প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৩
শিশুছাত্রীকে যৌন হয়রানি, চার মাস পর পলাতক প্রধান শিক্ষক জামায়াত নেতা কারাগারে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় চার মাস পলাতক থাকার পর আবদুর রহিম নামের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালতের বিচারক। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) যৌন হয়রানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে তাকে নারী ও শিশু আদালতের বিচারক সাদেকুর রহমান কারাগারে পাঠান।
|আরো খবর
উল্লেখ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বিকেল ৪টার দিকে ১০নং রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর গ্রামে প্রধান শিক্ষক তার বাসায় তারই বিদ্যালয়ের শিশু ছাত্রীকে এ ঘটনা ঘটান। পরে রাতেই ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় যৌন নিপীড়নের মামলা করেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম (৪০) উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের চরমোহড়া গ্রামের মৃত সেকান্তর বেপারীর ছেলে এবং ১নং ওয়ার্ডের জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। রায়পুর ইউনিয়নের চালতাতুলি এলাকার বেগম রোকেয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বিবাহিত এবং দ্বিতীয় স্ত্রীসহ দু সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ওইদিন বিকেলে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম তার কক্ষে ওই ছাত্রীসহ তার ভাইকে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। প্রাইভেটের মাঝখানে ভাইকে দোকান থেকে চিপস আনতে পাঠিয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। পরে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে এবং মায়ের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। ঘটনাটি তার মা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে বিচার চান এবং রাতে রায়পুর থানায় প্রধান শিক্ষককে আসামি করে মামলা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহির বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক তার প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন বলে আমরা বেশ কয়েকমাস আগে অভিযোগ পাই। ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে আটকের চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়। প্রধান শিক্ষক আরও কয়েকবার ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করেন। এসব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে মোবাইলেও এভিডেন্স আছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে আমাদের পূর্বের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। আমি স্থানীয় কয়েক লোকের ষড়যন্ত্রের শিকার।’
আবদুর রহিমের স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘আমার স্বামী এ রকম নয়। ৫ বছর ধরে আমি সংসার করছি। তার মধ্যে এ রকম খারাপ কিছু দেখিনি।’
রায়পুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, শুনেছি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক কারাগারে পাঠান। ঘটনার পরের রাতে আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে শিশু ছাত্রীর মা থানায় মামলা করেন। চার্জশীটও দেয়া হয়েছে।








