প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭
১৫ বছরের জীবনসংগ্রাম
আখের রস বিক্রি করে সংসার চালান আমির

|আরো খবর
১৫ বছর ধরে আখের রস বিক্রি করে আমিরের জীবনসংগ্রাম, বাবুরহাটে মেটাচ্ছেন তৃষ্ণা
চাঁদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডএর বাবুরহাটে ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে একটি ছোট্ট আখের রসের দোকান। সামনে সাজানো তাজা আখ বা গেণ্ডারি, পাশে রস নিষ্কাশনের যন্ত্র। যন্ত্রের যান্ত্রিক শব্দের সাথে সাথে গ্লাসে জমা হয় মিষ্টি আখের রস। আর এই রস বিক্রি করেই গত ১৫ বছর ধরে সংসারের চাকা ঘুরিয়ে চলছেন আমির হোসেন (৩০)।
আমিরের জীবনসংগ্রামের শুরুটা সহজ ছিলো না। জীবিকার তাগিদে শুরুতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নানান কাজ ও ছোটখাটো ব্যবসা করেছেন। অবশেষে ১৫ বছর আগে আখের রস বিক্রিকে মূল পেশা হিসেবে বেছে নেন। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি বাবুরহাটে স্থায়ীভাবে ব্যবসা করছেন। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সেখানেই গড়ে তুলেছেন জীবনসংগ্রামের সংসার।
আমির হোসেন জানান, প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্লাস আখের রস বিক্রি হয়। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা হিসেবে দিনে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বিক্রি থাকে। ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী তিনি রসের সাথে বরফ মিশিয়ে কিংবা বরফ ছাড়াই পরিবেশন করেন।
শুধু ব্যবসাই নয়, ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়েও সচেতন আমির। আখ ও মেশিন পরিষ্কার রাখা সহ পরিবেশনের সময় পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেন তিনি। আমিরের ভাষায়, “মানুষ বিশ্বাসের জায়গা থেকে আমার কাছে রস খেতে আসে। তাদের সেই বিশ্বাস ধরে রাখাই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
দোকানে আসা ক'জন ক্রেতা জানান, গরমের দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা আখের রস তাদের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি দেয়। আমির সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে রস তৈরি করেন বলেই তারা নিয়মিত এখানে আসেন।
ব্যবসায়িক রূপরেখা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর—বিশেষ করে মার্চ থেকে জুনের তীব্র গরমে আখের রসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষাকালে বিক্রি কিছুটা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। তবে শীতকালে ঠান্ডা পানীয়র চাহিদা কমে যাওয়ার ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পড়ে।
আমির হোসেনের কাছে এই ব্যবসা কেবল জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, এটি তার ১৫ বছরের জীবনসংগ্রামের সঙ্গী। একটি মেশিন, কিছু আখ আর নিজের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমকে সম্বল করে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন বাবুরহাটের মোড়ে। স্বপ্ন দেখছেন—একদিন তার এই ছোট ব্যবসাটি আরও বড় হবে এবং পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থে সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবেন।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








