বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

খুদে বিতার্কিক আদ্রিতা সরকারের অনুভূতি

মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ ॥
খুদে বিতার্কিক আদ্রিতা সরকারের অনুভূতি

আদ্রিতা সরকার। চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১৫৫নং নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার রোল নং ৯। বাবা শ্যামল সরকার নারায়ণপুর বাজারের একজন ঔষধ ব্যবসায়ী। মা পূর্ণিমা রাণী মণ্ডল পেশায় শিক্ষক। ১ ভাই ১ বোনের মধ্যে আদ্রিতা বড়। দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার অভিযাত্রা-১ পর্বে আজ অংশগ্রহণ করছে তার দল।

পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কচি মুখে আদ্রিতা তার সরল অভিব্যক্তি প্রকাশ করে এভাবে--আমাকে যখন আমার শিক্ষক বললো ‘তোমাকে বিতর্ক করতে হবে’, বিষয়টা আমি তেমন বুঝতে পারিনি। আসলে লেখাপড়ার বাইরে কোনো একটা বিষয় নিয়ে তর্ক করা কেমন যেন বেমানান মনে হতো আমার কাছে। বিতর্কটা আমার কাছে তর্ক বা ঝগড়ার মতো মনে হতো। যেমনটা আমি দেখে থাকি পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে সমাজে অথবা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তৈরির পরিবেশ। এই ভেবে মনে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করেছে। কারণ আমি সবেমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তর্ক বা বিতর্ক বোঝার বয়সটাই তো আমার হয় নি। কিন্তু শিক্ষকের আদেশ বলে কথা। তাই বিষয়টাতে মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করি। বাড়িতে পরিবারের সাথে বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করি। পরিবার থেকে আমাকে সাহস যোগায়, সম্মানিত শিক্ষকগণ আমাকে এবং আমার টিমকে দিকনির্দেশনা দেন। আমি তখন বিতর্কের জন্যে উদ্বুদ্ধ হই।

আদ্রিতা সরকার বিতর্কের এতো বড় একটা মঞ্চে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় এবং দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকায় তার অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্যে চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানায়। সে চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের সকল কর্মকাণ্ডের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।

আদ্রিতা সরকার তার অনুভূতিতে আরো জানায়, তাদের প্রধান শিক্ষক মোঃ সোহরাব হোসেন এবং বিতর্কের জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদুল হাসান যখন তাদের সামনে বিতর্কের বিষয় উপস্থাপন করলেন, বুঝিয়ে দিলেন যে, নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য, উপাত্ত, সংজ্ঞা এবং বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে আমরা প্রতিপক্ষদের কাছ থেকে আমাদের বক্তব্যই যে সেরা সেটা আদায় করার চেষ্টা করবো। চেষ্টা করবো যারা বিচারক থাকবেন, যারা দর্শক থাকবেন, যিনি মডারেটর থাকবেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। তিনি আমাদেরকে বুঝিয়ে দিলেন অত্যন্ত শালীনভাবে মাথা ঠাণ্ডা করে যুক্তি দিয়ে কীভাবে সত্যকে উন্মোচন করা যায়। এতো কিছুর পরও আমার কাছে বিতর্ক স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে।

আদ্রিতা সরকার বিতর্কের জন্যে সহায়ক গাইড হিসেবে তার বিদ্যালয়ের বাইরে নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইনুল ইসলাম টিপু স্যারের কথা বলতে ভুলে যায়নি। একজন চৌকস বিতার্কিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে মাইনুল ইসলাম টিপু স্যার দরদ দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বিতর্কের টিপস্ দিয়ে থাকেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার পক্ষ থেকে যখন তার অনুভূতি নেয়ার চেষ্টা করি, তখন আদ্রিতা সরকার আবেগাপ্লুত হয়ে অনেকটা আড়ষ্ট হয়ে যায়। বিক্ষিপ্তভাবে সে যা উত্তর দেয় তার সারমর্ম এ রকম--‘জীবনে প্রথম বিতর্কের মঞ্চে কথা বলি ২৮ অক্টোবর ২০২৩। অপরিচিত জায়গা অপরিচিত মানুষ অপরিচিত মঞ্চ। গায়ে বিতর্কের নতুন জার্সি, মাথায় ক্যাপ এবং হাতে কলম আর প্যাড। সব মিলিয়ে দেহে এবং মনে এক অদ্ভৃূত শিহরণ কাজ করছিল। কিন্তু আমাদের যারা গাইড করেছেন, তারা আমাদেরকে সব সময় পেছন থেকে সাহস যুগিয়েছেন। আমরা যাতে কথা বলতে কখনোই নিজেকে অসহায় মনে না করি। কোনো বিষয় নিয়ে অনেক কথা বললেও শ্রোতারা বিরক্ত না হয়ে কথাকে উপভোগ করেন--এটা আমার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। আগে ভাবতাম, মানুষকে মনে হয় কথা বলে মোহনীয় করা অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু এখন দেখছি, কথা বলার আগে কী বলবো সেটা যদি স্তরে স্তরে সাজানো যায়, তাহলে কথা হবে শ্রুতিমধুর, যুক্তি হবে ধারালো এবং ফলাফল হবে খুব সুন্দর’।

আদ্রিতার ভাষায় বিতর্ক হলো কথা বলা ও শেখার কারখানা। এটা যে একটা শিল্প সেটা তার জানাই ছিল না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়