প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০০:০০
থেকো আমার সাথে

পহেলা ফাল্গুন ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে লাবণ্য ও অমিতের আমেজ-উত্তেজনা ও প্রস্তুতির কমতি নেই। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ বসন্ত এটি। দিন টাকে উদযাপন করতে লাবণ্য নীল রঙের শাড়ি পরেছে, অমিতও কিঞ্চিৎ নীল রঙের একটা পাঞ্জাবি পরেছে; তবে পুরোপুরি নীল রং বললে ভুল হবে!
দুই জন পাশাপাশি ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া শোভিত রাস্তায় হেঁটে চলেছে। প্রথম দর্শনে দেখলে মনে হবে হাত দুটো বিনা সুতায় গেঁথে আছে; সময় যত গড়াচ্ছে তাদের হাঁটার গতি তত কমে আসছে! এক পর্যায়ে লাবণ্য নজরুল ভাস্কর্যের পাদদেশে বসে খোশ গল্প করার প্রস্তাব দেয়, প্রেয়সীর প্রস্তাব কী অমিত প্রত্যাখ্যান করতে পারে? দুজন পাশাপাশি বসে আছে আর আকাশপানে আনমনা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, দেখলে মনে হবে শত জনমের বিরহ তাদের ঘিরে রেখেছে।
হঠাৎ লাবণ্যের চোখে পড়ল এক জোড়া শালিক বকুলের ডালে বসে আছে। সে অমিতকে বলল, ‘দেখো শালিক দুটো কত সুন্দরভাবে নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা বিনিময় করছে। ঈশ! তুমি আমি যদি পুরোটা সময় এভাবে কাটিয়ে দিতে পারতাম!’
পরক্ষণেই অমিত বলল, ‘একদিন সবই হবে, শুধু সময়ের অপেক্ষা।’
সাথে সাথেই লাবণ্য বলে ওঠে, ‘সামনের বসন্তে এভাবে তোমার পাশাপাশি বসতে পারব তো? আজকের মতো কোপায় ফুল গেঁথে দিবে তো?’
এবার অমিত কিছুটা চুপচাপ বসে আছে, অমিত জানে না সামনের দিনগুলোতে কি হতে চলছে।
লাবণ্যকে হারানোর ভয় তাকে সব সময় তাড়া করে বেড়ায়! কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ থাকার পর অমিত বলল, ‘চলো চন্দ্রবিন্দু ক্যাফেতে যাই, এক কাপ চায়ের চুমুকে তোমার সৌন্দর্য অবলোকন করব।’
চন্দ্রবিন্দু ক্যাফেতে বসে দুজনে চা পান করছে। অমিত চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে আর অবলীলায় লাবণ্যের দিকে তাকিয়ে আছে। পলকহীন চাহনিতে প্রেয়সীর সৌন্দর্য অবলোকন করছে, মাঝেমধ্যে চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভুলে যাচ্ছে।
হঠাৎ লাবণ্য লক্ষ্য করল অমিতের চোখের কিনারা বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে! লাবণ্য জিজ্ঞেস করল, ‘কি হয়েছে অমিত?’
এবার অমিত কিছুটা কাঁপা গলায় বলল, ‘তুমি আমার জীবনে আছো তো? বাকিটা জীবন তোমার এই অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারব তো?’
লাবণ্য কিছুটা অভয় দিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি সব সময় তোমার পাশে আছি। তুমি শুধু বাকিটা জীবন আমার সাথে থেকো।’ এই বলে লাবণ্য শক্ত করে অমিতের হাতটা চেপে ধরল। দুজনেই কিছুটা চুপচাপ থাকার পর অমিত বলল, ‘অনেকটা রাত হয়েছে। চলো তোমাকে হলে দিয়ে আসি। এই বলে দুজনে হল সম্মুখে হাঁটতে শুরু করল। হল গেটে এসে দুজন দুজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।’
‘আর কিছু চাই না, এক একবার তুমি শুধু আমার পাশে থাইকো; দাসী ভাবিয়া একবার এমন বসন্তে দেখা দিও, কেবল চক্ষু পরিতৃপ্ত করিব।’ এই কথা বলে লাবণ্য হলে প্রস্থান করল।