প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৪
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ কবিতা

আজ কবি নজরুল ফুলের তরবারি
যেদিন ফুলকে ‘তীক্ষèধার অস্ত্র’ বলেছিলাম অনেকের ভ্রু গাণ্ডিব হয়েছিল আজ তোমার জন্য ফুলের তরবারি ছাড়া কোনো উপাধিই পছন্দ নয়।
দরিদ্র জমির মহামূল্য ফসল চিনেছি সে এক শাপলা বনের কাক জ্যোৎস্না
অভাবী লেটো কবির রঙ্গনাট্য প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে
অসাম্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায় সাম্যবাদী, শিকল ছেঁড়ার প্রতিজ্ঞা
মাথা উঁচু বিদ্রোহীর জয়যাত্রা বেদ পুরাণ ইতিহাস আরবের উজ্জ্বল নামাবলি
কী অদ্ভুত মিলে যায় খ্যাপা দুর্বাশার রাগে তন্বী কিশোরীর লাজুক প্রেম
পরশুরামের কুঠার আর ছিন্নমস্তার তাণ্ডবে কোমল আঁচল কাঁপে
বালকের নিষ্পাপ চোখ কীভাবে আপসহীন যোদ্ধার জয়মাল্য হয়
এখনো বুঝিনি, যে মন কৃষ্ণ বা কালী সাধনার মগ্ন তপস্বী
খোদার নমাজে তাঁর নিবিড় আত্মনিবেদন এক আশ্চর্য ঘটনা।শতধাবিভক্ত মানুষের সংহতির দৃঢ়তম দিকনির্দেশ তুমিই দিয়েছো
কোমলে কঠোরে তুমি এক সুগন্ধি ফুলের ধারালো তরবারি।
নজরুল কবি, তুমি ফুলের তরবারি। ফুলের ধারালো তরবারি।***
যারা
যারা ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে এখনো
তারা জানে ছায়া বড়ো অস্থির।
যারা রোদের ভেতর দাঁড়িয়ে তারা জানে
পুড়তে পুড়তে ঠিক জল খুঁজে পাবে।
যারা বৃষ্টিতে ভিজেছে উদ্দাম তারা জানে
স্বপ্নের আয়ু মাত্র দেড় সেকেন্ড।
যারা দুর্জয় পাহাড় ভেঙে উঠেছে চূড়ায়
তারা তো জানে বাঘের পিঠ থেকে নামাই কঠিন।
যারা ছুটতে ছুটতে চলে গ্যাছে সীমানার কাছে
তারা জানে এবার বিশ্রাম।যারা এখনো শুরুই করেনি তারা দাঁড়িয়ে
পাঁচমাথার মোড়ে।
ভেবে নিচ্ছে শুরুর ভাবনা।***
রথ মানে আলো
সিধু নামের ছেলেটা জানে রথ কাকে বলে
রথের মেলায় তার অনেকগুলো চরকি বিক্রি হয়।
ওরা বলে, ফিরফিরি, রঙিন কাগজের খেলনা
হাওয়ায় জোরে ঘোরে, বন্ধু গজু সঙ্গ ছাড়ে না।দুটো দিন সে মায়ের হাতে কিছু টাকা তুলে দেয় আর দ্যাখে মায়ের মুখে অদ্ভুত খুশির আলপনা।
ওর বাবা ছোটোমায়ের সঙ্গে সেইবাড়ি হেঁটে যায়
দেখতে চায় না তবু দেখে ফ্যালে দুটো মানুষ, অকৃতজ্ঞ
আর দ্যাখে মাকে, চোখের কোণে আলোর বিষাদ।দু-দিন ভিড়ে সে এ-গলি ও-গলিতে চরকি ঘোরায়, বেচে দুটো দিন লুচি-আলুর দম, বোঁদে আর কাটাপোনার ঝোল।
বোঝে রথ মানে আলো, অনেক রকম আলো।
***
যে রোদ ভাঙে ঘর, লেখে নাম
তোমাকে রুদ্র বলে ডাকি এবং প্রবল
সবুজ ডাকেনি খুব এবার খরায়
বাতাসে হতাশা গন্ধ ফিসফিস
প্রাচীন ভাতের কথা ঘাটপাড়ে ওড়ে
ভাঙাঘর রাঙাচাঁদ শিশুমুখ ছেড়ে
আবার পোঁটলার সংসার...
বিনাদোষে জেলখানা ঘুপচি ত্রিপল
লম্পট চোখের কাছে শরীরী খাবার
মিনুশাড়ি ডেকেছিল নাম কতবার
আনকোরা নয় বলে এতই বেদাম?তোমাকে রুদ্র বলে ডাকি এবং দহন
জলকথা লিখেছিলো খুব চাঁপা রং
যে সুখ সোজন বাদিয়ার ঘাটে জমা
তুমিই তো ঝড় আনো মুছে দাও গানগুলি
ঘর ভাঙো অনিকেত লিখে দাও নাম








