প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০
আমার মরণোত্তর বিচার চাই

এই পৃথিবীর বুকে আমি এক অনাহুত, অবাঞ্চিত
খড়-কুটার মতো, কিংবা ভাবতে পারো অশ্বথু বৃক্ষে
পজিয়ে উঠা এক পরগাছা।
আমি তারই সুধারস পান করে করে
নিজেকে করেছি অনেক হৃষ্ট-পুষ্ট,
বিনিময়ে তাকে আমি কিছুই দেইনি।
উপরন্তু- কুঁড়ের মতো বসে বসে খেয়ে
তার কাছে হয়েছি অনেক বড় ঋণী।
কিন্তু আমি তার কিছুই শোধ করতে পারিনি কোনদিনই।
আমার জীবতকালে আমার এই ঋণ যদি
আমি শোধ করতে না পারি
হে, আমার উত্তর প্রজন্মের পতাকাবাহীরা
আমার এ ঋণের দায়ে তোমরা করিয়ো
আমার মরণোত্তর বিচার।
তোমাদের কাছে আমি জানিয়ে যাই-
আমার আরো আরো অনেক ঋণ আছে
এই আলো-বাতাসের কাছে
আমার অনেক ঋণ
এই সুনিল আকাশের কাছে
আমার অনেক ঋণ
এই মেঘ-বৃষ্টির কাছে আমার অনেক ঋণ
এই ঘাস, লতাণ্ডপাতার কাছে
আমার অনেক ঋণ
এই নদীর কাছে আমার অনেক ঋণ
নারীর কাছে আমার অনেক ঋণ
এই শস্যভূমির কাছে- আমার অনেক ঋণ
এই মেঠোপথের কাছে
আমার অনেক ঋণ
এই রুপোলি জোৎস্নার কাছে
আমার অনেক ঋণ
এই সোনালি রোদের কাছে আমার অনেক ঋণ
এই হলুদ সন্ধ্যার কাছে আমার অনেক ঋণ
এই তারা ভরা রাতের কাছে আমার অনেক ঋণ
এই শিশিরে ভেজা ভোরের কাছে আমার অনেক ঋণ
এই হিমণ্ডকূয়াশার কাছে আমার অনেক ঋণ
আর মানুষের কাছে আছে আমার
অনেক অনেক অপরিশোধিত ঋণ
আমি তা শোধ করিনি কোনদিন।
তোমরা করিয়ো আমার মরনোত্তর বিচার।
মাতৃঋণ, পিতৃঋণও
আমি বাড়িয়েছি দিন দিন,
শোধ করিনি ভাইয়ের ঋণও।
আরো আছে, পাড়া-প্রতিবেশি,
আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের ঋণ
আমি তা শোধ করিনি কোনদিন।
তা নিয়ে তোমরা পত্রিকাতে লেখো
প্রবন্ধ-ফিচার, প্রতিবাদী কবিতা, সনেট।
তোমরা যদি মিছিলে মিছিলে
স্লোগানে স্লোগানে
রাজপথ করো প্রকম্পিত
আমি হবো না তাতে স্তম্ভিত
তোমরা করিয়ো আমার মরণোত্তর বিচার।
যদিও আমার ছিলো না কিছুই দেবার
তবুও যদি কেউ কিছু আশা করে থাকো
না পাওয়ার বেদনায়
তোমরা করিয়ো আমার মরণোত্তর বিচার।
ফাঁসির দাবি নিয়ে মানববন্ধন করিয়ো
টানিয়ো ব্যানার, পোস্টার
হাতে হাতে বিলিয়ো হ্যান্ডবিল, লিফলেট।
আমি যদিও ঋণের দায়ে জর্জরিত
তবুও অভিযোগ করবো না কোনো,
আমি ধরেই নেবো এটাই প্রাপ্য আমার
তোমরা করিয়ো আমার মরণোত্তর বিচার।