প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৪
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ কবিতা

আমাদের নারকোল গাছ
আমাদের অহংকার সেই গাছ উঁচু হয়ে ছাড়ালো আকাশ,
বাবার হাতে লাগানো, বাড়ির কোনে
একা একা বেড়ে ওঠে
কৈশোরের অভিমানে।
সূর্যের সাথে প্রতিদিন সখাসখী খেলে,
স্বাতী নক্ষত্রের কাছে ভিক্ষা মাগে জল,
পৃথিবীর প্রত্যন্তে তার শিকড় খুঁজে ফেরে পরশ পাথর।এতোদিনে মেঘের সাথে তার গোপন প্রণয়
জেনে গেছে বাজ,
গোপন হিংসায় জ্বলে ওঠে সারা আকাশ।
সে আজ চলে গেল,
আমদের সেই নারকোল গাছ,
বাবার স্নেহপাশ।এখনও দুপুরের রোদ প্রতিদিন খোঁজে তার হারানো ছায়ার আকাশ।
***
কতো কি যে ইচ্ছা করে
ইচ্ছে করে বাতাস হতে,
ভয়ও আছে পাছে উড়ে যাই,
ইচ্ছে করে মেঘের সাথে
বৃষ্টি হয়ে ঝর্না বানাই,
ভয়ও আছে যদি ভেসে যাই!ইচ্ছে করে ভরদুপুরে
চিলের ডানায় সাগর দেখি,
ভয়ও আছে যদি ডুবে যাই,
মাঝ দরিয়ায় অকূল ফাঁকি।ইচ্ছে করে ইচ্ছে মতন স্বপ্ন গড়ি,
ক্যানভাসেতে আঁকছি কেবল জলের রঙ,
ইচ্ছেগুলির হাচর-পাচর গোল্লাছুটে,
ভয়ও আছে পাছে হারাই নিজের ঢঙ।ইচ্ছা, ভয়ের যুগল ধারায়
জীবন শুধু মধ্যগামী,
এক পা এগোই, দুই পা পেছোই,
মাঝদরিয়ায় আমার আমি।***
আলো, আরো আলো
কেবলই লোভ দেখায় আলেয়ার মতন,
ঘুরে চলি নাকের উপরে বাঁধা
নরুনের পিছে।
তবে কি মন্ত্রে ভুল কিছু আছে,
কিংবা উচ্চারণে শুদ্ধতার অভাবে বেঁকেচুরে গেছে,
কিংবা কোন এক অভিশাপে বামন হয়েছে!সেই সব অজানাই থাকে,
অথচ পিঁপড়েরা সার বেঁধে চলে নির্ভুল গন্তব্যে,
পাখি তার পথ খুঁজে নেয় পৃথিবীর এপার ওপার।
নক্ষত্রেরা দূরতর দ্বীপে আলোর নিশানায়
কথা বলে, মনে হয় লক্ষকোটি বছরের পর পৃথিবীতে এসে ভুলে গেছে পুরানো শপথ।বসে আছি হাঁটু গেড়ে, মুথা ঘাসে পেতেছি চাদর,
শিশিরের শব্দ শুনি,
সূর্যের কাছে নতজানু হয়ে বলি,
দিনমণি প্রসন্ন হও,
আলো, আরো আলো দাও।








