মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২

সাইকোলজিকাল থ্রিলার

ছায়া শিকারি

মিজানুর রহমান রানা
ছায়া শিকারি

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

পাঁচ.

রাত গভীর। আজ হোস্টেলের সবাই সজাগ। চারদিকে তারা সবাই মিলে নজর রাখছে, কেউ খুন হয় কিনা। কিন্তু কোথাও কোনো শব্দ নেই। হঠাৎ করেই লীনার রুমে একটা আর্তচিৎকার ভেসে আসে, ‘বাঁচাও বাঁচাও’।

ঠিক সেই সময়ই জামশেদ ও তার বাহিনী প্রবেশ করে। তারপর তারা দেখে রুমের দরজা খোলা, ভেতরে লীনার রক্তাক্ত লাশটা পড়ে আছে।

জামশেদ ইরফান, ইমতিয়াজসহ সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। তারপর প্রশ্ন করে, ‘একে একে তিনটা খুন হলো। প্রতিদিনই একটি একটি করে খুন হচ্ছে, আর তোমরা কি কিছুই জানে না?’

কেউই কিছু বললো না। শুধু ইমতিয়াজ উত্তর দিলো। সে প্রশ্ন করলো, ‘খুনের রহস্যের বিষয়টা উদ্ঘাটন করা পুলিশের কাজ। আপনারাই বিষয়টা উদ্ঘাটন করবেন। এগুলো আমাদের কারো কাজ নয়। যে প্রকৃত খুনি নিশ্চয় সে একদিন ধরা পড়বেই। তবে আমাদেরকে ভয় দেখানোর জন্য আমাদের একের পর এক সহপাঠীকে যারা খুন করছে তারা অবশ্যই বাইরের কেউ।’

এ সময় নাহার এক নতুন সংকেত পায়, একটা অদ্ভুত কম্পন এসেছে শহরের পুরনো টাইপরাইটার থেকে, যেখানে কেউ বসে নেই, অথচ শব্দ বুনছে, প্রতিটি অক্ষরে যেন এক ভাষাহীন আর্তি।

এদিকে আশরাফ ধ্বনি-পুলিশের ভেতর কাজ করেও আর নিজেকে প্রহরী ভাবতে পারছে না। প্রতিরোধের কবিতাগুলো সে পড়ে নাড়ে, অনুভব করে। তার গ্লাভস তুলে ফেলে, নিজের আঙ্গুলে অনুভব করে একটিমাত্র রেখা, যেটি বৃষ্টির প্রথম কবিতা উচ্চারণের সময় রেকর্ড হয়েছিল।

এক গোপন বেঠকে বৃষ্টি, ইমতিয়াজ, অনন্যা, নাহার ও ইরফান সিদ্ধান্ত নেয় “ভাষা যদি মৃতপ্রায় হয়, তাকে অন্তত একটা কবর দেওয়া হোক শ্রদ্ধায়, কিন্তু যদি সে এখনো বেঁচে থাকে, তাহলে তার নতুন শরীর তৈরি করতে হবে, নতুন প্রতিধ্বনি, নতুন এক অনুভব।”

তারা খুঁজে পায় একটি পুরনো তরঙ্গ-ফলক, এক ধরণের সংবেদনশীল যন্ত্র যা শব্দ নয়, কাঁপন সংরক্ষণ করে। নাহার বলে, ‘এটা অনুভূতির একমাত্র প্রামাণ্য দলিল, এখানে শব্দ নেই, কিন্তু প্রতিক্রিয়া আছে।’

ইরফান কাগজে লিখে, ‘প্রতিটি ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।’ তারপর বন্ধুদের দিকে এগিয়ে দেয়।

ইমতিয়াজ তা পড়ে। তারপর বলে, ‘আমরা একটা গভীর প্রতিক্রিয়ার দিকে এগুচ্ছি। যা গত দেড়শ’ বছর পেছনের ক্রিয়ারই ফসল। বাক্শক্তি হারিয়ে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না, পঙ্গু হয়ে যায়। পঙ্গুত্বের চেয়ে মৃত্যুও ভালো। প্রতিটা বীরই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই হাজার বছর মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।’

অনন্যা ইমতিয়াজের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, ‘তাহলে আমিও তোমার সহযাত্রী হয়ে মানুষের অন্তরে চিরকাল বেঁচে থাকবো। আমাদের বাকহীনতার বিরুদ্ধে, শব্দহীনতার বিরুদ্ধে জীবন-মরণ যুদ্ধ করার সময় হয়েছে। ওরা আমাদের সঙ্গীদেরকে হত্যা করে আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে চায়, ভয়ের মধ্যে রাখতে চায়, কিন্তু আমরা এই ভয়কে অবশ্যই জয় করবো একদিন।’

তাসফিয়া এগিয়ে আসে, তারপর সবাইকে বলে, ‘আমাদের সময় হয়েছে জেগে উঠার, আমাদের সময় হয়েছে নীতিনির্ধারকদের পথে বসার--তাদেরকে মাড়িয়ে পথচলা আমাদের লক্ষ্য। তাহলে আমরা দ্রুতই সেই পথ খুঁজে নিবো, এবং আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে শেষ নীতিটা গ্রহণ করবো।’

তারপর শহরের কেন্দ্রীয় চত্ত্বরে শুরু হয় একটি নীরব মিছিল, একশ’ বছর আগে বা তারও বহু আগে এই চত্বরের নাম ছিলো রাজু চত্বর। সে ইতিহাসে পড়েছে, এখান থেকে ওই সময় শব্দহীনতার বিরুদ্ধে যুবক-তরুণের দল বেরিয়ে পড়েছিলো, শহীদ হয়েছিলো, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে কিন্তু তারা বিজয়ী হয়েছিলো।

নীরব মিছিল দেখে কেউ কিছু বলে না, কেউ কিছু লিখেও না। সবাই হাতে ধরে রাখে একটিমাত্র পদচিহ্নের ছায়া, সাদা কাগজে স্পন্দনের রেখা। সেই মুহূর্তে, শহরের যন্ত্রগুলো আবার সাড়া দেয়।

একটি পুরনো পিয়ানো একবারে নিজে নিজে শব্দ করে ওঠে। না, কোনো সুর নয়, বরং বিরল এক বিস্মৃতির ধ্বনি, যা এক প্রাচীন কবিতার রিদম। কেউ কখনো শোনেনি, তবু সবাই চেনে।

ওই রাতে ধ্বনি-পুলিশ শহরে প্রচার করে নতুন নির্দেশ : “যদি শব্দ না থাকে, অপরাধ নেই।” কিন্তু ততক্ষণে শহর বদলে গেছে। কোনো দেয়ালে কিছু লেখা হয়নি, কিন্তু সকালের আলো পড়তেই দেখা যায়, প্রতিটি জানালায় জমেছে একরকম বাষ্প, তাতে লেখা : “আমরা চুপ ছিলাম না, আমরা শুধু অন্য ভাষায় বেঁচে ছিলাম।”

ইরফান অনন্যার কামরায় দাঁড়িয়ে। তার হাতে একটি কাঁপমান যন্ত্র, ভেতরে বৃষ্টির লেখা কবিতার ছায়া স্পন্দিত। অনন্যার চোখে জল, কিন্তু সে বলে না কিছু। ইরফান ধীরে তার হাতে যন্ত্রটি দেয়, আর অনন্যা উচ্চারণ করে : “শব্দ নয়, এই অনুভবই এখন আমাদের ভাষা।”

প্রায় একশ’ মাইল দূরে এক নির্জন গুহায় ‘আরাধ’ বসে আছে। তার হাতে একটি অদ্ভুত কালো লাঠি, সেই লাঠিতে একটি লকলকে সাপ ফণা তুলে আছে। সে শোঁ শোঁ

আওয়াজ তুলছে। আরাধ তার শোঁ শোঁ আওয়াজে কান চেপে ধরে। শব্দ তার একদম পছন্দ নয় কিন্তু সাপের শোঁ শোঁ আওয়াজ তাকে অস্থির করে তুলছে। সে ভাবছে, একটি সাপ যদি কারও বাধা না মেনে আওয়াজ করতে পারে, যার কোনো বিবেক নেই, বুদ্ধি নেই, অথচ মানুষ কেনো আওয়াজ তুলতে পারবে না?

শহরের প্রাচীন নীতিনির্ধারকরা একটি নতুন নিয়ম প্রস্তাব করে : “যারা শব্দ ত্যাগ করবে, তারাই নাগরিক সুবিধা পাবে।” এটা এক সাংস্কৃতিক আত্মসমর্পণের রূপ। মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে, কিছু শব্দ বাঁচিয়ে রাখতে চাইবে, কিছু সুবিধার লোভে চুপ হয়ে থাকতে চাইবে।

এ সময় নীতিনির্ধারকদের একজন, যার নাম সুবোধ মিশ্র, সে প্রধান নীতিনির্ধারক আবাল সিংকে প্রশ্ন করে, ‘জনগণ যদি শব্দই করতে না পারে, তাহলে তারা মনের ভাব প্রকাশ করবে কী করে? আর যদি মনের ভাব প্রকাশ করতেই না পারে তাহলে তো একদিন তা আগুনে রূপ নিবে, আর সেই আগুন আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হবে জ্বলন্ত লাভার মতো।’

আবাল সিং উত্তর দেয়, ‘জনগণ হচ্ছে গাধার ন্যায়, তাদের ঘাড়ে যে বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হবে, তারা সেটাই বইবে। আর আমরা রাজা, আমাদের কাজ হচ্ছে শাসন করা। জনগণের কাজ হচ্ছে আমাদের শাসন মেনে চলা, এটাই রীতি আর এটাই আইনের শাসন।’

নীতি নির্ধারকদের একজন কাবিল মেহরাজ। সে প্রধান নীতিনির্ধারকের কথায় উত্তর দেয়, আমরা শাসন করবো, শোষণ করবো আর আমরা শান্তির শহরে আরামে ঘুমাবো। যেসব জনগণ আমাদেরকে শব্দের উচ্চারণে শান্তির আরামে বাধা দিবে, তাদেরকে জেলে পুরে, গুম করে, জিহ্বা কেটে, পঙ্গু বানিয়ে নীরব করে দিতে হবে। যাতে তারা টু শব্দটি করতে না পারে।’

আবাল সিং খুশি হয়। সে কাবিলের পিঠ চাপড়ে বলে, ‘দারুণ বুদ্ধি তোমার। এটা আমাদের পিতৃপুরুষদের দেশ, আমাদের পিতৃপুরুষরা ১৫০ বছর আগে এই দেশটাকে পাকিস্তানিদের কবল থেকে যুদ্ধ করে উদ্ধার করে। তারপর এই দেশের শত্রুরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পরিবারের অনেককেই নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই হত্যার প্রতিশোধ আমাকে আবারও নিতে হবে, রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে হলেও আমাদের ক্ষমতা বজায় রাখতে হবে আগামী একশ’ বছর।’

সেই রাতে শহরের সর্বশেষ যন্ত্র, একটি বিশাল স্টিম অর্গান, যা একসময় নদীপারের জাহাজঘাটায় বাজানো হতো, হঠাৎ করে নিজে থেকে জেগে ওঠে। কোনো মানুষ কাছে নেই, অথচ এক গূঢ় হাওয়ার মতো শব্দ ধীরে ধীরে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে--এটা শব্দ নয়, এটা যেন শব্দের হারিয়ে যাওয়া ছায়া।

তাসফিয়া, বৃষ্টি, ইরফান ও নাহার সেই শব্দ-সীমার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে অনুভব করে, এটা কোনো মানুষের প্রতিধ্বনি নয়। ইরফান ধীরে বলে, ‘এই শহর হয়তো শুধু আমাদের নয়, কে যেন আমাদের আগেও একবার জেগে উঠেছিল।’

সেই মুহূর্তে বৃষ্টির তরঙ্গ-ফলকে একটি নতুন কাঁপন ধরা পড়ে, তারা কেউ লেখেনি, কেউ উচ্চারণও করেনি। তবু ফলকে ফুটে ওঠে একটি লাইন:

কেউ জানে না এই বাক্যটা কোথা থেকে এসেছে। ভাষাটিও শহরের নয়, যেন কোনো ভুলে যাওয়া উপভাষা। তার মানে কি তারা বোঝে? না। তবু কাঁপনটা বুকের ভেতর রেখে যায় এক কুয়াশাময় অনুভব।

অন্যদিকে, আরাধ সেই গুহায় বসে থাকে নিঃশব্দে। কিন্তু তার সামনে কালো লাঠিটা আর নিস্তব্ধ নয়। সেই সাপটা গায়ে প্যাঁচিয়ে এক ধাতব সুরে কেবল বারবার একটা শব্দ করছে, “আলো...আলো...আলো।”

আরাধ যেন নিজেরই গলার স্বর চিনতে পারে না, তবু ফিসফিস করে বলে, ‘কিন্তু আলো যদি কণ্ঠহীন হয়, তখন কি তারও ভাষা হয়?’

তারপর ছায়ার ভেতর থেকে আরেকটি ফিসফিস আস্তে আসে, পুরনো, রুক্ষ কিন্তু আত্মীয়সুলভ : “হ্যাঁ, আর সেই ভাষা-ই সত্যের শেষ আশ্রয়।”

গুহার ভেতর হঠাৎ করে এক মুহূর্তের জন্যে অদ্ভুত আলো জ্বলে ওঠে। না, তা আগুন নয়, বিদ্যুৎও নয়। যেনো কারো শ্বাস, কেউ অনেক বছর ধরে অপেক্ষা করছিলো উচ্চারণের অনুমতির।

বাইরে তখন শহর নিঃশব্দ, অথচ কোথাও যেন পাথরের গায়ে নিজে থেকেই খোদাই হতে থাকে ছায়ায় লেখা কিছু চিহ্ন--“একশত বছর ঘুমিয়ে থেকে আমরা জেগে উঠেছি, কিন্তু কে ডেকেছিল, তা এখনো জানি না।”

কথাগুলো কে বলে তা শোনার জন্যে আরাধ গুহা থেকে বের হয়, সে সামনে দেখতে পায় এক যুবক দু হাত ডানে বামে প্রসারিত করে বুক পেতে আছে গুলি খাওয়ার জন্যে। তাকে আরাধ প্রশ্ন করে, ‘কে তুমি? কী চাও।’

‘আমার নাম সাইদ। আমি একশ’ বছর আগে মৃত্যুকে নির্ভয়ে আলিঙ্গন করেছিলাম এই দেশের নিঃশব্দতা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে। আমাদের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিলো, আমাদেরকে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছিলো। কিন্তু আমরা মানিনি, আমরা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলাম। এরপর মরেছিলাম হাজার হাজার। তারা বলেছিলো, ‘একটা মরে, একটাই পড়ে, কিন্তু বাকিডি যায় না স্যার।’ আমরা ভয় পাইনি, তাই আমাদের জয় হয়েছিলো। কিন্তু গত একশ’ বছরে আবার সেই দানব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, সবাইকে কণ্ঠরোধ করে ভেড়া বানিয়ে রেখেছে। তোমরা কি জাগবে? নাকি ভেড়ার পালের মতো সারাজীবন ঘাস খাবে আর কোরবানির জন্যে প্রস্তুত থাকবে?

আরাধ এ কথা শুনে আরও সামনে এগিয়ে আসে, তারপর সাইদের সাথে করমর্দনের জন্যে আরও সামনে এগিয়ে যায়। এ সময় হঠাৎ করেই সব আলো নিভে যায়। কিন্তু সাইদ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থেকে বলে, ‘তুমি আমাকে আর ছুঁতে পারবে না। তোমরা এখনও মৃতদের শহর দেখোনি। আমরা মৃতদের শহরে আছি। তোমরাও একদিন আমাদের শহরে আসবে, তবে এখানে আসতে হলে তোমাকে বীরের মতো সাহসের সাথে মরতে হবে।’

এ সময় আকাশে মেঘের গর্জন শোনা যায়, সাথে সাথে কোথায়ও বজ্রপাত হয়। বজ্রের আলোয় আরাধ দেখতে পায় আরাধ ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে, কিন্তু তার রক্তমাখা একটা শার্ট স্পষ্ট হয়ে আছে আরাধের চোখের পাতায়।

রক্ত। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সাইদ। তারপরও সে বলেই যাচ্ছে, ‘বিপ্লব। যে মরতে জানে সে হাজার বছরও বেঁচে থাকতে জানে, নিঃশব্দে মানুষের হৃদয়ের মাঝে।’

আবারও বজ্রপাত হলো গুহার পেছন দিকটায়। সাইদকে আর দেখা যাচ্ছে না। সে নিকষ কালো অধ্যায়ের মতোই হঠাৎ করে হারিয়ে যায়।

সেদিন রাতেও সবার অগোচরে আরেকটি খুন হলো। জামশেদ তার বাহিনী নিয়ে এসে দেখলো এবার কলেজ মাঠে পড়ে আছে এক রক্তাক্ত নারী। টর্চের আলোতে দেখা গেলো মেয়েটি ইরিনা।

সেদিনও আবার সবাইকে হাজির করা হয়। ইরফান, ইমতিয়াজ, অনন্যা, বৃষ্টি, তাসফিয়াসহ সবাই একে ইরিনাকে রক্তাক্ত দেখে। কিন্তু মেয়েটি নড়াচড়া করছে, যেনো এই মাত্র তাকে খুন করা হয়েছে। অনন্যা তার কানের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করে, ‘তোমাকে রক্তাক্ত করছে কে?’

ইরিনা চোখ মেলে তাকায়, তারপর আরাধের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে।

জামশেদ এসে তার গলায় পরীক্ষা করে বলে, ‘মেয়েটি মারা গেছে। মৃত্যুর আগে সে আরাধকে দেখেছে, তাই তার দিকে তাকিয়ে ছিলো। যাই হোক, আমি ও আমার বাহিনী এ মৃত্যুগুলোর রহস্য সহসাই উদ্ঘাটন করবো। তারপর যে কালপ্রিট তাকে এমন শাস্তি দিবো, যাতে আর কোনোদিন কারও উপর আঘাত করার সাহস না পায়।’ (চলবে)

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়