শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১

ধারাবাহিক উপন্যাস-৫০

নিকুঞ্জ নিকেতন

রাজীব কুমার দাস
নিকুঞ্জ নিকেতন

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

কথাটা বলার পরপরই রাজীব অনেকটা উদাসীন হয়ে যায়। সারোয়ার ও অনিমেষ তার মাথায় বিষয়টা ঢুকিয়ে তো দিয়েছে কিন্তু সিদ্ধান্তের জন্য তার নিজকেই তুলে এনেছে সামনে। তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে রাজীব কিছু হিসেব মিলিয়ে নিতে পারছিল না। জীবনের অনেক কিছুই মিলানো যায় না তবুও চেষ্টা করছিল। প্রশ্নগুলো চোখের সামনে সাবলীল এবং উত্তরটাও এবার অজানা নেই। একদিকে বাবার স্বপ্ন অন্যদিকে ভালোবাসা দুটোই আজ এক বিন্দুতে মিলেছে। তারা চলে গেলে সে একাকী বারান্দায় বসে ভাবতে থাকে। যাবার কথা থাকলেও সেদিন রাজীব আর ফিরে যায়নি। জীবিত থাকাকালীন নরেন্দ্র নারায়ণ দাস যে স্বপ্নটুকু দেখেছিল সেটা তার তিন রত্ন পূরণ করতে পেরেছে। সময়ের প্রেক্ষিতে অবশেষে বিশাখা ও রাজীবের নড়বড়ে সম্পর্কের বন্ধনটা চিরস্থায়ী হয়ে যায়। প্রতিবেশী বা বন্ধুত্ব থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনের পথচলা হয় শুরু। মানুষের সকল আশা তার জীবনকালে পূর্ণ হয় না, কিছু অপূর্ণতা থেকে যায় আর এটাই হয়তো জীবনের নিয়ম। বিয়ে পরবর্তীতে রাজীব বিশাখাকে নিয়ে আমেরিকায় চলে আসে এবং সেখানেই বসবাস করতে থাকে। এদিকে নিকুঞ্জ নিকেতন পরিবারে কিছুদিনের মধ্যে নবাগত আরও কিছু সদস্য যোগ হয়। নরেন্দ্র নারায়ণ বেঁচে থাকার যে মূলমন্ত্র গেঁথেছিলেন তার তিন রত্নের মনে তারা এটিকে এক এক করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে শুরু করল। তারপর সময়ের ব্যবধানে অনিমেষ-সারোয়ার আর পিটার জীবনের পর্ব শেষে একে একে অন্তীমের যাত্রায় দেয় পাড়ি। এদিকে মনমোহনও আগের মত আর নেই বয়স হয়েছে তারপর কোনো একদিন বার্ধক্য তাকেও গ্রাস করে। লোক আসে লোক যায় আর জীবনের অন্তীমটা এক এক করে গিলে নেয় সবকিছু। নরেন্দ্র নারায়ণ নেই কিন্তু তার বাঁচার মূলমন্ত্র আজও লালন করছে নিকুঞ্জ নিকেতনের প্রতিটি সদস্য। “বার্ধক্য কোনো অভিশাপ নয় তাই মরার আগ পর্যন্ত বাঁচতে হয় বীরত্ব নিয়ে কারণ জীবন যুদ্ধে তুমিও কভু ছিলে বীর যোদ্ধা”। নিকুঞ্জ নিকেতনের প্রতিটি সদস্য এটা বুকের মধ্যে লালন করে এবং প্রজন্মের ধারায় তা অন্যজনের কাছে ছড়িয়ে দিয়ে যায়। বার্ধক্য ছুঁয়ে জীবনের শেষ আশ্রয়টা অনেকের এখানেই হয়েছিল। ধীরে ধীরে নিকুঞ্জ নিকেতন একটি বাড়ী থেকে পালটে গড়ে উঠে অঘোষিত বৃদ্ধাশ্রমে। আশপাশের অনেক কিছুই বদলে যায় আধুনিকতায় তবুও নিকুঞ্জ নিকেতন জীর্ণতা ছুঁয়ে নিজ দর্পে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে নগরায়নের ভীড়ে। [সমাপ্ত]

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়