়ে যখন আমাদের কণ্ঠরোধ করতে চাওয়া হয়েছিল, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহর সেই অন্ধকারের বুক চিরে আলোর পথ দেখিয়েছিল।
রণাঙ্গন ও ঘোষণা: শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা
২৬ মার্চের ইতিহাসে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অবদান এক অবিস্মরণীয় ও বীরত্বপূর্ণ অধ্যায়। অপারেশন সার্চলাইট শুরু হলে তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি— "We revolt" ছিল সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। এরপর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণাটি ছিল যুদ্ধের একটি অভাবনীয় মনস্তাত্ত্বিক মোড়। তাঁর সেই বজ্রকণ্ঠের ঘোষণা সাত কোটি বাঙালির হৃদয়ে আশার আলো জ্বালিয়েছিল এবং একটি সুসংগঠিত যুদ্ধ শুরু হওয়ার বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। পরবর্তীতে জেড-ফোর্স (Z-Force) প্রধান হিসেবে তাঁর বীরত্ব আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল।
চাঁদপুর ও মেঘনা তীরের প্রতিরোধ গাথা
এই স্বাধীনতার ডাক চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের মধ্যেও তীব্র শিহরণ জাগিয়েছিল। প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল মেঘনা তীরের ঘাটে ঘাটে। বাবুরহাট, ফরিদগঞ্জ, হাজিগঞ্জ, হাইমচর—সর্বত্রই সাধারণ মানুষ লাঠিসোঁটা আর সামান্য দেশি অস্ত্র নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল আধুনিক মারণাস্ত্রের বিরুদ্ধে। এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই চাঁদপুরকে এক দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল।
স্বাধীনতার ৫৬ বছর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখি আমাদের অনেক অর্জন। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। তবে স্বাধীনতা কেবল একটি পতাকা নয়; এটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারর প্রতীক। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কতটুকু এগিয়েছি, সেটিই আজ বড় প্রশ্ন।
গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের সংগ্রাম
২৬ মার্চের চেতনা আমাদের শেখায় কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত না করা। আজ আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত ভোটাধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই পারে সেই রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে। জাতীয় ঐক্যই আজ সবচেয়ে বড় শক্তি।
২৬ মার্চ আমাদের জন্য যেমন আনন্দের দিন, তেমনি শপথের দিন। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এই লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে আরও গৌরবের সাথে তুলে ধরতে হবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








