প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০৬
হাইমচরে এইচএসসি ও আলিমে পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ
জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন
হাইমচর উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫৮০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ২৩১ জন। সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৯.৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী।
|আরো খবর
উল্লেখ্য, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ৬১০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হলেও আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো সাফল্য দেখিয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ৪টি কলেজ থেকে ৪৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৬৪ জন। পাসের হার ৩২.৯৩ শতাংশ। এ পরীক্ষায় উপজেলায় প্রাপ্ত ৩টি জিপিএ-৫-এর সবই এসেছে কলেজ থেকে। অন্যদিকে, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার ৩টি মাদ্রাসা থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৭ জন। পাসের হার ৮১.৭১ শতাংশ। তবে আলিম পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, কলেজগুলোর মধ্যে হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়ে ৪৪০ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২৩ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৪৪ জন। পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন। দুর্গাপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৬ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৮ জন, পাসের হার ৩২ শতাংশ। মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজে ৪১ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১০ জন, পাসের হার ২৫.৬৪ শতাংশ। মালেরহাট যুব সংঘ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ১২ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ২ জন, পাসের হার ১৮.১৮ শতাংশ।
অন্যদিকে মাদ্রাসাসমূহের আলিম পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, আলগীবাজার আলিম (সিনিয়র) মাদ্রাসায় ৪৩ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩২ জন, পাসের হার ৮৮.৮৯ শতাংশ। গণ্ডামারা আবুবকর ছিদ্দিকী ফাজিল মাদ্রাসায় ২৯ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২২ জন, পাসের হার ৭৮.৫৭ শতাংশ। এছাড়া কাটাখালী হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১৯ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৩ জন, পাসের হার ৭২.২২ শতাংশ।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। বিশেষ করে কয়েকটি কলেজে পাসের হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই চরম বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি, ক্লাসে অনুপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা নাকি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার খামখেয়ালিপনা দায়ী—তা নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।








