মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৫২

পৌর অর্থায়নে নির্মিত ‘ওনূআ’ ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে লিফলেট বিতরণ অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক
পৌর অর্থায়নে নির্মিত ‘ওনূআ’ ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে লিফলেট বিতরণ অব্যাহত

ওয়ালীউল্লাহ নওজোয়ান, নূরেজ্জামান ভূঁইয়া ও আইউব আলী খান—ফরিদগঞ্জের এই তিন মহান ব্যক্তিত্বের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘ওনূআ স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার’।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, প্রয়াত এই তিন গুণী একাধারে বিশিষ্ট শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। শিক্ষা ও রাজনীতি ছিল তাঁদের ব্রত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমি দান, বিনাবেতনে শিক্ষকতা এবং নির্লোভ রাজনীতি করার মতো অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তাঁরা। তাঁদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় তাঁদের স্মৃতিতে একটি পাঠাগার ও ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।

পাঠাগারটি উদ্বোধন করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আকমল হোসেন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আবিদুর রেজা। অন্যদিকে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শেখ সাদী ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন সচিব খান মো. বেলায়েত হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীম আক্তারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কতিপয় দুর্বৃত্ত ঐতিহাসিক এই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে ‘ওনূআ স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার’-এর দাবির মুখে তৎকালীন ইউএনও ও পৌর প্রশাসক সুলতানা রাজিয়া পৌরসভার টেন্ডারের মাধ্যমে তিন মহান ব্যক্তির ভাস্কর্য পুনঃনির্মাণ করেন, যা বর্তমানে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ভাস্কর্যটি যথাস্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, যে অপশক্তি নেপথ্যে থেকে দুর্বৃত্তদের দিয়ে ভাস্কর্যটি ভাঙিয়েছিল, তারাই এখন এটি পুনঃস্থাপনে বাধা দিচ্ছে। তারা কোনো সৎ ও নৈতিক চিন্তার মানুষ হতে পারে না। ভ্রান্ত চিন্তাধারায় প্রভাবিত না হয়ে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের প্রায় সকল মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রেই ভাস্কর্য রয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ৮টি মুসলিম দেশের বিভিন্ন ভাস্কর্যের আলোকচিত্র সম্বলিত একটি বিশেষ লিফলেটও প্রকাশ ও বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া গাজীপুরে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, খাগড়াছড়িতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাস্কর্য বিদ্যমান। একইসঙ্গে ‘জুলাই জাদুঘর’ প্রাঙ্গণে শত শত ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি নির্মিত হতে পারলে ফরিদগঞ্জের এই তিন ঐতিহ্যবাহী গুণী ব্যক্তিত্বের ভাস্কর্য কেন পুনঃস্থাপন করা যাবে না—সেই প্রশ্ন তোলা হয়।

ওনূআ স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার অবিলম্বে ভাস্কর্য ভাঙচুরকারী ও পুনঃস্থাপনে বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে রক্ষিত ভাস্কর্যটি কালবিলম্ব না করে পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপনের জন্য পৌর প্রশাসকের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়