রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩

প্রবাসের কষ্টার্জিত অর্থে স্ত্রীর পড়াশোনা ও সরকারি চাকরি

অবশেষে তালাক পেলেন স্বামী!

শাহরাস্তি ব্যুরো
অবশেষে তালাক পেলেন স্বামী!
প্রবাসী সাইফুল ইসলাম এবং তাকে তালাক প্রদানকারী স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস।

শাহরাস্তি (চাঁদপুর): উপজেলার উনকিলা গ্রামে এক প্রবাসীর উপার্জনে লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর স্ত্রীকে স্বামীকে তালাক দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসের এমন অকৃতজ্ঞতামূলক সিদ্ধান্তে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রীর এই প্রতারণা, গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে গত ২৩ জুলাই ২০২৬ চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী সাইফুল ইসলাম।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালে পারিবারিক সম্মতিতে শাহরাস্তি উপজেলার উনকিলা গ্রামের সাইফুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জান্নাতুল ফেরদাউস। বিবাহের পূর্ব থেকেই সাইফুল মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদেই তিনি পুনরায় প্রবাসে ফিরে যান। প্রবাসে থাকাকালে স্ত্রী উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করলে সাইফুল স্ত্রীর সম্পূর্ণ পড়াশোনার দায়িত্ব নেন এবং তাকে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে নামি কোচিং সেন্টারে ভর্তি করান।

দীর্ঘ চার বছর ঢাকায় অবস্থান করে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পর চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে 'অফিস সহকারী' পদে নিয়োগ পান জান্নাতুল ফেরদাউস। তবে কাঙ্ক্ষিত সরকারি চাকরি পাওয়ার পর থেকেই জান্নাতুল তার স্বামী সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দেন এবং দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন। এতে সাইফুলের মনে সন্দেহ দানা বাঁধলে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে ১ জুলাই দেশে ফিরে সোজা ঢাকায় স্ত্রীর কার্যালয়ে হাজির হন।

ভুক্তভোগী সাইফুল জানান, কার্যালয়ে দেখা হওয়ার পর স্ত্রীকে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করতে বললে জান্নাতুল তাকে বসিয়ে রেখে কৌশলে সটকে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও স্ত্রী না ফেরায় তিনি ভারাক্রান্ত মনে গ্রামে ফিরে আসেন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানান। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের আশ্বস্ত করা হলেও এর কিছুদিন পরই সাইফুলের বাড়িতে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ এসে পৌঁছায়। এতে দিশেহারা ও নিঃস্ব হয়ে সাইফুল তার উপার্জিত অর্থ-সম্পদ উদ্ধার ও প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে সাইফুল ইসলাম বলেন, "স্ত্রীর সমস্ত আবদার পূরণ করতে গিয়ে আমি প্রবাসের উপার্জিত অর্থের সিংহভাগ তার পড়াশোনা, ঢাকায় থাকা-খাওয়া ও কোচিংয়ের পেছনে ব্যয় করেছি। আজ আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। অথচ সরকারি চাকরি পাওয়ার পরই সে আমাকে ত্যাগ করল।"

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জান্নাতুল ফেরদাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই ফয়সাল আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, "আমার বোনের অভিযোগ—সাইফুল বিদেশে থাকাকালে তার ঠিকমতো খোঁজখবর রাখতেন না। সে কারণেই বোন তাকে তালাক দিয়েছে। তবে এটা সত্যি যে, বোনের পড়াশোনা, কোচিং এবং ঢাকায় থাকা-খাওয়া সহ যাবতীয় খরচ সাইফুলই বহন করেছিলেন।"

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়