শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯

পাঠক ফোরামের কবিতা

অনলাইন ডেস্ক
পাঠক ফোরামের কবিতা

মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া তিলক ফোঁটা

তিলকের কালোদাগের চিহ্ন,

কালোদাগেরÑকালোদাগ নয়।

এ এক কালোর ভুবন।

কালো জমিনের নরম ছোঁয়া,

কালো ফোঁটায় বয়ে বেড়ায় জন্মস্মৃতি।

তিলকের মোহনীয় রূপ সুখের কল্লোলে,

অন্ধকারে জোনাকির আলো।

ভালোবাসার গভীরতায় বয়ে বেড়ায়

শরীরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত।

তিলকমালার কণ্ঠস্বর, গলার ভাঁজ, তিলকের আভিজাত্যে,

কালো ফোঁটার চাঁদমাখা মুখে

তীর্যক ধ্বনিও পরাস্ত।

বসন্তের পর বসন্ত গড়ায়।

কালো ফোঁটার দাগ মুছে যায় না।

কালো কাপড় মুড়িয়ে

অন্তিম যাত্রার পথ দেখায়।

ভালোবাসার বন্ধনে আঁটকে যায় দীর্ঘশ্বাস।

যে তিলকচিহ্ন শরীরের মানচিত্র এঁটে দেয়,

তোমার শরীরের স্বাদ।

ডুবুরির ভেজা ভেজা চোখে

জলরশ্মির ফোঁটায় ফোঁটায়

ভাসিয়ে বেড়ায় ভালোবাসার তিলক ফোঁটা।

এম আর এম শোভন

ভাই

ভাই একটি গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও মাহাকাব্যের ভাষায় রক্তের টানে গাঁথা যে নাম, রক্তের বাঁধন,

একই বৃক্ষে ফুটে থাকা দুটি জীবন।

শৈশবের সেই হাজারো স্মৃতি, খুনসুটি আর খেলা,

ভাইয়ের স্নেহেই কেটে যেতো আনন্দময় বেলা।

এক সাথে হাঁটা পথের বাঁকে, এক সাথে পথচলা,

না-বলা কথাটি না বলতেই বুঝে ফেলা মনের কথা।

কখনো বা রাগ, কখনো বা অভিমান ছায়া ফেলে,

সব ভুলে আবার হাসি যে ফোটে দুই ভাই এক হলে।

ঝোড়ো বাতাসেতে যে দাঁড়ায় হয়ে অদম্য এক ঢাল,

ভাইয়ের ছায়ায় নিশ্চিন্তে কাটে বিপদেরও কাল।

দূরত্বের মেঘ যত দূরে যাক, যত বাড়ুক ব্যবধান,

ভাইয়ে ভাইয়ে বন্ধন কভু হয় না তো ম্লান।

ভালোবাসার এই অটুট সেতু থাকুক চিরদিন,

ভাইয়ের স্নেহের নেই তুলনা, শোধ হবে না ঋণ।

একসাথে বেঁচে থাকা এই বুকে, এক সাথে করি সুর,

ভাইয়ের বন্ধন রবে অমর, সুদূর থেকে বহুদূর।

এন. জে. রাবেয়া

শূন্য লেখা হবে কার খাতায়

আজ আকাশ কাঁদে না

সে সাক্ষ্য দেয়।

নদী ফুলে ওঠে না

সে বহন করে

একটি জাতির নীরব অপরাধ।

কোন বিধানে

প্রলয়ের বুক চিরে

ভবিষ্যৎকে হাজিরা দিতে হয়?

কোন বিবেকে

কোমরসমান জলকে

পরীক্ষাকক্ষের বারান্দা বানানো হয়?

কোন সভ্যতায়

একটি কন্যার ভিজে যাওয়া লজ্জা

অদৃশ্য থাকে,

আর ভিজে যাওয়া উত্তরপত্র

এত দৃশ্যমান হয়ে ওঠে?

কোন আইনে

পথ ডুবে গেলে

স্বপ্নের অনুপস্থিতি অপরাধ,

কিন্তু

মানবতার অনুপস্থিতি

অপরাধ নয়?

কেন আজ

ঘড়ির কাঁটা থামে না,

যখন

হাজারো মায়ের বুক

একসঙ্গে থেমে যায়?

কেন আজ

অশ্রুর কোনো ফলাফল নেই,

দীর্ঘশ্বাসের কোনো নম্বর নেই,

মানুষের আর্তনাদের

কোনো মূল্যতালিকা নেই?

থাক।

ইতিহাস

একদিন নিজেই প্রশ্ন করবে।

সেদিন

নদী সাক্ষী হবে,

আকাশ বিচারক হবে,

আর বিবেক হবে

একমাত্র প্রশ্নপত্র।

তখন

কারা উত্তর খুঁজবে?

কারা চোখ নামাবে?

কারা বলবে

‘আমরা জানতাম না?’

কারা বলবে

‘আমরা বাধ্য ছিলাম?’

আর বলো

সেদিন শূন্য লেখা হবে কার খাতায়?

জলের সঙ্গে লড়ে হেরে যাওয়া

একটি শিক্ষার্থীর?

নাকি

মানুষের কান্নার সামনে

বারবার অকৃতকার্য হওয়া

একটি সভ্যতার?

সাহেদ বিন তাহের

বাবার নিরব প্রস্তান

আমারও বাবা ছিলো

কত যে বাহানা করতাম!

কলম, কাগজ, পেন্সিল, স্কেল, জ্যামিতি

কিংবা হার্ডবোর্ড কিনে দিতে হবে।

কখনো আবার পরীক্ষার ফি দিতে হবে

অথবা টিফিনের সময় খেতে হবে বলে

বাবার কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিতাম

বাবা কখনো না করতেন না,

কিন্তু নিম্নবিত্ত বাবার পকেট বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা থাকতো।

আবার থাকলেও খুব সামান্য

যে অর্থ দিয়ে হয়তো চাল কিনতে হবে,

নয়তো ঘরের জন্য বাজার করতে হবে।

কিংবা অন্যান্য কাজে লাগবে,

কম টাকা হলেও খরচের হিসেবটা ছিলো বিশাল!

কারণ আমাদের সাতজনের পরিবার

সবার চাহিদা বাবার একার পক্ষে মেটানো সম্ভব হতো না

বরং রীতিমতো আমাদের খেয়ে-পরে

বেঁচে থাকাটাই কষ্টকর ছিলো।

কিন্তু এ মানুষটি

সাধ্যের মধ্যে আমাদের কোনো সখ অপূর্ণ রাখেননি।

টাকার জন্য কত কষ্ট করতেন,

কত যে ত্যাগ-তিতিক্ষার পর টাকা রোজকার করতেন

সেটা বুঝানোর সাধ্য নেই।

তবুও আমি ছিলাম একটু জেদি

কোনো কিছু আবদার করলে, সেটা না পাওয়া পর্যন্ত ছাড়তাম না।

কান্নাকাটি করে হলেও আমি আমার ইচ্ছা পূরণ করতাম।

একবার ঈদে পাঞ্জাবী কিনতে কত কী যে করলাম!

বাবার সাথে কাজে পর্যন্ত করতে গিয়েছি।

তবুও পাঞ্জাবী কিনে দিতে রাজি হয়নি।

আসলে আমার অসুস্থ বাবা

আমিসহ যে টাকা রোজকার করেছি

সে টাকায় ঠিক মতো চিকিৎসার খরচই হবে না।

আমি শেষমেষ মায়ের কাছে গিয়ে মাটিতে গঠাগড়ি দিতে লাগলাম।

তখন মায়ের অসুস্থতার কথা বলে

বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে দিলেন।

সে বছরই আমি প্রথম পাঞ্জাবী কেনার সাধ পেয়েছিলাম।

কেনার পর আমার কাছে সেটি আর ভালো লাগেনি,

তাই সেই ঈদে আমার গায়ে পাঞ্জাবী জড়ানোও হয়নি।

তাঁর দুইদিন পরই বাবা আমাদের ছেড়ে অন্য দেশে চলে যান

যেখান থেকে আর কখনো ফেরানো সম্ভব না।

বাবার টাকা দিয়ে কেনা আমার প্রথম পাঞ্জাবী এখন শুধুই কষ্টের সঙ্গী আর স্মৃতি।

ছবি-৩০

মো. তানজিদ কোতয়াল

কখনো জীবনের কথা

কখনো কথায় মিশে থাকে নীরব অনুভব,

কখনো কথায় জেগে ওঠে অদৃশ্য রাগ।

কখনো চোখে স্বপ্নেরা পথ খুঁজে নেয়,

কখনো চোখে হারিয়ে যায় সব আশা।

কখনো স্পর্শে হৃদয় কেঁপে ওঠে,

কখনো স্পর্শে দূরত্ব আরও বাড়ে।

কখনো নীরবতা শান্তি এনে দেয়,

কখনো নীরবতা অস্থির করে তোলে।

কখনো হাসি সত্যিই আনন্দ ছড়ায়,

কখনো হাসি লুকিয়ে রাখে কষ্ট।

কখনো শাসন ভালোবাসা বোঝায়,

কখনো শাসন বিরক্তির দেয়াল তোলে।

কখনো স্বপ্ন পথ দেখাতে চায়,

কখনো স্বপ্ন ভেঙে দেয় সব বিশ্বাস।

কখনো জীবন বাঁচতে শেখায়,

কখনো জীবন ক্লান্ত করে তোলে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়