প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৯
তনুর প্রতিদিনই একেকটা নববর্ষ

গ্রামের এক কোণে, রাস্তার ধারে ছোট্ট পলিথিনের ঘরে থাকে তনু আর তার মা। তনুর মা অসুস্থ, তাই বেশিরভাগ সময় শুয়েই থাকেন। সংসারের সব দায়িত্ব এসে পড়েছে ছোট্ট তনুর কাঁধে।
ভোর হলেই তনু একটা পুরোনো বস্তা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। যাওয়ার আগে মাকে একটু পানি ও ঔষধ খাইয়ে দেয়, আর নিজে খেয়ে নেয় আগের দিনের পান্তা ভাত। ওর কাছে এটা কোনো বিশেষ খাবার না, এটাই ওর শক্তি জোগানোর খাবার।
সারাদিন তনু গ্রামে গ্রামে ঘুরে পুরোনো বোতল, কাগজ, লোহা, যা পায় কুড়িয়ে নেয়। রোদ, বৃষ্টি, ধূলো, কিছুই ওকে থামাতে পারে না। বিকেলের দিকে সে ভাঙারির দোকানে গিয়ে সব বিক্রি করে। যা টাকা পায়, তা দিয়ে একটু চাল, ডাল কিংবা শাকসবজি কিনে বাড়ি ফেরে।
সেদিন গ্রামে সবাই আনন্দ করছিল। সবাই নতুন কাপড় পরে, পান্তা-ইলিশ খেয়ে গান গাচ্ছিল। পাশের এক ছেলে তনুকে জিজ্ঞেস করল, তুই আজ পহেলা বৈশাখ জানিস?
তনু বলল, না জানি নাতো।
ছেলেটি বলল, আজ বছরের প্রথম দিন। এইদিন পান্তা ভাত খেতে হয়।
তনু একটু হেসে বলল,আমি তো প্রতিদিনই পান্তা ভাত খাই। তাহলে তো আমাদের প্রতিদিন বছরের প্রথম দিন। প্রতিদিন তো পান্তাই খাই।
ছেলেটি বিষয়টি বুঝতে পেরে আর কোন কথা বলল না।
তনু একা একা ভাবল,আমার মা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। যেদিন সুস্থ থাকে। দুই জন এক সাথে খেতে পারি সেই দিন আমার কাছে আনন্দের দিন।
তনু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলো। মনে মনে ভাবলো, আজ বছরের প্রথম দিন। মাকে নিয়ে এক সাথে খেতে পারলে ভালো হয়। আমরা তো প্রতিদিন ভাত খাই-ই। আজ মার সাথে গরম ভাত খাবো।
রাতে তনু একটু ভালো করে ভাত রান্না করল। মাকে খাইয়ে নিজেও খেল। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, মা আর আমি দু’জন একসাথে আছি। দু’জন এক সাথে খেলাম। এটাই আমার উৎসব।
তনুর কাছে পান্তা ভাত কোনো শখের খাবার না, প্রয়োজনের খাবার। আর আনন্দ মানে বড় আয়োজন না, মায়ের মুখে একটুখানি হাসি। তাই তনুর জীবনে প্রতিদিনই একেকটা নতুন দিন, একেকটা নববর্ষ।








