মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ২৩:০১

কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে আইন পরিবর্তনের তাগিদ

অনলাইন ডেস্ক
কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে আইন পরিবর্তনের তাগিদ

চাঁদপুর শহরের বাইতুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে মুছা কাজেম খান নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেছে কিশোর গ্যাং। এ ঘটনায় আক্রান্ত ছাত্রের বাবা চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১ মে ২০২৬) জুমার নামাজের পর। জানা যায়, মুছা কাজেম খান তার বন্ধুদের সাথে জুমার নামাজ পড়ে রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলো। হঠাৎ করে কিশোর গ্যাংয়ের ৮/১০ সদস্য এসে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হামলার ঘটনায় আহত মুছা কাজেম খানের পিতা কাইউম খান ২ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে কাইউম খান বলেন, আমার ছেলের ওপর কিশোর গ্যাং সদস্যরা অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। আমার ছেলের মতো আর কোনো ছেলে যেনো কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হতে না হয়। আমি প্রশাসনের নিকট সঠিক বিচার চাই।

কথা হলো, এ বিচার কি করা যাবে? কেননা দেশে বিদ্যমান আইনের ফাঁকফোকরে মাদক প্রতিরোধে যেমন কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না, তেমনি কিশোর গ্যাং ও তাদের অপরাধ দমনেও। মাদক সংশ্লিষ্টতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রায়শই অনেকের জেল-জরিমানা হয়, আর কোর্টে তুললে সহজে জামিন হয়ে যায়। কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা যদি সত্যিই কিশোর হয়, তাদেরকে তো কোনো আদালতেরই মুখোমুখি হতে হয় না। অভিভাবকদের থানায় ডেকে তাদেরকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এভাবে ছাড়-পাওয়া কিশোর গ্যাং সদস্যরা অপরাধ জগত থেকে খুব কমই ফেরত আসে। ওরা ছোটখাট অপরাধ করতে করতে হাত পাকিয়ে বড়ো ধরনের অপরাধ করে ফেলে। চাঁদপুর শহরে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হাতে যখনতখন হামলার শিকার হয়ে হতাহত হবার মর্মান্তিক ঘটনা রয়েছে বেশ ক’টি। এর মধ্য গত শুক্রবার এসএসসি পরীক্ষার্থীর আহত হবার ঘটনা অন্যতম।

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় এমপির কাছে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে ভোটারদের দাবি নির্বাচনের আগ থেকেই। সেজন্যে তিনি জিরো টলারেন্সে আছেন এবং এদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর হুঁশিয়ারি থাকছেই। থাকলে কী হবে? আইনের কি সে হুঁশিয়ারি বা কঠোরতা আছে? মুচলেকা দিয়ে ছাড়-পাওয়া কিশোর গ্যাং সদস্যরা পুনরায় অপরাধ করছেই। তাদেরকে কঠোর শাস্তি কিংবা অভিভাবকদের শাস্তির আওতায় আনা যায় কিনা সে ব্যাপারে আইন পরিবর্তনের তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে। অতি সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মাদকবিরোধী আইন পরিবর্তনের বিষয়ে বিরোধী দলীয় এক এমপি উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন। আমরা মনে করি কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে স্থানীয় এমপিসহ অনেক এমপিরই সংসদে কথা বলার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন না করলে কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপরিণামদর্শিতায় এসএসসি পরীক্ষার্থী কেন, কোনো বয়সী মানুষই আর নিরাপদ থাকবে না। কিশোর গ্যাং হয়ে যাবে অপ্রতিরোধ্য ও দুর্দমনীয়। এদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়টিও ভাবা দরকার। কারণ, কেবল আইনের কঠোরতা দিয়ে সব হয় না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়