সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:১৩

মনসুর আজিজের কবিতায় মৃত্যুচিন্তা

মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
মনসুর আজিজের কবিতায় মৃত্যুচিন্তা

‘জীবন’ ও ‘মৃত্যু’ পৃথিবীর প্রাচীন ভাবনাগুলোর অন্যতম। জীবনের আলোচনায় যেমন মৃত্যু আসবে, তেমনই মৃত্যুবিষয়ক চিন্তা জীবনকে বাদ রেখে করা সম্ভব নয়। জার্মান দার্শনিক মার্টিন হাইডেগার (১৮৮৯-১৯৭৬) মনে করতেন, মৃত্যুভাবনা বা মৃত্যু চেতনা মানুষের কোনও দুর্বলতা নয়। বরং এটি হলো অস্তিত্বের শক্তি ও ক্ষমতা। কেননা জীবন মৃত্যু অভিমুখী। তাঁর মতে, সার্থক মানবসত্তা তাঁর সমগ্র জীবন দিয়ে মৃত্যুকে সাক্ষাৎ করে। জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) বলেছেন, ‘মৃত্যুর মতো শান্তি চাই’। মৃত্যু কেবল শারীরিক নয়, মানসিক, আদর্শিক এবং আধ্যাত্মিকও। এমন কবি সম্ভবত নেই, যাঁর লেখায় মৃত্যুচিন্তা আসেনি।

মনসুর আজিজ নব্বই দশকের কবি। তাঁর কবিতায় স্বদেশপ্রেম, প্রতিবাদ, ইসলামী ঐতিহ্যের উপস্থাপন, গ্রামীণ যাপনের অনুষঙ্গ বারবার এসেছে। কবি কখনও কবিতাকে সময়ের দর্পণ করেছেন, কখনও ব্যবহার করেছেন প্রতিরোধের অস্ত্র হিসেবে। তাঁর বিভিন্ন কবিতায় ‘মৃত্যু’ প্রসঙ্গ এসেছে সহজাতভাবে। মানুষের শারীরিক মৃত্যুর জন্যে তিনি যেমন ব্যথিত হয়েছেন, তেমনই মেরুদণ্ডহীন মানুষের মানসিক মৃত্যু তাঁকে বিক্ষুব্ধ করেছে। সব মিলিয়ে তাঁর মৃত্যুচিন্তা বিষয়ক কবিতাগুলো বৈচিত্র্যপূর্ণ।

মানুষের জীবন আনন্দ-বেদনায় কখনও রঙিন, কখনও রঙহীন। সুসময়ে মানুষ ছুটতে থাকে দিগ্বিদিক। সংসার গোছায়, অর্থকড়ি নিয়ে কাড়াকাড়ি করে। কিন্তু মৃত্যুর অনিবার্য পরিণতি কেউ এড়াতে পারে না। মানুষকে ধীরে ধীরে মিশে যেতে হয় মাটির শরীরে। মনসুর আজিজের ‘জ্বলছে আকাশ জ্বলছে দুপুর’ কবিতায় তেমনই এক উপলব্ধির সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। কবির ভাষ্য :

কিন্তু নিজের জীবন নিয়ে ভাবিনি তো একটুখানি

আমার লাশের পাহারা দেয় কাঁচা বাঁশের কঞ্চিখানি

কোথায় আমার নিদ-মহলের চাকর নফর

আজকে আমার দেহে কেনো মাটির কাপড়!

প্রতিটি জীবন বন্ধুর যাত্রার গল্পকথক। পথে পথে বাধা, বিঘ্ন, জঞ্জাল। এসব পাড়ি দিয়ে জীবনকে শুদ্ধ করার কাজ সহজ নয়। সেজন্যে রক্তজবার চাষ করে শুদ্ধমালি হতে হয়। তাই এ কাজটিও কঠিন। ‘রক্তজবার চাষ’ কবিতায় মনসুর আজিজ তা-ই লেখেন :

দুচোখ দিয়ে দেখছি ধু ধু; পাথর ছুঁড়ে মারছে কারা

আমার লাশের উপর কেনো শকুনিরা বানায় পাড়া

ফারাওদের মমিগুলো প্রাণ ফিরে পায় আবার কেনো

বাটখার্টার অট্টহাসি প্রাণ কেড়ে তার নিচ্ছে যেনো।

প্রতিবন্ধকতা থাকলেও রক্তজবার চাষ বন্ধ হয় না। মন্দের উৎপাত এবং বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা শিকার করতে হলেও শুদ্ধমালিই সচেতন মানুষের আরাধ্য।

জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা ব্যাধির দৌরাত্ম্য। আক্রান্ত মানুষ জানে প্রতিটি রাত কতো গভীর। মনসুর আজিজ গ্রামীণ জীবনের নানা বিষয়ে কবিতা লিখেছেন। এ সময়ের কবিতায় কম আসা দৃশ্যপটগুলোর প্রতি কবি সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। তাঁর কোনো কোনো কবিতা পাঠের সময় কবি জসীমউদদীনের সাদৃশ্য চোখে পড়ে। ‘মধ্যরাতের আলাপন’ কবিতাটি আঞ্চলিক ভাষায় লিখিত। জ্বর আক্রান্ত মাঝির জীবন-সংকট কবিতার উপজীব্য। কন্যার ভাষ্যে কবি জানাচ্ছেন, কালজ্বরে মাত্র দুদিনে বাজানের শরীর ভেঙে গেছে। মুখে অরুচি। কিন্তু তাকে সুস্থ করতে কন্যার যত্ন-আত্তির ত্রুটি নেই। কবিতায় তার উদ্বেগ ও অসহায়ত্ব লক্ষণীয়। বাজানের কালজ্বর দূর করতে সে যমযমের পানিও এনেছে। কবি সেই দৃশ্যায়ন করেছেন এভাবে :

বাজানের কোনো রাও নাই; ‘ও বাজান কতা কও’

বাজানে চউক খোলে মরা মাছের মতোন

শইলে তেল ডলি; আতে পাওয়ে-কতো যতন

‘ও বাজান, আজী বাইতথন আনছি যমযমের পানি; এট্টু মুহে লও’।

কিন্তু বাজান শেষ পর্যন্ত বাঁচেন না। সন্তান মইরমের চোখের সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। আর ‘চিক্কুর দিয়া মইরম বুক ভাসায়’। এ কবিতাটি গল্পের ছলে আমাদের নিয়ে সামিল করে মাঝির মৃত্যুদৃশ্যে। পাঠক স্বজন হারানোর বেদনা অনুভব করেন।

শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ‘রক্ত’। রক্ত মানেই জীবনীশক্তি। আবার রক্ত ডেকে আনে সংগ্রাম ও মৃত্যু। ‘জীবনের সামিয়ানা’ কবিতায় কবি জানাচ্ছেন, রাশিফল না বুঝলেও ভাগ্যের অদৃশ্য শক্তি তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। কবি বিভিন্ন গ্রহকে প্রতীকায়িত করে কবিতায় মানুষের আবেগ, দুঃখ ও সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। পঙক্তিগুলোতে যাপনের টানাপোড়েন স্পষ্ট। সেজন্যে কবি প্রকৃতির কাছে প্রশান্তি খুঁজেছেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন রক্তই জীবনের মূল আচ্ছাদন। এটি জীবন-মৃত্যু দুয়েরই প্রতীক। মনসুর আজিজ লিখেছেন :

তবুও রক্তের ভেতরে রক্ত খেলা করে

রক্ত ডেকে আনে মৃত্যু

রক্তের বাঁধন জীবনের সামিয়ানা।

মৃত্যু জেনেও আধুনিক পৃথিবীর বাসিন্দারা প্রচণ্ড গতিতে ছুটছে। অর্থ, ক্ষমতার লোভে ভুলে যাচ্ছে মানবিক গুণাবলি। ফলে সমাজে-রাষ্ট্রে অনাচার বাড়ছে। পৃথিবীর জটিলতা, ক্ষমতার লালসা, লুণ্ঠন ও মানবতার অবক্ষয় দেখে কবি হতাশ হয়েছেন। বাস্তবজীবনে অলৌকিকতা ও প্রশান্তি নেই। আছে শুধু ক্লান্তি, লুটপাট, দুর্দশা ও মানবতার পতন। এই দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে কবির আত্মা চায় এক অনন্ত, শান্ত ও শুদ্ধ আশ্রয়। ‘আত্মার বসতি’ কবিতায় এ ধ্বনিই অনুরণিত হয়েছে। এই নির্দয় বাস্তব থেকে মুক্ত হয়ে কবি আত্মার সাথে আত্মার মিলনে, প্রার্থনার মাধ্যমে অনন্ত জীবনে পদার্পণ করতে চান। কবির প্রত্যাশা : ‘এখানে আর নয় মুহূর্তের বিকিকিনি/কালের অবক্ষয়/তসবির গোটাগুলো ঝরে গেছে/কর্পুরের মতো উড়ে গেছে মনুষ্যত্ব/আমাকে পৌঁছে দাও অনন্তের কাছে/প্রার্থনায় গড়ে তুলি আত্মার বসতি।’

এ প্রসঙ্গে ‘একটু তাচ্ছিল্যের হাসি’ কবিতার কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। কবির মতে, বাতাসের ঝাপটা মানুষের চুলে সিঁথি, স্মৃতি, সভা, মিছিল, টাকার তোড়া, সন্ত্রাসীর টার্গেটও এলোমেলো করে দেয়। অথচ মৃতরাই এ পৃথিবীতে ভালো থাকে। তাদের চুল, চিন্তা কিংবা দৃষ্টি কখনও এলোমেলো হয় না। মনসুর আজিজ লিখেছেন, মৃতরা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়ে দু ঠোঁটে পৃথিবীর জন্যে রেখে যায় তাচ্ছিল্যের হাসি। কেন এই তাচ্ছিল্য তা সচেতন পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হয় না। এভাবে কবি মৃতদেরও জাগ্রত প্রতিবাদে সামিল করেন। এ কবিতাটি আমাদের জীবনানন্দ দাশের ‘আট বছর আগের একদিন’ কবিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। “লাশকাটা ঘরে/সেই ক্লান্তি নাই;/তাই/ লাশকাটা ঘরে/চিৎ হ’য়ে শুয়ে আছে টেবিলের ’পরে।”

মৃত্যু নানাভাবে হাজির হয় মানবজীবনে। প্রকৃতির তাণ্ডবে জলে-স্থলে চলে মৃত্যুর মিছিল। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবন। এ ধরনের মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করেছেন কবি। তাঁর এ ধারার অন্যতম কবিতা ‘সিডর’। কবি দেখেছেন যেখানে নবান্ন উৎসব হতো সেখানে আজ বিলাপ। পানিতে ভাসছে লাশ, দখিনা বাতাসে মৃতদেহের গন্ধ। একটি মৃত্যু যেন আরেকটি মৃত্যুকে টেনে আনছে। মৃত্যুর এতো তাণ্ডব যে, কাফন, জানাজা কিংবা মিলাদেরও অবস্থা নেই। কবির ভাষ্য : ‘এখানে মানুষ বেঁচে নেই, বেঁচে আছে জীবন্ত লাশের উপর কিছু মৃত্যু’। দীর্ঘ কবিতাটি শেষ হয় আশাবাদ দিয়ে। কবি বিশ্বাস করেন, এতো মৃত্যুর পরেও জীবন থেমে থাকবে না। মানুষ ঘুরে দাঁড়াবে, নতুন করে স্বপ্ন বাঁধবে। এটাই জীবনের জ্যামিতি।

কিছু মৃত্যু প্রাকৃতিক, আবার অনেক মৃত্যুকূপ তৈরি হয় শাসকের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে কিংবা অবহেলায়। রানা প্লাজা ট্রাজেডি তেমনই উদাহরণ। মনসুর আজিজ ‘অচেনা লাশের দেশ’ কবিতায় সে-দৃশ্য তুলে ধরেছেন। অসংখ্য লাশ। কোনোটি শনাক্ত হচ্ছে, আর কোনোটি যাচ্ছে বেওয়ারিশ খাতায়। মর্মাহত কবি রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ। তাঁর মনে হয়, ‘এ কোন পাষাণ খুলেছে বেকারি/মানুষের লাশ দিয়ে বানায় স্যান্ডউইচ’।

কবিদের দেশকাল সীমানা থাকে না। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে অনাচার, শোষণ, নির্মমতা হলে কবিমন কাঁদে। সেই কান্না ও ক্ষুব্ধস্বর পরিণত হয় কবিতায়। মনসুর আজিজের কাব্যভাবনায় আন্তর্জাতিকতা রয়েছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি পশ্চিমাদের বর্বরতায় ক্ষুব্ধ, ক্ষত-বিক্ষত। কবি অবাক হন, ইরাক জ্বলছে, ফিলিস্তিনে হামলা হচ্ছে--অথচ আরববিশ্ব পশ্চিমাদের তাঁবেদারি করছে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ প্রতিবাদহীন। যেন তাদের বোধের দুয়ারে তালা লেগেছে। ‘বোধের অনবরত নক্ষত্র’ কবিতায় মনসুর আজিজ বোধহীন মগজকে জাগিয়ে তুলতে চেতনায় হাজার মৃত্যুর কাফন বেঁধে দিতে চান। তাঁর সামনে একশো ত্রিশ কোটি মুসলমানের করুণ মুখ ভাসে। ক্ষুব্ধ-ভারাক্রান্ত কবি বলেন : ‘আমাকে ওমরের তরবারিটি দাও/সবার আগে হত্যা করি নিজেকে’। ওমর কি নিজেকে হত্যা করতেন? নাকি শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মেতে উঠতেন? মনসুর আজিজ নিজেকে হত্যার কথা বলে মূলত বোধহীন মানুষের বোধহীনতাকে হত্যার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কেননা, এভাবে বেঁচে থাকা লজ্জাজনক।

অন্যদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনও কবিকে ব্যথিত করে। ‘পুড়ছে আরাকান, পুড়ছে মানবতা’ কবিতায় মনসুর আজিজ তুলে গণহত্যার কথা। তিনি জাতিসংঘ কিংবা বিশ্ব মোড়লদের নিশ্চুপ থাকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। অতঃপর জানান, ‘মনে রেখো ন্যাড়ামাথা গেরুয়া/ইতিহাস রক্তের বদলা নেয়-/তেমনি-জ্বলে পুড়ে রোহিঙ্গাও তোমাদের পোড়াবে একদিন।’

মৃত্যুকে জলাঞ্জলি দিতে না পারলে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কবি প্রত্যক্ষ করেছেন, মৃত্যুভয়ে মানুষ কাতর। ফলে অনিয়ম, অনাচারে তারা প্রতিবাদ করে না। নিজেদের প্রাণ বাঁচাতেই তারা ব্যস্ত। কিন্তু পৃথিবীর সকল আন্দোলনে রক্ত দিয়ে মানুষ অধিকার অর্জন করেছে। ‘বিক্ষুব্ধ অন্তরগুলো মিছিল করবে’ কবিতায় কবি আত্মত্যাগী যুবকের অনুসন্ধান করেছেন। যারা প্রতিটি অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে মিছিল করবে নিরন্তর।

কবি মৃত্যুকে ভয় পান? মৃত্যু কবির কাছে জীবনের সূচনা। ‘মৃত্যুবিষয়ক পঙক্তি’ কবিতায় মনসুর আজিজ মৃত্যুকে জানতে চান নিবিড়ভাবে। তিনি প্রশ্ন করেন, মৃত্যু কি সুবাসমাখা ফুল কিংবা অজানা বন্দর? কবিতা শেষে তাঁর উললব্ধি : ‘মৃত্যু তবে জীবন ফেরি করে/জীবন নিয়ে জীবনটাকে ভরে’। আবার ‘জেব্রাক্রসিং’ কবিতায় মৃত্যুকে কবির অলঙ্ঘ্য জ্রেবাক্রসিং মনে হয়। কিন্তু তিনি মৃত্যুভয়ে ভীত নন। অপর জীবনের মুখোমুখি হতে তিনি জেব্রাক্রসিং পার হতে দ্বিধা করেন না। তাঁর মৃত্যুচিন্তা বিষয়ক অন্য কবিতাগুলোর মধ্যে ‘জলকবর’, ‘মৃত্যু বারান্দা’, ‘মৃত্যু’ উল্লেখযোগ্য।

ইসলামী ভাবপ্রবাহ মনসুর আজিজের কবিতার অন্যতম সৌন্দর্য। তাঁর প্রায় অধিকাংশ কবিতায় ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত অনুষঙ্গের উপস্থাপন রয়েছে। মৃত্যু সংক্রান্ত ভাবনায় তিনি সকল মুসলমানের মতো পুনরুত্থানে বিশ্বাস করেন। ‘মাটিমুখিতা’ এ সংক্রান্ত একটি লেখা। কবিতার সমাপ্তি হয়েছে এভাবে :

মানুষ মূলত মাটিমুখি

সন্তুষ্টি

ধ্বংস

উত্থান

পুনরুত্থান

সবকিছু...

তিনি কেবল মানবজীবনের মৃত্যু নিয়ে বেদনার্ত নন, প্রকৃতির মৃত্যু ও ধ্বংসের বিষয়েও তিনি প্রতিবাদমুখর। তাই তাঁর কবিতায় পাখি, নদী, বৃক্ষের জীবনপরিক্রমাও উঠে এসেছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে। এ স্বাতন্ত্র্যের গুণে ‘বসন্ত বিলাপ’ কবিতায় তিনি গাছকে ‘বিধবা’ বলতে পারেন।

মনসুর আজিজের মৃত্যুচিন্তায় নৈরাজ্য ও হতাশা নেই। তিনি মৃত্যুকে গ্রহণ করেছেন স্বাভাবিকভাবে। তাঁর বহু কবিতার অনুষঙ্গ মৃত্যু বিষয়ক হলেও সেগুলোতে মূলত জীবনের জয়গানই করা হয়েছে। কবি এখানে নৈরাশ্যবাদী নন, বরং শান্ত, দৃঢ় প্রত্যয়ী ও আশাবাদী। এটিই তাঁর কবিতার শক্তি ও সৌন্দর্য।

মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : লেখক ও গবেষক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়