প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০
সংসদের মর্যাদাহানি প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক আচরণবিধি চালুর তাগিদ টিআইবির

কিশোরী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, সংসদ সচিবালয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন ও তাঁর বাবাকে সরকারি ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি; পরবর্তীতে মরিয়মকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি, দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার এবং মরিয়মের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার ও চার দিনের রিমান্ড—এসব গুরুতর ঘটনার পরও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদ বহাল থাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
|আরো খবর
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি মরিয়মের মৃত্যু ও তার আগে 'সেক্সটরশন' (যৌন ব্ল্যাকমেইল)-এর নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে, সংসদ সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডে জাতীয় সংসদের মর্যাদাহানি প্রতিরোধে মাননীয় স্পিকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের জন্য অবিলম্বে বাধ্যতামূলক 'নৈতিক আচরণবিধি' প্রণয়নের দীর্ঘদিনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। কিন্তু সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি সংসদ সদস্যপদে বহাল থাকবেন—তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় রিমান্ডে থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে এমপি থাকেন কীভাবে? অন্য জনপ্রতিনিধিরাই বা বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?"
তিনি আরও বলেন, "একজন সংসদ সদস্যকে ঘিরে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ জাতীয় সংসদের জন্য চরম লজ্জাজনক। ফৌজদারি অপরাধের বিচার আদালত করবেন; কিন্তু সংসদ সদস্যের নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সংসদেরই। তাই তাঁর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করতে হবে।"
সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে ড. জামান জানান, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে এমপি পদে থাকার অযোগ্যতা তৈরি হয়। ফলে বর্তমান রিমান্ড বা দলীয় সিদ্ধান্তই সাংবিধানিকভাবে পদ বাতিলের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে এ আইনগত সীমাবদ্ধতা যেন নৈতিক স্খলনের রক্ষাকবচ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। গুরুতর নৈতিক স্খলন, স্বার্থের সংঘাত বা ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে পদ বাতিল বা আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।
ড. জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদ সদস্যদের নৈতিক স্খলনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন গবেষণায় এমন তথ্য এসেছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০১০ সালে টিআইবির খসড়ার ওপর ভিত্তি করে The Members of Parliament Conduct Bill, 2010 উত্থাপিত হলেও তা আইনে পরিণত হয়নি।
সম্প্রতি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং দুদক সংস্কার কমিশনও সংসদ সদস্যদের জন্য পৃথক আচরণবিধি প্রণয়ন ও বাৎসরিক সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে—যাতে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মতি দিয়েছিল। টিআইবি প্রধান প্রশ্ন তোলেন, "সমস্যা ও সমাধানের পথ জানা থাকা সত্ত্বেও এটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি কেন?"
ডিসিকে /এমজেডএইচ








