প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩২
ট্রান্সফরমার চুরি ও মামলা না নেওয়ার খেসারত
আদালতের কড়া আদেশে মতলব উত্তরের ওসিকে অপসারণ

ট্রান্সফরমার চুরি রোধে চরম ব্যর্থতা ও চুরির ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে मतলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে অপসারিত করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কড়া পর্যবেক্ষণ ও আদেশের মুখে তাঁকে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়।
|আরো খবর
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক জানান, আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ বদলি সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত ট্রান্সফরমার চুরির মতো গুরুতর ও আমলযোগ্য অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার দায়ে ওসি কামরুল হাসানকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তা তার সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ করা এবং আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা আদালতকে অবহিত করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেন। আদেশে আরও বলা হয়, মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া পল্লী বিদ্যুতের ২৩টি চুরির আবেদনকে পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরাসরি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার নেপথ্য ও ওসির অজুহাত খণ্ডন:
আদালত সূত্র জানায়, চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার গত সাড়ে তিন মাসে এলাকায় ২৫টি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথক পৃথক এজাহারের আবেদন করেন। তবে ওসি মাত্র দুটি মামলা নিয়ে বাকি ২৩টি আবেদন ঝুলিয়ে রাখেন। আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালে ওসি দাবি করেন, আবেদনের মধ্যে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় নাকি মামলা করা সম্ভব হয়নি। তবে নথি পর্যালোচনা করে আদালত দেখতে পান, ওসির দেওয়া জবাব ভিত্তিহীন। পল্লী বিদ্যুতের দেওয়া প্রতিটি আবেদনেই চুরির সঠিক স্থান, তারিখ ও খোয়া যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর সুনির্দিষ্ট পিন বা সিরিয়াল নম্বর স্পষ্ট ছিল।
আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও আইনের প্রয়োগ:
পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, গত ১ মে থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে সাড়ে তিন মাসে ২৫টি চুরির আবেদন করা হলেও আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবেদন চাওয়ার আগে কোনো পদক্ষেপই নেননি ওসি কামরুল। এমনকি পরবর্তীতে কারণ দর্শানো ছাড়া অবশিষ্ট ২৩টি জিডি বা এজাহার আমলে নেওয়ার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখাননি তিনি।
আদালতের মতে, বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পত্তি চুরির তথ্য পাওয়ার পরও এফআইআর না করা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার শামিল। ওসির এমন নির্লিপ্ততা ও নিষ্ক্রিয়তা মূলত অপরাধীদের উৎসাহিত করেছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করে জনরোষ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করেছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ওসি কামরুল হাসান ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’-এর ২৪৩ ও ২৪৪ বিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) ১৫৪ নম্বর ধারা স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। তার এ ধরনের বেআইনি নিষ্ক্রিয়তা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ২১৭ ধারা এবং দ্য পুলিশ অ্যাক্টের (১৮৬১) ২৯ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
আদালতের সুনির্দিষ্ট বার্তার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং দ্রুততম সময়ে তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








