প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬
ভাঙ্গা ইটের ওপর হাজারো মানুষের পথচলা
কেতুয়া-কৃষ্ণপুর সড়কের স্থায়ী সমাধান কবে?

কেতুয়া হক মার্কেট থেকে কৃষ্ণপুর মিজিবাড়ি সড়ক : দীর্ঘদিন ধরে বেহাল, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ
|আরো খবর
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কেতুয়া হক মার্কেট থেকে কৃষ্ণপুর মিজিবাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। বৃষ্টিতে সড়কজুড়ে কাদা, পিচ্ছিলতা আর ভেঙে যাওয়া ইটের কারণে পথচলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি সিএনজি, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদেরও প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষায় এই সড়ক দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করা যেন ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে।
শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ চরমে :
এই সড়কের পাশেই অবস্থিত কেতুয়া কমিউনিটি ক্লিনিক। রাস্তার বেহাল দশার কারণে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ও আশঙ্কাজনক রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দুরবস্থার কারণে অনেক দূর-দূরান্তের রোগী ক্লিনিকে আসতেও অনীহা প্রকাশ করেন। জরুরি মুহূর্তে কাদা ও ভাঙাচুরা রাস্তা পার হতে অতিরিক্ত সময় লাগায় রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
অন্যদিকে, কেতুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও কৃষ্ণপুর জোহরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন। বৃষ্টির দিনে কাদা-পানিতে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ব্যাহত হচ্ছে জরুরি সেবা ও যোগাযোগ :
স্থানীয়রা জানান, সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে অনেক সময় যানবাহন চালকরা এ পথে আসতে চান না। এতে পণ্য পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে চরম বিঘ্ন ঘটে।
এটি কেবল একটি গ্রামের ভেতরের সড়ক নয়; কেতুয়া হক মার্কেট থেকে কৃষ্ণপুর মিজিবাড়ি মসজিদ পর্যন্ত এ পথটি ফারিশা রিসোর্টমুখী যাতায়াতের বিকল্প রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন হাজারো মানুষের ব্যবহৃত এমন একটি সড়ক বছরের পর বছর কেন অবহেলিত থাকবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
দ্রুত সংস্কারের দাবি :
কেতুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে স্থায়ী পাকা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








