শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৩

পরলোকে ছড়া সম্রাট সুকুমার বড়ুয়া

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
পরলোকে ছড়া সম্রাট সুকুমার বড়ুয়া

বাংলা ছড়ার কিংবদন্তি সম্রাট ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। তিনি সাতাশি বছর বয়সে ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ভোর ৬ টা ৫৫ মিনিটে অনন্তলোকে যাত্রা করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। কিছুদিন পূর্বে ২৫ ডিসেম্বর রাত নয়টায় তাঁকে চট্টগ্রামের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে তিনি আইসিইউতে ছিলেন। একটু ভালো বোধ করায় তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এরপর গত ১ জানুয়ারি তাঁকে গ্রামের বাড়ি নেওয়ার পথে রাউজানস্থ একটি হাসপাতালে চেকআপের জন্যে নেওয়া হলে তিনি সেখানেই শুক্রবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন।

ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সর্বানন্দ বড়ুয়া এবং মায়ের নাম কিরণ বালা বড়ুয়া। তিনি শৈশবে বড়দিদির বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করেন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন মনসার পালা দেখতে দেখতেই তাঁর হাতে ছড়া এসে ধরা দেয়। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌষট্টি টাকা বেতনে তিনি চাকরিতে ঢোকেন এবং ১৯৯৯ সালে স্টোর কিপার হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি হতে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি ননী বালা বড়ুয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর তিন মেয়ে চন্দনা, রঞ্জনা আর অঞ্জনা এবং এক ছেলে অরূপ রতন বড়ুয়া।

সুকুমার বড়ুয়া তাঁর জীবদ্দশায় কর্ম ও অবদানের স্বীকৃতিবরূপ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর ছড়ার বিষয়বৈচিত্র্য অনন্য। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তাঁর ছড়ার বইয়ের নাম 'কোয়াল খাইয়ে।'

জীবনের শেষবেলায় এসে নিজ পিতৃভিটায় সাদা রঙের দোতলা বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি। বাড়ির উঠোনের পাশেই গড়ে তুলেছিলেন 'সুকুমার শিশু পাঠাগার'।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়