প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫
শাহতলী মুন্সী বাড়ির ঐতিহ্যবাহী কাচারী ঘর উদ্বোধন

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বড় শাহতলী মুন্সী বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম কাচারী ঘর উদ্বোধন করা হয়েছে।
|আরো খবর
শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) দুুপুরে রুশদী বাড়ি-মুন্সি বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী কাচারী ঘর উদ্বোধন করেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) ও এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার।
উদ্বোধন শেষে শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক হচ্ছে কাচারী ঘর, যা একসময় মূল বাড়ির সামনে বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গ্রামীণ সালিসি কার্যক্রম কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের স্থাপনা হিসেবে বাড়ির আঙ্গিনায় স্থাপিত কাচারী ঘরের গুরুত্ব ছিলো অপরিসীম। কালের আবর্তে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রাচীন ঐতিহ্যের এ অনুষঙ্গটি হারিয়ে যেতে বসেছে। অতি সম্প্রতি চাঁদপুর সদরের অন্তর্গত শাহতলী গ্রামে আমার নানার বাড়ির প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কাচারী ঘরটি স্থানীয়ভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সংবাদটি আমার নজরে আসার পর আমিও সম্পৃক্ত হলাম পুরানো এ ঘরটি পুনঃনির্মাণে। এর পেছনের অন্যতম কারণ ছিলো আবেগ-অনুভূতির। শুনেছি আজ থেকে সত্তর বছর আগে আমার বাবা ফরিদগঞ্জ থানার প্রত্যন্ত গ্রাম হতে বরযাত্রী বেশে সদর থানার শাহতলী গ্রামের এ কাচারী ঘরে এসে আমার মায়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর-কনে পক্ষ কাচারী ঘরে বসে আলাপ আলোচনা করত বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথি আপ্যায়নে লিপ্ত হন। এভাবেই বিয়ে-শাদী, মেহমানদারি, ঘরোয়া সালিস, মক্তবের পড়াশোনা, লজিং মাস্টারের আবাসস্থল ও স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পাদনের উপযুক্ত স্থাপনা ছিলো গ্রামীণ এ ঐতিহ্যবাহী ঘরটি। দীর্ঘ দু বছরের নির্মাণ কার্যক্রম শেষে আজ ৪ জুলাই শনিবার নানার বাড়ির হারিয়ে যাওয়া এ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির শুভ উদ্বোধন করলাম। ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের চাঁদপুর নিয়ে এসে নবপ্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো প্রাচীন এ সভ্যতাকে। মনে করানো হলো, আমাদের পূর্ব পুরুষদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আমার প্রিয় ভাতিজা চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, ঢাকা থেকে আগত শ্রদ্ধেয় তাজু ভাই, কাচারী ঘরের অন্যতম কারিগর নুরুজ্জামান মুন্সী ও নিকটাত্মীয় স্বজন। সবশেষে আমি সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাই পুরানো ঐতিহ্যকে নবরূপে প্রতিষ্ঠার জন্যে এবং নিরলস পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখে আধুনিক দুনিয়ায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে।
জিলানী চিশতী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জহিরুল ইসলাম খান মুরাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও সভাপতিসহ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে ফিতা কেটে কাচারী ঘরের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়৷
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সহধর্মিণী আবিদা আফিফা কামরুজ্জামান, জামাতা রুবায়েত ই শামস অনিক, ছেলে নাফিস ইবনে জামান ও মেয়ে নওসিন ফারাহ জামান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসান, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোহসীন উদ্দিন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, জিলানী চিশতী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আক্তার, প্রভাষক সুমা পাল, প্রভাষক মনোয়ারা আক্তার, স্থানীয় মো. মানিক মুন্সি, মো. হাসান মুন্সিসহ অন্যরা।
সূত্র : দৈনিক চাঁদপুর খবর।






