শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০

হুমায়ূন আহমেদের বিশ্বাস-অবিশ্বাস

সোহেল নওরোজ
হুমায়ূন আহমেদের বিশ্বাস-অবিশ্বাস

‘কেহ বিশ্বাস করে, কেহ করে না। যে বিশ্বাস করে সেও সত্য-মিথ্যা যাচাই করে না, যে অবিশ্বাস করে সেও না’- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এভাবেই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব দেখেছিলেন। মানুষের অবচেতন মন যেটাকে আমরা ‘মস্তিষ্কের খেলা’ বলি, সেটিই বোধহয় ঠিক করে দেয় বিশ্বাসের গতিপথ। একজন মানুষ কী বিশ্বাস করে আর কী অবিশ্বাস করে তাতে সাধারণ মানুষের কিছু যাওয়া-আসার কথা নয়। একজন ব্যক্তি তিনি আস্তিক না নাস্তিক সে ব্যাপারে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু লোকটা হুমায়ূন আহমেদ বলেই তার বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিয়ে কথা হয়, আলোচনা হয় বিস্তর। যারা নাস্তিক তারা যুক্তিতর্ক দিয়ে প্রমাণ করতে চান তিনি নাস্তিক ছিলেন, আর যারা আস্তিক তারাও বিভিন্নভাবে তাকে আস্তিক সাব্যস্ত করতে সচেষ্ট হন। স্রষ্টা ছাড়াও প্রাকৃতিক নানা বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল। সেসবের কোনোটা তিনি বিশ্বাস করতেন, কোনোটাকে দেখতেন ঠাট্টাচ্ছলে। সেসব বিষষে হুমায়ূনের ভাবনা জানার প্রয়াস পাওয়া যাক।

স্রষ্টার অস্তিত্ব

হুমায়ূন আহমেদ স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন। তার একাধিক লেখায় এবং কথোপকথনে বিষয়টা বারবারই উঠে এসেছে। তার জীবনের শেষ দিককার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি স্টিফেন হকিংয়ের একটা লেখা পড়লাম। প্রকৃতির মধ্যে কিছু নিদর্শন তো আছেই। তোমাকে একটা যুক্তি দিই, শোনো। এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় যুক্তি। তুমি মঙ্গল গ্রহে গিয়েছো। সেখানে গিয়ে তুমি দেখলে পাহাড়, পর্বত ও পাথর। পাথর দেখে তুমি বলবে, বহুকাল থেকে, সেই আদ্যিকাল থেকে পাথরগুলো এভাবেই আছে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তুমি দেখতে পেলে একটা নাইকন ক্যামেরা। তুমি সেটা হাতে নেবে। তখন তোমাকে বলতেই হবে, এর একজন স্রষ্টা আছে। ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে তুমি এ কথা ভাবতে পারবে না যে, শূন্য থেকে এটা আপনা-আপনি এসে হাজির হয়েছে। কারণ, এটা একটা জটিল যন্ত্র। এবার, আরেকটু এগিয়ে গেলে। কোত্থেকে একটা খরগোশ বেরিয়ে এসে তোমার দিকে তাকাল। নাইকন ক্যামেরা কী করে? ছবি তোলে। খরগোশ কী করে? অনেক কাজই করে। খরগোশের একটা কাজ হলো দেখা। এই খরগোশের চোখ নাইকন ক্যামেরার চেয়ে হাজার গুণ বেশি জটিল। নাইকন ক্যামেরাটা দেখে তোমার যদি মনে হয় যে, এর একটা নির্মাতা থাকা দরকার, তাহলে খরগোশের বেলায় এটা তোমার মনে হবে না কেন? আমার প্রথম যুক্তি যদি গ্রহণ করো, আমার দ্বিতীয় যুক্তিটাও তোমাকে গ্রহণ করতে হবে। মানুষের সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ে একটা বৈজ্ঞানিক যুক্তি ছিল এ রকম। অণু-পরমাণুতে ধাক্কাধাক্কির ফলে একটা জটিল অণুর জন্ম হয়েছে। একসময় এটা এত দূর জটিল হয়ে উঠছে, সেটা একেবারে নিজের মতো আরেকটা জিনিস তৈরি করতে শুরু করেছে। তারপর তৈরি হলো মানুষ। অসম্ভব ধীমান একটি প্রাণী। একটা গোলাপ ফুল দেখে যে মানুষ তারিফ করতে পারে, একটা পরম শৃঙ্খলা ছাড়া শুধু ধাক্কাধাক্কি করে কি এটা সম্ভব হতে পারে? এবং এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে অণু-পরমাণুর ধাক্কাধাক্কির ফলে আমরা গোলাপ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারি? এই পৃথিবীর সবকিছু পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র মেনে চলে। প্রোটন হবে ইলেকট্রনের চেয়ে ১ হাজার ৮৩৬ গুণ বড়। সমস্ত তত্ত্ব, সংখ্যা ধ্রুব। এই ধ্রুবত্ব কে নির্ধারণ করেছে?

বিজ্ঞান কোনো বিষয় সম্পর্কে হুট করেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না। তার একটা বিশেষ পদ্ধতি আছে। কিন্তু এই পদ্ধতি তো শুরু থেকে ছিল না। যেমন- অ্যারিস্টটল বলছিলেন, মানুষের মস্তিষ্কের কাজ হলো শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা। কথাটা অ্যারিস্টটল বলেছিলেন বলেই আমরা এক হাজার বছর পিছিয়ে গেছি। এখন বিজ্ঞান অনেক অদ্ভুত কথা বলছে। যেমন- মানুষের শরীরের মধ্যে যে ডিএনএ থাকে, তার মৃত্যু নেই।

তাই আমি মনে করি, আমরা এখনো খুব অল্প বিষয়ই জানতে পেরেছি। একজন পদার্থবিজ্ঞানীর পক্ষে রসায়ন সম্পর্কে বেশি কিছু জানা সম্ভব না। জ্ঞানের পরিধি অনেক অনেক বড়। যুগে যুগে যেসব ধর্মপ্রচারক এসেছেন, তারা কিন্তু একটা সামগ্রিক ধারণা রাখতেন জগৎ বিষয়ে। আল্লাহ তাদের কাছে সব সময় সরাসরি জ্ঞান দেন নাই। তারা সব সময় যে সরাসরি ওহি পেয়েছেন তা তো না? জিবরাইল কি সব সময় সশরীরে এসে ওহি পৌঁছে দিয়েছেন? না। অনেক সময় শব্দের মাধ্যমে, অনেক সময় আলোর মাধ্যমেও ওহি পাঠানোর ব্যপারটা ঘটেছে। এ কারণে আমার মনে হয়, মানুষের ক্ষুদ্র জ্ঞানে সৃষ্টিকর্তাকে পুরোপুরি কখনো জানা সম্ভব না।

সৃষ্টিকর্তা মানুষের মতো এটা ধরে নিয়ে কিন্তু আমি চিন্তা করছি না। আমি চিন্তা করছি এমন একটা অস্তিত্ব নিয়ে, যে সর্বব্যাপী। তাকে আমরা আমাদের ক্ষুদ্র কল্পনাশক্তি দিয়ে কল্পনা করতে পারছি না। তিনি আমাদের কল্পনাসীমার বাইরে। অনেক সুরায় নানাভাবে এসেছে এ প্রসঙ্গ। সুরা এখলাসও এ বিষয়েই।

কিন্তু আমি সৃষ্টিকর্তাকে জানতে চাই। আমার নিজের জীবনে নানা ঘটনা বিভিন্ন সময়ে আমাকে ভাবিয়েছে।

মৃত্যু ও মৃত্যু-পরবর্তী জগৎ

মৃত্যু নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ গভীর ভাবনায় আচ্ছন্ন হতেন। মৃত্যুকে অস্বীকার করার দুঃসাহস বা প্রবণতা তার ভেতরে লক্ষণীয় ছিল না। যদিও তিনি মানুষের অমরত্ব নিয়ে ভাবতেন, তার লেখাতেও সেসব কথা উঠে এসেছে; তবে সেখানে মোটা দাগে তিনি বিজ্ঞানের আশ্চর্যযাত্রাকে দেখিয়েছেন। তার যে অনেক সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিক্রিয়া রয়েছে সে কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন।

হুমায়ূন আহমেদের ভাষায়, মৃত্যুচিন্তা খুব অদ্ভুত একটা চিন্তা। যখনই মৃত্যুর চিন্তা মাথায় আসে প্রবল এক ঘোরের মধ্যে চলে যাই আমি। জগৎটাকে খুব বেশি রহস্যময় মনে হয় তখন। সবাই থাকবে যে যার মতো, শুধু আমিই থাকব না! আমার শূন্যতা হয়তো কিছুটা প্রভাব ফেলবে আমার কাছের মানুষগুলোর মনে, হয়তো তারা কয়েক দিন আমাকে নিয়ে ভাববে। কিছুদিন পর আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে মুছে যাবে আমার সমস্ত অস্তিত্ব।

গত রাতে একটা বিশেষ ঘটনার কারণে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। প্রচণ্ড অশান্তিতে কেটেছে পুরোটা রাত। শেষ রাতের দিকে হুট করে মাথায় মৃত্যুচিন্তা এসে ভর করল। মুহূর্তেই সমস্ত অশান্তি কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল। অন্য এক অনুভূতি গ্রাস করে নিল আমার সমস্ত অস্তিত্ব। এই অনুভূতি অন্য কোনো জগতের। এই জগতের কোনো অনুভূতির সঙ্গেই মিল নেই এর।

মৃত্যুর পর সামাজিক রীতি অনুযায়ী কবর দেওয়া হবে আমার দেহটাকে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে থাকবে আমার প্রাণহীন দেহটা। বায়োলজিক্যাল সিস্টেম অনুযায়ী আমার প্রত্যেকটা মাংসপি- মিশে যাবে মাটির সঙ্গে, কিছুদিন শুধু আমার কঙ্কালটাই শুয়ে থাকবে খালি মাটিতে। একসময় সেটাও নিঃশেষ হয়ে যাবে। কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না আমার। রাস্তার কুকুর থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত সবাইকে একই সিস্টেমের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। পার্থিব কোনো ক্ষমতাই আমার এই সিস্টেম ঠেকাতে পারবে না। কোনো কিছুই বন্ধ করতে পারবে না প্রকৃতির এই অদ্ভুত চক্র। ...সবাইকে মৃত্যু নামক রহস্যময় এক সিস্টেমের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই সিস্টেমে কোনো ক্ষমতা খাটে না। এই সিস্টেম খুব বেশি নির্ভুল, এই সিস্টেম নিজেই মহা শক্তিশালী।

মৃত্যু-পরবর্তী জগৎ নিয়েও হুমায়ূনের সব সময় একটা প্রবল আগ্রহ ছিল। একবার তিনি চেষ্টা করলেন প্রার্থনা করার। প্রতিদিন একটা সময়ে বসতেন। চেষ্টা করতেন জানার যে পৃথিবী থেকে বিদায় মুহূর্তটা কেমন হবে। দিনের পর দিন এই কাজ চলল। এরপর এক দিন তিনি একটি স্বপ্ন দেখলেন। কিংবা হুমায়ূনের ভাষ্যে, স্বপ্নটি তাকে দেখানো হলো। অথবা দিনের পর দিন একই ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করার ফলে তার মস্তিষ্ক সেটি তৈরি করল।

হুমায়ূনের দেখা স্বপ্নটি ছিল এমন- বিশাল একটা হাওর। হাওরের মধ্যে পানি, পানি আর পানি। কলাগাছের মতো একটা জিনিস ধরে তিনি ভাসছেন। পানি অল্প ঠাণ্ডা। কলাগাছের মতো জিনিসটাকে তার মনে হচ্ছে একটা যান, যেটা তাকে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুদূর গিয়ে তার মনে হলো, ‘মাই গড! এত আনন্দের পৃথিবী ছেড়ে আমি চলে যাচ্ছি!’ সঙ্গে সঙ্গে তার যাত্রার ইতি ঘটল। আবার ফিরে এলেন তিনি। ফিরে এসে দেখলেন, তার বাড়িঘর সবকিছু আগের মতোই আছে। তখন ফের তার মনে হলো, এবার যাওয়া যাক। তিনি আবার যাত্রা শুরু করলেন। অনেক দূর গিয়ে আবার মনে হলো, ‘ও মাই গড! সব ফেলে আমি কোথায় যাচ্ছি!’ আবার তিনি ফিরে এলেন। তারপর আবার মনে হলো, ‘এই তো সব। আর কী?’ এরপর যানটা একটা অকল্পনীয় গতিতে ছুটতে শুরু করল। কোনদিকে যাচ্ছেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন তিনি। দূরে দেখতে পেলেন ছোট্ট একটা আলো।

এটাই হচ্ছে আমার অভিজ্ঞতা। হতে পারে, আমার মস্তিষ্ক এটা তৈরি করেছে। আবার না-ও হতে পারে।

ভূত ও অলৌকিকতা

হুমায়ূন আহমেদ নিজে ভূত বিশ্বাস করতেন না, তবে চারপাশের মানুষদের ভূতের ভয় দেখাতে পছন্দ করতেন। মানুষকে ভড়কে দিয়ে বিমলানন্দ উপভোগ করতেন। ঠিক যেন শিশু। ভূতকে বাস্তবে রূপ দিতে তার আয়োজনও ছিল বেশ। নতুন অতিথিদের সাজানো ভূতের ভয় দেখিয়ে মজা পেতেন, হাসিঠাট্টা করতেন। তিনি লেখেন, গভীর রাতে যদি ছায়া ছায়া কোনো মূর্তি এসে বলে- আমি ভূত। তবু আমি বিশ্বাস করব না। ভাবব হেলুসিনেশন। দৃষ্টিবিভ্রম। তবু ভাবতে ভালো লাগে আমাদের মতো এরাও চারপাশে আছে। এদের নিয়ে লেখা গা ছমছমে গল্প পড়তে ভালো লাগে, ভূতের গল্প লিখতে ভালো লাগে।

মিসির আলী সাহেবকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি ভূত বিশ্বাস করেন? তিনি তৎক্ষণাৎ বলবেন, না, যুক্তিতে ভূত আসে না।

হিমুকে এ প্রশ্ন করলে হিমু বলবে, অবশ্যই ভূত বিশ্বাস করি। যুক্তিই শেষ কথা নয়, জগতের অনেক কিছুই যুক্তির বাইরে।

ভূত বিশ্বাস না করলেও ‘যুক্তির বাইরের’ এসব বিষয় তিনি অস্বীকার করতেন না। হুমায়ূন আহমেদ তার লেখায় নানান অলৌকিক ঘটনার বয়ান করেছেন। প্রকৃতি সব সময় সমীকরণ-যুক্তি মেনে চলে না। অনেককেই অনেক আজব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। এসবকে তারা বলে ভৌতিক বিষয়। তিনিও অলৌকিক বা ভৌতিক বিষয়কে বারবার তার লেখার জীব্য করেছেন।

নিয়তিতে বিশ্বাস

নিয়তি বা ভাগ্যকে অস্বীকার করার ব্যাপার হুমায়ূন আহমেদের ভেতরে ছিল না। তিনি তার বিশ্বাসটাকেই সৃষ্ট চরিত্র দিয়ে বলিয়েছেন- মানুষ সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু নিয়তি বদলাতে পারে না।

নিয়তিতে বিশ্বাসী হলেও সবকিছু নিয়তির হাতে ছেড়ে দিয়ে বসে থাকার মানুষ তিনি ছিলেন না। নিজে বিজ্ঞানের ছাত্র, পরে বিজ্ঞানের শিক্ষক হওয়ার কারণে পুরোপুরি বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। অলৌকিক ঘটনাকেও বিজ্ঞানের ছাঁচে ফেলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতেন। তার এ প্রবণতা থেকেই মূলত মিসির আলি চরিত্রের সৃষ্টি। হুমায়ূনও মিসির আলিকে নিজের ভেতরে দেখতে পেতেন, যিনি যুক্ত দিয়ে ঘটনাকে বিশ্লেষণ করতেন। নিয়তিতে বিশ্বাসের কারণেই তিনি আশাবাদী হয়েও মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়েছেন। বারবার মৃত্যুকে স্মরণ করেছেন। কারণ তিনি জানতেন বিজ্ঞানের ক্ষমতা সীমিত। প্রকৃতির (পড়ুন স্রষ্টার) ক্ষমতা অসীম। মানুষ বিজ্ঞানের সেই সীমিত ক্ষমতার ব্যবহার করে চলেছে। কিন্তু নিয়তিকে জয় করার ক্ষমতা মানুষের নেই। এ কারণেই মৃত্যুর মতো নির্ধারিত বিষয় এসে তাকে নিয়ে গেল অন্য এক জগতে; যেখানে তিনি একা! হিমু, মিসির আলি, শুভ্র- কেউ নেই!

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়