বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

হেরেছি, কিন্তু থেমে যাইনি

রাবেয়া আক্তার
হেরেছি, কিন্তু থেমে যাইনি

কচুয়া উপজেলার সাহারপাড় গ্রামে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। আমার পড়াশোনা রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই আমার বিতর্কযাত্রা শুরু। জীবনে প্রথম মাইক্রোফোন হাতে নিই সপ্তম শ্রেণিতে পড়াবস্থায়। সেদিনের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমার মাইক্রোফোনের নেশা কাটেনি। কত ভাবে, কত ভঙ্গিতে নিজেকে উপস্থাপন করা যায়- এ যেনো আমার নিত্যদিনের প্রয়াস।

সপ্তম শ্রেণিতে আমি অভিযাত্রা-১ পর্বে হেরে যাই। মানে উপজেলা টপকে জেলাতে আর নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারিনি। তারপর থেকে স্বপ্ন দেখতে লাগলাম পরের বছর আমি সেরা বিতার্কিক হওয়ার গৌরব অর্জন করবো। পরের বছর অগ্রাযাত্রা পর্ব পর্যন্ত গিয়েছিলাম। এখানে আসার পিছনের গল্পটা আমার তখনকার সময়ের জন্যে একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার ছিলো। আমার আব্বু বরাবরই চেয়েছিলেন আমি যেনো খুব স্বল্প পরিসরে থাকি। বাইরের দুনিয়াকে তিনি খুব ভয় পান। কারণ নারীদের নিরাপত্তাহীনতা। চাঁদপুর আসা-যাওয়া করি সেটি নিয়ে আব্বুর ভয় ছিলো- কখন ব্যথা পাই অথবা কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কিনা। আম্মু আমার বিতর্কের ব্যাপারে ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ। তাই যখন চাঁদপুর আসতাম আব্বুকে না জানিয়ে টিফিনের টাকা জমিয়ে চলে আসতাম। স্কুল আমাদের খরচ বহন করতো, তবে মাঝে মধ্যে আমরা আমাদের টাকা থেকেও টুকটাক খরচ করতাম।

স্কুলে গিয়ে পরদিন যখন পড়া দিতে পারতাম না তখন সহপাঠীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তিরস্কার করতো। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণও পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে মাঝে মাঝে রেগে যেতেন। বলতেন, ‘বিতর্ক পেটে ভাত দিবে না, ভালো সার্টিফিকেট এনে দিবে না’। আমি বলবো, আজ বিতর্ক আমাকে ভালো সার্টিফিকেট দিয়েছে, সাথে সম্মান আর ভালোবাসাও পেয়েছি অবিরাম।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে বুঝি আমাদের প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে আজ বিতর্ক আমার তলোয়ার হিসেবে কাজ করে। আর চাকরির ক্ষেত্রে কিংবা ভালো পদ পাওয়ার জন্যে যারা সুন্দর করে কথা বলতে পারে, যাদের ভাষাগত দক্ষতা অনেক ভালো, যারা যৌক্তিক ও বিনয়ী মানুষ- তারাই প্রাধান্য পায়। আর আমি সেসব শেখার জন্যে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালাই।

বিতর্ক একটি প্রয়াসের নাম। যদি আপনি ভালো বিতার্কিক হতে চান, আমার মনে হয় কথা নিজে কম বলে অন্যের বক্তব্য শোনা, সেই বক্তব্য নিয়ে চিন্তা করা যা আপনার যুক্তির দুয়ার খুলে দিবে। আমার বিতর্কের হাতেখড়ি অনেক বাকি। তবে খুব বিনয়ের সাথে বিতার্কিকদের বলবো, আপনারা যখন বিতর্ক করবেন আপনাদের বিতর্ক শেষ হওয়ার পর নদীর পাড় কিংবা অন্য কোথাও ঘুরতে যাবেন না কিংবা চা খেতে চলে যাবেন না বা শপিং করতে যাবেন না, চেষ্টা করবেন সেদিন ভেন্যুতে যতোগুলো বিতর্ক হয় সব না পারেন অন্তত দুই তৃতীয়ংশ বিতর্ক শোনার। এই শোনা থেকে আপনি অনেক শিখবেন। বিশ্বাস না হলে একদিন ধৈর্য নিয়ে বসেই দেখুন। আর ফলাফল ঘোষণা দেয়ার আগে ইকবাল-বিন-বাশার আংকেল, কাজী শাহাদাত আংকেল এবং ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়াসহ বিজ্ঞদের বক্তব্য শোনার চেষ্টা করবেন।

টানা পাঁচ বছর আমি পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের সাথে যুক্ত ছিলাম। যখন এই বিতর্কের সাথে যুক্ত হই তখন আমার নিজের ফোন তো দূরের কথা, বাসায় কোনো স্মার্টফোনও ছিলো না। আমরা ভাবতাম, চর্চা করতাম, ক্লাস শেষে বিতার্কিকরা বসতাম- এই সব নেশা আজও আমার পিছু ছাড়েনি।

রাবেয়া আক্তার : সাবেক বিতার্কিক, রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় বিতর্ক দল; ১০ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়