প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০৫
ফরিদগঞ্জে এইচএসসিতে বড় বিপর্যয়, আলিমে অপেক্ষাকৃত ভালো
এইচএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন

ফরিদগঞ্জে বিগত বছরগুলোর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে আলিমের চেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকলেও এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। সদ্য ঘোষিত ২০২৬ সালের ফলাফলে এইচএসসিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এর বিপরীতে এইচএসসি (বিএম) এবং আলিমে পরীক্ষার্থীরা অপেক্ষাকৃত ভালো ফল করেছে।
|আরো খবর
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলায় এইচএসসিতে পাসের হার ৪১.৯১ শতাংশ, এইচএসসি (বিএম)-এ ৮৫.৫৩ শতাংশ এবং আলিমে ৬১.৯৬ শতাংশ।
এবার উপজেলার ৭টি কলেজ থেকে এইচএসসিতে মাত্র ৬ জন জিপিএ-৫ (এ প্লাস) পেয়েছে। অন্যদিকে এইচএসসি (বিএম) শাখা থেকে ৩ জন এবং আলিম থেকে ১৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় এইচএসসি ও সমমানে মোট ২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে আলিম পরীক্ষার্থীরা।
ফলাফলের সর্বনিম্ন চিত্রে দেখা যায়, আলিমে উপজেলার রামপুর বাজার ডি এস ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সর্বনিম্নে মাত্র ৪.৫৫ শতাংশ এবং এইচএসসিতে চির্কাচাঁদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এইচএসসি (সাধারণ) : উপজেলার ৮টি কলেজ থেকে মোট ১,৬৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭০৯ জন। পাসের হার ৪১.৯১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ থেকেই ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড করেছে চির্কা চাঁদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩ জন। অন্যদিকে ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ৩৬২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯৯ জন পাস করেছে, যেখানে পাসের হার ২৭.৩৫ শতাংশ।
এইচএসসি শাখায় তুলনামূলক ভালো ফল করেছে শোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পাসের হার ৫৫.৫৬%), গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ (৪৯.৪৯%), গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজ (৪৭.১৭%) এবং কালির বাজার কলেজ (৪৫.০৭%)।
এইচএসসি (বিএম শাখা): এইচএসসি (বিএম) শাখায় ২টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন এবং সার্বিক পাসের হার ৮৫.৫৩ শতাংশ। এর মধ্যে মূলপাড়া শামছুদ্দিন খান কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজ থেকে ৩ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং তাদের পাসের হার ৮৫.৫১ শতাংশ।
আালিম : উপজেলার ২৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৬৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪১২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন এবং পাসের হার ৬১.৯৬ শতাংশ।
আলিমে সর্বনিম্ন ফল করেছে রামপুর বাজার ডি এস ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ১ জন (পাসের হার ৪.৫৫%)। ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩ জন পাস করেছে, যেখানে পাসের হার ১৩.৬৪ শতাংশ।
অন্যদিকে আলিমে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো ফল উপহার দিয়েছে। এর মধ্যে মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা ৩টি জিপিএ-৫-সহ ৮৮ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে। এছাড়া কাওনিয়া হানাফিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৮৯.৬৬ শতাংশ, মুন্সিরহাট ইদ্রিসিয়া হাবিবিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৮৮.৫৭ শতাংশ এবং পুরান রামপুর আ. রব সিনিয়র মাদ্রাসায় পাসের হার ৮৭.৮৮ শতাংশ।







