প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০০:০০
দেবদাস কর্মকার কবিতা

উদাসী গৃহে
ওখানে যাওয়া হয় নাকো যেন আর
কতো চিত্রাবলী, নদীর আসঙ্গ সুর
ছায়ার শরীরে তুমি আছো কিবা নেই
ছাপ ছাপ ধূপছায়া, গূঢ় আভাসিত পথে
ক্ষণিক দাঁড়াই যদি পাড়ভাঙা কূলে, কাদা মাটি ঘাস
তীর ঘেঁষা হাওয়া ছুঁয়ে যাওয়া চুলে।
নিজেকে আড়াল করে যদি ডাকো একবার
আমার ভিতরে জাগে সংশয়-ঘুণ
আষাঢ় বিলাসী মন যায় ছুটে চাঁদমারি মাঠে
সেখানেও নদী বকের ডানার মতো সাদা হয়ে আসে
বলেশ্বর কতো নিরিবিলি বেশে, কী সৌন্দর্যের ছায়া তার।
কোনো একদিন বৃষ্টিতে ভিজে কোনো এক সবল তরুণ
অনিবার্য দাঁড়ায় যেন লাজুক আঙ্গিকে
শরীরে তখোন তার লঘু গন্ধ স্বেদ
সুগন্ধি বালিকা, বুকের ভিতরে অবুঝ কষ্ট ক্ষণে ক্ষণে।
তবুও শিকড়-উদাসী গৃহে যদি একবার
মেঘ ফুঁড়ে কথা কাঞ্চী মুখে, জেগে উঠে প্রেমবোধ
দূরতায় একদিন খোঁপা খুলে গিয়েছিলো হেঁটে
বৃদ্ধ মহা নিমের নিচ থেকে চলে যায় মেঠো পথ
বুকের ভিতরে চিত্রাবলী মেঘের রেখার মতো
জানিনি সত্য তুমি আছো কিবা নেই
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যেতে যেতে ফিরি পথ শেষে।
১৫ জুন ২০২৪, ২০২৪, ঢাকা, ১ আষাঢ় ১৪৩১, ১৪৩১, বর্ষাকাল।
নিরুদ্দেশ ইচ্ছে
নিরুদ্দেশ হওয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো
কিন্তু হওয়া হলো না
সুতো ছিঁড়ে হাওয়ায় ঘুড়ি উড়ে গেলে
শৈশবে মনে হতো এই বুঝি ঠিকানাবিহীন গন্তব্য।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া কথা
অনায়াসে ছোঁয়া সুনীল আকাশ
মেঘলোক, কল্পনার ছায়া জালে ছোঁয়া মাটি
টুকরো টুকরো শৈশব, জলের তলের কাদা মাটি।
জন্ম থেকে যেন ভাসি আকাশ গঙ্গায়
নীল ছায়া বিস্তৃত জীবনের বেলাভূমে
কাঁধ থেকে মাথা-মাথা থেকে নিম্নভূমি
পৃথিবীর ফুসফুস নষ্ট করেছে যে নগরী
সেখানেই থাকি নির্বাসনে
মস্তিষ্কের কোষে আছে লতাগুল্ম,কতো নদী, সাগর
জোনাক পোকার হাট, তোমার মুখের ছবি
অরণ্যের গাঢ় নিস্তব্ধতায় যেতে যেতে, নিরুদ্দেশ হই।
নিরুদ্দেশ হতে খুব সাহস দরকার
সাহসের প্রয়োজন সুন্দর হতে
সাহস দরকার ভালো বাসতে
সাহসী হতে হয় আন্দোলনে
সাহস দরকার তাকে পেতে
যিনি আছেন সমগ্র চরাচরে
আর অরণ্যের প্রগাঢ় নিস্তব্ধতায়।
৪ জুলাই ১২০২৪,২০ আষাঢ় ১৪৩১, বর্ষাকাল।