প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০১
মতলব উত্তরে ২০ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে নিম্নমানের ইট, অভিযোগের পর অপসারণ

মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর-এখলাসপুর সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
|আরো খবর
প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নির্মাণমান, সরকারি তদারকি ও জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর-এখলাসপুর সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট থেকে ১৮ ফুট করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুনা ট্রেডার্স।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত ইটের খোয়া সরিয়ে নিতে শুরু করে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বেড়েছে।
এলজিইডির মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার বলছেন, “নির্মাণকাজে কিছু ত্রুটি পাওয়া গিয়েছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরই নিম্নমানের ইটের খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পাঁচআনি এলাকার কামাল হোসেন বলেন, “যদি ব্যবহৃত ইটের মান ঠিকই থাকে, তাহলে অভিযোগ ওঠার পর রাতারাতি সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন? এতে তো বরং আমাদের সন্দেহ আরও বেড়েছে।”
একই এলাকার ফারুক আহমেদ বলছেন, “জনগণের টাকায় নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনিয়ম ধামাচাপা না দিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”
এলজিইডি বলছে, ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
ছেংগারচরের রফিকুল ইসলাম বলছেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে যায়।”
ছেংগারচরের হারুনুর রশিদ বলেন, “নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। এখন আবার নিম্নমানের ইট সরিয়ে নতুন করে কাজ করতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বাড়ছে, তেমনি মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম বলেন, “নিম্নমানের ইটের খোয়া সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ চলছে।”
তবে কীভাবে নিম্নমানের ইট নির্মাণস্থলে এলো কিংবা কেন তা ব্যবহার করা হয়েছিল এ প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। সূত্র : বিডি নিউজ ২৪
ডিসিকে /এমজেডএইচ








