প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০০
দেবদাস কর্মকারের কবিতা

যদি বেঁচে থাকি আরও কিছুটা প্রহর
দেখি লঘু চোখে কতোটা দূর নদী বেয়ে
জীবন এসেছে ভেসে ¯্রােতের ভেলার মতো
ঘাটে ঘাটে দেখা কতো মুখ কতো স্বজনের ছায়া
সত্য-মিথ্যার ছবি সব মিশে চপল হাওয়ার মাঝে।
কেমন রঙিন আঁচলে বাধা তরুণ কালের দিন
কতোটা প্রাণের ¯্রােত ইচ্ছের ঘোলা জলে
শাদা হয়ে আসে ভোর শাদা হয় নদী নরোম কুড়ির বুক
ধূলোয় হারাই যখোন, চোখ মেলে চাই পেতে প্রিয়তমা মুখ
মৃত্যুর আঁধারে থেকে তবু কতো আশা।
এতোদিন বেঁচে থেকে যা কিছু জেনেছি
সবকিছু যেন ধাঁধা, কতো কিছু ভুল
নষ্ট যখোন দাঁড়ায় কাছে ভাগাড়ের গন্ধ মেখে বুকে
এ যেনো এক ভয়ানক কৌতুক
যখোন তাদেরই করি মাথার মুকুট।
তবুও সন্ধ্যার আকাশ ফাগ রঙে হয়ে যায় লাল
যখোন নিরবে দেখি নদীর উপরে জেগে ওঠা চর
শুকতারা জ্বলজ্বলে ভেসে ওঠে ধীরে
সব ভেদ ভুলে বাঙালির ঘরে জাগে বৈশাখ
মুছে যায় সব খেদ ক্ষোভ ক্ষুধা ক্লান্তি সব অবসাদ
যুবতীকান্তি নিয়ে তুমি যখোন রাখো পা মখমলে বোনা
কোমল ঘাসের ওপর
ইচ্ছে হয় অস্ফুট মৃত্যু নয় আর, সব বোধ ভেদ বেদনার শেষে
ভালোবেসে না হয় যদি বেঁচে থাকি আরও কিছুটা প্রহর।
১৪ এপ্রিল ২০২৪, ঢাকা, ১ বৈশাখ ১৪৩১, গ্রীষ্মকাল।
নীলাদ্রির কোল ঘেঁষে
যেন ভাবি নক্ষত্রের দিকে যাই উড়ে
নগর উঠেছে তেতে ভয়ঙ্কর রোদে
ক্রমশ অচেনা হয়ে গেছি আমি,
একটি স্বয়ংক্রিয় সিঁড়ি উঠে যায় দূরে
কতো অচেনা মানুষ নারী-পুরুষ থরে থরে
মেঘ থেকে মেঘে আলো থেকে আঁধারে
ক্রমাগত মিশে যায় পৃথিবীর সব পথ।
আমার গন্তব্য নীল রঙে ভরপুর কোনো নদী
যেখানে পাড় ঘেঁষে বৃক্ষরাজি মিঠে রোদ, বন
অরণ্যচারী পাখি শান্ত স্নিগ্ধ স্বপ্ন
মিহি সুতোয়বোনা
নিমীল ক্ষেতের ফসল,
এখোন
প্রবল রৌদ্রে নগরী মলিন
জীবন বিষণ্ণ সাদা ধূলো মেখে সেজে আছে সঙ
মৃদু ঘাসের ওপরে যেন নাচে নটরাজ।
কে চোখ রাঙিয়ে করে শাসন আমাকে
সৃষ্টির গহনে শুধু ভয়, অনুজ্জ্বল কতো দাহ
নীলাদ্রির কোল ঘেঁষে সমুদ্র
লক্ষ লক্ষ যুগ মানুষের রতি বিলাসী ঘোর
অনুভব করি হেঁটে চলি কথা বলি
শুধু সুপক্ক জ্যোৎস্নায় যখনই এসে ধরো হাত
তখোন নিবিড় গন্ধে ছোঁয় সরব বাতাস,
হয়তো দেখেছি অথবা দেখি নাই চির বন্ধু
জীবনের আসন্ন বেলায়।
২৭ এপ্রিল ২০২৪, ঢাকা,১৪ বৈশাখ ১৪৩১, গ্রীষ্মকাল।