প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০১
সখের ব্লেজার

আদিব বন্ধুদের সাথে শপিংয়ে গেছে। সবাই সবার পছন্দ মতো কেনাকাটা সেরে নিচ্ছে। হঠাৎ আদিবের চোখ গেলো একটা ব্লেজারের দিকে। নীল কালারের মধ্যে ব্লেজারটি দেখতে বেশ চমৎকার। আদিব এক নজরে চেয়ে আছে, কাউকে কিছু বলছে না। কিছুক্ষণ চিন্তা-ভাবনার পর ব্লেজারটি হাত দিয়ে ধরে দেখতে লাগলো।
তখন সাথে থাকা বন্ধুরা দেখে বললো কিরে কিনবি নাকি? তাহলে গায়ে দিয়ে দেখ। (আগে কখনও ব্লেজার গায়ে জড়ায়নি আদিব,এই প্রথম ব্লেজার গায়ে জড়াবে) আদিবও তাদের কথা মতো গায়ে দিয়ে দেখলো ব্লেজারে তাকে কেমন লাগে। গায়ে দেওয়ার পর বন্ধুরা বললো তোরে বেশ ভালো মানিয়েছে। এটা কিনে ফেল, আদিবও গায়ে দিয়ে বুঝতে পারছে এটি তার জন্য খুবই ভালো এবং পরতেও আরামদায়ক হবে। এবার দাম জিজ্ঞেস করলো(একটু ইতস্তত হয়েই) আদিব। (আসলে আদিব শপিংয়ের উদ্দেশ্যে যায়নি,বন্ধুরা শপিং করবে তাই তাকে সাথে নিয়ে গেছে)। দোকানদার বললো ২০০০ হাজার টাকা, কিন্তু সেখান থেকেই বন্ধু সুজন ১৬০০ টাকা দিয়ে একই ব্লেজার কিনেছে। সুজন ১৬০০ টাকা বলার পর দোকানী সে দামেই দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে আদিব কিছুটা অস্বস্তিবৌধ করছে। এই অস্বস্তি আসলে অন্য কিছুর জন্য নয়, এমন অস্বস্তির কারণ হচ্ছে তার কাছে ঐ পরিমান টাকা নেই। তাই সে কী বলবে বা বন্ধুদের কাছে টাকা ধার চাইবে কিনা, এসব নিয়ে একটু চিন্তিত।
কিছুক্ষন পর আদিব বললো আচ্ছা পরে নিবো। অন্য এক সময় এসে নিয়ে যাবো। এটা এখন কেমন যেন অন্যরকম লাগতেছে। মানে আমার কাছে মনে হচ্ছে আমাকে মানায় না। তখন বন্ধুরা বললো না তোকে এটা খুব ভালো মানাবে, কিনে দেখ শুধু একবার। এখন প্রথম গায়ে দিচছ তো তাই একটু অন্য রকম লাগছে।
আদিব বললো আচ্ছা থাক পরে নিবো,
সুজন,আবির বললো এখনই কিনে ফেল,
না থাক পরে এসে নিয়ে যাবো। বন্ধুদের জোড়াজোড়িতে অবশেষে বলতেই হলো যে টাকা নাই। তাই এখন রেখে দিচ্ছি পরে টাকা দিয়ে এসে নিয়ে যাবো। দোকানদার কে বলে রাখলো যেন এটা রেখে দেয়। আদিব বেকার ছেলে এতো টাকা পাবে কই? কিন্তু বন্ধুদের সাথে গিয়ে পছন্দ হইছে, পছন্দের জিনিস না কিনতে পারলেও তো ভালোলাগেনা। মনে শান্তি আসেনা, মনটা কেমন যেন উতালপাতাল করে। সেই সখের জিনিস কিনার জন্য।
অবশেষে আদিব কাজ করে ১৬০০ টাকা জমিয়ে দোকানে যাচ্ছে পছন্দের ব্লেজার কিনার জন্য। তার মনে অনেক আনন্দ, মুখ ভরা হাসি নিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছে আপন গতিতে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে আজকে সে পৃথিবীর সব থেকে বেশি সুখি মানুষ। মার্কেটে যাওয়ার পর ঐ দোকানের ঠিক সামনেই একজন লোক আদিব কে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো, প্রথমে আদিব কিছুটা ভয় পেলেও পরে সব সামলে বুঝতে পারলো, তার হাতে ডাক্তারের প্রেসকিপশন। ওনাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো, ওনার ছেলে অসুস্থ। ডাক্তারের প্রেসকিপশন হাতে নিয়ে মানুষের ধারে ধারে ঘুরছে ছেলে কে বাঁচানোর জন্য। অপারেশন করতে হবে প্রচুর টাকা লাগবে। কিন্তু ওনার কাছে কোনো টাকা নাই। সেজন্য বাধ্য হয়েই সবার কাছে হাত পাত তে হইছে ছেলেকে সুস্থ করে তোলার জন্য। এভাবে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে দেখে আদিবের খুব খারাপ লাগলো এবং আদিবের মনে পড়ে গেলো বাবার কথা! তার বাবা নেই, তবে বাবা থাকা অবস্থায়ও তাদের ছিলো অভাবের সংসার, “একদিন তো আদিবের প্রচুর জ্বর ছিলো কিন্তু ডাক্তারের কাছে যাওয়ার মতো বা চিকিৎসা করার মতো বাবার কাছে কোনো টাকা-ই ছিলোনা”। এমনকি ঘরের মধ্যে রান্নার চাল পর্যন্ত ছিলোনা। আদিব পুরনো দিনের কথা ভাবতেই চোখ জ্বল জ্বল করা শুরু করলো। আদিব সাথে সাথে পকেট থেকে বের করে ১৬০০ টাকা ঐ লোক কে দিয়ে বলে চাচা আমার এতো টুকুই দেওয়ার সামর্থ আছে। আপনি দয়া করে এই টাকা গুলো আপনার ছেলের চিকিৎসার জন্য খরচ করবেন। এরপর আদিব হেটে হেটে বাড়ি ফিরে আসলো। তবে ব্লেজার না কিনতে পারার আক্ষেপ আদিব কে একটুও ছুতে পারেনি বরং সে খুশি অনুভব করতে লাগলো। কারন বিপদে একজন বাবার পাশে দাঁড়াতে পেরেছে।







