বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০২:২৯

চাঁদপুরকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপত্তা সম্বলিত ও সুশৃঙ্খল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ-সাংবাদিক-জনতার সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

----------- সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা পুলিশ সুপার

আব্দুল্লাহ আল মামুন
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
ক্যাপশন: চাঁদপুর জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান।

চাঁদপুর জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান।

বুধবার (৩ জুন ২০২৬) বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন পুলিশ সুপার।

মতবিনিময় সভার শুরুতে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে। এর মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত হওয়া সম্ভব হয়।

পুলিশ সুপার রবিউল হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চাঁদপুর জেলা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সময়ও জেলার প্রতিটি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের লক্ষ্য চাঁদপুরকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা।”

তিনি বলেন, “জেলার কোথায় কী ঘটছে সে বিষয়ে আমরা সর্বক্ষণ নজরদারি রাখছি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।”

IMG 20260604 WA0005

মাদকবিরোধী অবস্থান সম্পর্কে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “চাঁদপুরে কোনো মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজ ও জাতির শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।”

কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, “বর্তমানে কিশোর গ্যাং সমাজের জন্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কিশোর লেখাপড়া ছেড়ে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে হুমকিস্বরূপপরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।”

এ সময় তিনি একটি আবেগঘন ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, একজন মা তার সন্তানকে অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনতে তাকে কারাগারে রাখার অনুরোধ করেছেন। এমন ঘটনা সমাজের জন্যে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে তিনি জানান, সমাজের সচেতন, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই চাঁদপুরে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালীভাবে চালু করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ সুপার বলেন, “প্রতিটি মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করে। একটি সন্তান জন্মের পর তাকে ঘিরে পরিবারে যে স্বপ্ন তৈরি হয়, তা একটি দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যেতে পারে। কোনোভাবেই এ ধরনের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার নির্দেশনা দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফর উপলক্ষে সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সফরকে ঘিরে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে পথভ্রষ্ট কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় পুলিশ সুপার গত পাঁচ মাসে জেলার বিভিন্ন অপরাধ, মামলা, গ্রেপ্তারআইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যে অপরাধ করবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে না।”

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা, মাদক, যানজট, কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাইসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার সেসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক নোট নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশনা দেন।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খাইরুল কবির বক্তব্য রাখেন। তারা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভাশেষে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “পুলিশ ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে চাঁদপুরকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আধুনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। খুব দ্রুতই জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।"

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়