সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৩

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার

দেশের একমাত্র নারী পিপি চাঁদপুরে, যেটা এখানকার নারীদের গর্বের বিষয়

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট॥
দেশের একমাত্র নারী পিপি চাঁদপুরে, যেটা এখানকার নারীদের গর্বের বিষয়
ক্যাপশন ঃআন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীর সমান প্রতিনিধিত্ব চাই’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রাশাসন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থার আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি’র সহযোগিতায় আলোচনা সভা সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম সরকার।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের আজকের এই দিবসে প্রত্যয় নিতে হবে আমি ভবিষ্যতে কী হবো এবং আমি কী হতে চাই। একজন নারী হিসেবে কোনটা আমার দায়িত্ব ও কোনটা আমার অধিকার সেটা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার সন্তান একজন মানবিক মানুষ হবে, সেটা আপনাকেই তৈরি করতে হবে। তাঁকে লেখাপড়ায় মানুষ করতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে একজন মাত্র নারী পিপি সেটা চাঁদপুরে। এটাও চাঁদপুরের নারীদের একটা গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, ফরিদগঞ্জের রুপসা গ্রামে নারীরা কখনো কোনো নির্বাচনে ভোট দিতো না। এ বছর জেলা প্রশাসন থেকে তাঁদেরকে ভোট দেয়ার জন্যে বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়। ফলে তারা এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়। তিনি বলেন, আমি চাঁদপুরকে হৃদয়ে অনুধাবন করি। সরকার নারী উন্নয়ন ও নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আমি আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা করবো নারীদের উন্নয়নে কাজ করার। নারীদের পরিবর্তনের জন্যে তাঁদের নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে মায়েদের বিকল্প নেই। আমার মা যদি আজ আমাকে পড়ালেখা না করাতেন তাহলে হয়তো আমি আজ জেলা প্রশাসক হতে পারতাম না। তিনি আরও বলেন, নারীদের অনেক ত্যাগ আছে ও থাকবে। নারীদের ত্যাগের কারণেই আজকের এই সুন্দর বাংলাদেশ। তবে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে, খুবই অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যেই শ্লোগান 'সবার আগে বাংলাদেশ' সেটিকে অনুধাবন করে নারীদের আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের সকল নারীর প্রতি তিনি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া নূর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএমএন জামিউল হিকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাছিমা আক্তার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, জেলা জামায়াতের আমীর মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাড. কোহিনুর আক্তার, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর সভাপতি ইঞ্জি. মো. আলমগীর পাটওয়ারী, মহিলা চেম্বার অব কমার্সের সভানেত্রী মুনিরা আক্তার, নারী উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী তানিয়া ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেলের প্রোগ্রাম অফিসার এসএম তানভীর হাসান।

সনাকের সভাপতি সভায় টিআইবির গবেষণা এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নিম্নোক্ত সুপারিশমালা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্যে উত্থাপন করেন--নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় সত্যিকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক কাঠামো মজবুত করাসহ দলীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পুঁজি হিসেবে অর্থ, পেশী, ধর্ম ও পুরুষতান্ত্রিকতার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ তে উন্নীত করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় বহনের বিধান প্রণয়ন করতে হবে, নারী অধিকার রক্ষা ও তদারকির জন্যে একটি স্বতন্ত্র ও স্থায়ী নারী কমিশন গঠন করতে হবে, আইএলও কনভেনশন ১৮৯ ও ১৯০ অনুস্বাক্ষর ও পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০০৯ সালের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশাবলি আইনে পরিণত এবং নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ হালনাগাদ করার পাশাপাশি সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে, অন্য সকল মাধ্যম ও পদ্ধতির পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিদ্বেষী প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা সংশোধন করতে হবে, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধের পূর্বশর্ত হিসেবে নানা অজুহাতে যত্রতত্র হেনস্তা রোধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সকল প্রকার নারী অধিকার হরণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ করে প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, শুদ্ধাচার, জবাবদিহিতা ও সার্বিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে, যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাঙ্গনে বা সমাজে নারীর সমান সুযোগ দেয়ার জন্যে কাজ করছেন তাদের উৎসাহিত, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে, নারীদের জন্যে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল বিনিয়োগ ও বরাদ্দকৃত বাজেটের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যেন প্রকৃতপক্ষে নারীরাই উপকৃত হন। নারীদের জন্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারি ও বেসরকারি উভয়ভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্যে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, সকল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তাসহ একটি নারীবান্ধব অভিযোগ প্রদান ও নিরসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে; নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধে ব্যক্তির রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা ও প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে হবে, নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ ও নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সাধারণ জনগণের ইতিবাচক মানসিকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকর প্রচারণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও দলিতসহ সকল প্রান্তিক নারীদের অধিকার নিশ্চিতে বিশেষায়িত সময়াবদ্ধ পথরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সনাক-চাঁদপুর ইয়েস গ্রুপের সদস্যবৃন্দ ও অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপের সদস্যবৃন্দ।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়