প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ০০:০০
মানিক দাসের কবিতা

অচেনা
সবই কেন জানি
আজ অচেনা লাগে
জন্ম জননিকেও
চিনতে পারি না।
ঘরে মন বসে না
কী যেন নেই নেই
গৃহলক্ষ্মী গৃহে নেই
তাই তো চিনতে পারি না।
মা ডাকটাও আজ অচেনা
কত দিন গত হলো
মা এ গৃহ ছেরেছে
সে যে কোথায় আছে জানি না।
আজ সবই যেন অচেনা
গৃহটা করছে খা খা
শূণ্যতা কী যেন গৃহে
সে তো আমার মা।
আর কারো খাবার খাবো না
কে জানতো সভ্য সমাজে
কিছু অসভ্য বাস করে
কে জানতো তাফাজ্জলের জীবনটা
এভাবে শেষ হবে।
বরগুনার পাথরঘাটার
মেধাবী শিক্ষার্থী তোফাজ্জল
কোনো না কোনো কারণে
হয়েছে সে মানসিক রোগী।
কী করে যে চলে এলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সার সলিমুল্যা হলে
সেখানেই চুরি অপবাদে গণপিটুনি।
অসভ্যের দল মারে আবার
ভাত খেতে দেয়, তোফাজ্জল
খাওয়ার পাগল, খাবার শেষে
তার প্রাণটা কেড়ে নেয়।
খুনিরা জানতো না এ ছেলে মেধাবী
পিতৃ, মাতৃ আর ত্রাতাহীন সে
প্রেয়সী আজ অন্যের
সব মিলিয়ে তোফাজ্জল মানসিকহীন।
একটা মোবাইল কতইবা দাম
মিথ্যা অপবাদে মেধাবী হয় চোর
সার সলিমুল্যা হলে নেমে এলো
তোফাজ্জলের জীবনে শেষ অন্ধকার।
আজ সে গ্রামের বাড়ি
পিতা-মাতা ভাইয়ের শয্যা পাশে
চির নিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে
কেউ ডাকবে না তোফাজ্জল আয় খেতে আয় বলে।
তুমি আমি
শরতের শুভ্রতায়
চারদিকে কাশফুল বাতাসে দোলে
সুন্দর্যের অপার লীলা
সবার মনে দোল খেলে।
তুমি আমি এসো
হাতে হাত রেখে স্বপ্নের সাগরে
ডুবে যাই আপন মনে
তুমি আর আমি কত চেনা।
সেই যে কবে কোনো অজানায়
দেখা আর কথা দুজনার
সে স্মৃতি হয়তো ভুলে গেছ তুমি
আমি তো ভুলিনি শরতের শুভ্রতার কথা।
দুর্গোপূজোয় মন্দিরে
অঞ্জলির ভিড়ে তুমি
ত্রিনয়নির পদতল আশীর্বাদ গ্রহণে
সুন্দর এক অম্বরী পরে বসেছিলে।
শারদ পাঞ্জাবিতে
তুমি চেয়ে ছিলে হাজারো ভিড়ে
মিটিমিটি হাসি মুখে
চোখের ইশারায় ডেকে ছিলে তুমি-আমি।