বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০১

নিজের উৎপাদিত সবজি ওয়্যারলেস বাজারে ১ ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি শেষ!

পরিশ্রম আর সততায় সফলতার গল্প কৃষক শফু মিজির

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
পরিশ্রম আর সততায় সফলতার গল্প কৃষক শফু মিজির

চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের পশ্চিম মৈশাদী গ্রামের পরিশ্রমী কৃষক শফিক মিজি ওরফে শফু মিজি। তাকে সবাই শফু নামেই চিনেন। অন্যের জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন মৌসুমি সবজি চাষ করে তিনি আজ স্বাবলম্বিতার পথে এগিয়ে চলেছেন। তিনি প্রায় দু একর জমিতে চাষ করেন। প্রতিদিন ভোরে নিজের উৎপাদিত লাউ, করলা, ঢেঁড়স, দুন্দুল, পেঁপে , বেগুন, শসা, পুঁইশাক, কলমি শাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, কচু শাক, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের তাজা সবজি নিয়ে চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস বাজারে আসেন। আশ্চর্যের বিষয়, বাজারে আনার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তার সব সবজি বিক্রি শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয় জমির হোসেন ও বাবুল গাজী জানান, শফিক মিজির সবজি সম্পূর্ণ টাটকা ও মানসম্মত হওয়ায় প্রতিদিন ফজরের নামাজশেষে অনেক মুসল্লি সরাসরি তার কাছ থেকে সবজি কিনতে বাজারে চলে আসেন। এছাড়া স্থানীয় দোকানদাররাও তার উৎপাদিত সবজি সংগ্রহের জন্যে অপেক্ষা করেন। ভালো মানের সবজি এবং ন্যায্যমূল্যে বিক্রির কারণে অল্প সময়েই তিনি ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছেন। কৃষক শফিক মিজি বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে অন্যের জমি বর্গা এবং লিজ নিয়ে সবজি চাষ করছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ পাই না । ৩০ বছর ধরে কৃষি কাজ করছি। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে উৎপাদিত সবজি নিজেই বাজারে এনে বিক্রি করি। এতে ভালো দাম পাই এবং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর করতে হয় না। বর্তমানে প্রতি মাসে সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় হয়। এই আয় দিয়েই পরিবারের ভরণপোষণ, জমির লিজের টাকা, শ্রমিকের মজুরি এবং চাষাবাদের খরচ নির্বাহ করছি। তিনি আরও বলেন, কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা জরুরি। তরুণরা কৃষির দিকে এগিয়ে এলে বেকারত্ব কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়বে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, মো. মোবারক হোসেন শফিক মিজির মতো পরিশ্রমী কৃষকরা কৃষিতে সফলতার উজ্জ্বল উদাহরণ। কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, রোগবালাই দমন এবং নিরাপদ সবজি উৎপাদনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। কৃষকরা যদি এভাবে উৎপাদন বাড়ান, তাহলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। আর আমাদের প্রতিটি ইউনিয়নভিত্তিক ব্লক তৈরি করে অফিসাররা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই ব্লকে কার দায়িত্ব সেটি আমি উপজেলা অফিসারকে অবহিত করবো। ওয়্যারলেস বাজারের ব্যবসায়ী মো. রাসেল গাজী ও স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন জানান, শফু মিজির সবজি প্রতিদিন এতো দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় যে, অনেক সময় দেরিতে আসা ক্রেতারা সবজি পান না। তার উৎপাদিত সবজির স্বাদ, সতেজতা ও মানের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে আলাদা চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়্যারলেস বাজারের ব্যবসায়ী মো. জিয়াউর রহমান খানের মতে, কৃষক শফু মিজির এই সাফল্য প্রমাণ করেÑপরিকল্পিত কৃষিকাজ, কঠোর পরিশ্রম এবং সততার মাধ্যমে কৃষিতেও সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এমন সফল কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ দিলে দেশের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

মো. শফিক মিজির স্ত্রী কুলছুমা বেগমও স্বামীকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করে থাকেন । তার ১ মেয়ে রিনা আক্তার গৃহিণী, আর ছেলে মো. রাসেল মিজি চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়েন। ছোট ছেলে মো. সজিব মিজি ফার্নিচার মিস্ত্রি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়