সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৯

চাঁদপুর পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়ে এক মাসে সেবা নিলেন আট শতাধিক রোগী

শেখ আল মামুন।।
চাঁদপুর পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়ে এক মাসে সেবা নিলেন আট শতাধিক রোগী

দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়ে বেশ ভালোভাবে চলছে চাঁদপুর পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়। চাঁদপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরানবাজার বাকালী পট্টিতে অবস্থিত প্রায় ১২০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়। পুনরায় চালুর পর প্রথম মাসেই এখানে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন আট শতাধিক রোগী। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। কোমরব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের হস্তক্ষেপে এই চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে চাঁদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, পুনঃনির্মাণ ও আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন করে।

গত ১২ আগস্ট ২০২৬ সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক চিকিৎসালয়টির পুনরায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টায় এই দাতব্য চিকিৎসালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র পাঁচ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঔষুধও পাচ্ছেন বিনামূল্যে। স্বাস্থ্য সহকারী বিপ্লব রায় ও শাহাদাত হোসেন রোগীদের নাম-ঠিকানা নিবন্ধন, টিকিট প্রদান ও ওষুধ বিতরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্বাস্থ্য সহকারী বিপ্লব রায় জানান, গত সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে এখানে আট শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী এবং বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ ও শিশু।

মূলত পৌরসভার নাগরিকদের এখানে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়। প্রতি রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার একজন চিকিৎসক রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেন। পুরানবাজার এলাকার রোগীরাই এখানে বেশি চিকিৎসা নিতে আসেন।

দীর্ঘদিন ধরে কোমরব্যথায় ভুগছেন ৫৫ বছর বয়সী আছিয়া বেগম। এই দাতব্য চিকিৎসালয় থেকে ব্যবস্থাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুর রহিম (৬০) চিকিৎসালয়টি নতুন করে চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

চিকিৎসালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. তানজিম হোসেন (এমবিবিএস, সিসিডি, পিজিটি) জানান, এখানে মূলত প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে কোমরব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। চিকিৎসালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে রোগীরা পুনরায় এই চিকিৎসালয় থেকে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ নিতে পারেন। তবে কিছু জটিল রোগের ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে তা কিনতে হয়।

তিনি আরও জানান, পৌর প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জটিল রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এছাড়া কোমরব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা, নিয়মিত যত্ন নেয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রায় ১২০ বছরের পুরোনো এই দাতব্য চিকিৎসালয় পুনরায় চালু হওয়ায় পুরানবাজারের অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা এবং বিনামূল্যে ঔষধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়