প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪১
হাইমচরের আলগী বাজারে নেই গণশৌচাগার
রোগী সেজে হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করতে হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের

হাইমচর উপজেলা সদরের প্রধান ও বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র আলগী বাজার। প্রতিদিন সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুখরিত থাকে এই বাজার। তবে এতো বড় এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রে নেই কোনো গণশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট)। ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও বিপাকে পড়ছেন বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ।
|আরো খবর
উপায় না পেয়ে সংকোচ কাটিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে পাশের ‘হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’-এর টয়লেট। অগত্যা অনেককে রোগী কিংবা রোগীর স্বজন সেজে হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। যদিও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে হাসপাতালের সেই টয়লেটগুলোও সিংহভাগ সময় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি গণশৌচাগার থাকলেও দূরত্ব বেশি হওয়ায় বাজারের লোকজনের পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমনকি বাজারের একমাত্র মসজিদের টয়লেটও শুধু নামাজের সময় ছাড়া বাকি সময় বন্ধ থাকে। এর ফলে অনেকেই খোলা ড্রেন কিংবা রাস্তার পাশেই প্রাকৃতিক কাজ সারতে বাধ্য হচ্ছেন, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
আলগী বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারে জরুরি কাজে এসে প্রস্রাব-পায়খানার চাপ দিলে বিপদে পড়তে হয়। বাড়ি ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না, নতুবা বাধ্য হয়ে হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। অতি দ্রুত আলগী বাজারে অন্তত একটি আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুন নবী মাসুম বলেন, “বাজারে গণশৌচাগার না থাকায় ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ আমাদের হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করেন। মানবিক কারণে আমাদের কর্মীরা কাউকেই বাধা দেন না। তবে এত বড় একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে গণশৌচাগার না থাকা সত্যি দুঃখজনক। এতে হাসপাতালের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত বাজারে শৌচাগার নির্মাণ করা একান্ত জরুরি।”
বিষয়টি নিয়ে হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক বলেন, “আলগী বাজার অত্যন্ত ব্যস্ত একটি জায়গা হলেও জায়গা সংকটের কারণে দীর্ঘ দিনেও এখানে গণশৌচাগার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বাজারের কোনো জমি খাস বা সরকারি নয়, সবই ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং মূল্য অনেক বেশি। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ইতোমধ্যে বরাদ্দপত্র দিয়েছেন, তবে জায়গা না থাকায় সরকারি বরাদ্দকৃত শৌচাগারটি বাজারের একটু দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় স্থাপন করতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বাজারে সরকারি বা উপযোগী কোনো জায়গার ব্যবস্থা করতে। জায়গা পাওয়া গেলেই নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। একই সাথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ রক্ষায় বাজারের বড় ব্যবসায়ীদের নিজস্ব শৌচাগার গড়ে তোলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








