শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুর মাছঘাটে প্রচুর ইলিশ, কমেছে দাম

আব্দুল্লাহ আল মামুন।।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুর মাছঘাটে প্রচুর ইলিশ, কমেছে দাম

দীর্ঘ ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ ধরা শুরু হতেই চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকেই ঘাটে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির তাজা নদীর মাছের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সরবরাহ বাড়ায় রূপালি ইলিশের দামও এসেছে সাধারণের নাগালে, যার ফলে প্রিয় ইলিশ কিনতে ঘাটে ভিড় জমিয়েছেন শত শত ক্রেতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বড় স্টেশন মাছঘাটের প্রতিটি আড়তের সামনে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে রূপালি ইলিশ। আড়তজুড়ে চলছে হাঁকডাক ও দরদাম। জেলে, আড়তদার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের কর্মব্যস্ততায় পুরো মাছঘাটজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, আগে যে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, শুক্রবার তা কমে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে মাছের মান, আকার ও প্রাপ্তিস্থানভেদে দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ী মো. মুন্না জানান, সকালে ঘাটে ট্রলার ভিড়তেই সরবরাহ বহুগুণ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বাজারে নতুন ইলিশের চাহিদা প্রচুর। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে নদী থেকে ইলিশ পাওয়ার আসল পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

অন্য এক ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার খাঁটি ইলিশের স্বাদ ও মান আলাদা হওয়ায় এর দাম তুলনামূলক একটু বেশি। চাঁদপুরে পাওয়া এক কেজির ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বরিশাল ও সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে আসা মাছের দাম কিছুটা কম। আগামী দু-একদিন যারা মাছ কিনবেন, তারা তুলনামূলক কম দামেই পাবেন।"

ব্যবসায়ী মো. হারুন জানান, শুক্রবার তিনি একাই বিভিন্ন আড়তে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ সরবরাহ করেছেন। দাম সহনশীল থাকায় ক্রেতারাও স্বاচ্ছন্দ্যে মাছ কিনছেন।

এদিকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, "মা ইলিশ রক্ষায় টানা ২২ দিন নদীতে মাছ ধরার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় এ অভিযান সফল হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কম হওয়াটা অত্যন্ত ইতিবাচক। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে জেলেরা আরও বেশি মাছ পাবেন এবং দেশের মানুষ এই সরকারি উদ্যোগের সুফল ভোগ করবে।"

অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সজীব ইলিশ বাজার চাঁদপুর’-এর স্বত্বাধিকারী সজীব চন্দ্র দাস জানান, শুক্রবার তিনি অনলাইনে সারা দেশে প্রায় ১৫০ কেজি ইলিশ, ১০০ কেজি পাঙাশ এবং ৮০ কেজির মতো অন্যান্য নদীর মাছ বিক্রি করেছেন। সরবরাহ ভালো থাকলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই লাভবান হন।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর ইলিশের প্রচুর সরবরাহ, দামের পতন এবং ক্রেতা-বিক্রেতার বিপুল উপস্থিতিতে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট যেন পুরনো রূপে কিছুটা ফিরে পেয়েছে রূপালি ছোঁয়া।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়