শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৩:২০

জনগণের জান-মাল রক্ষায় পুলিশ সবকিছু করতে রাজি’

চাঁদপুরে পুলিশ সুপারের কৌশলে কিশোর গ্যাং, মাদকসেবী ও বিক্রেতারা বেকায়দায়

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুরে পুলিশ সুপারের কৌশলে কিশোর গ্যাং, মাদকসেবী ও বিক্রেতারা বেকায়দায়
বৃহস্পতিবার চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে একান্ত আলাপকালে পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান।

চাঁদপুরের মানুষ যেন নিরাপদে ঘর থেকে বাজারে আসতে পারেন, আবার বাজার শেষে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন—তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের জান-মালের হেফাজতের জন্যে পুলিশ সবকিছু করতে রাজি।' চাঁদপুরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এভাবেই নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান। বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে একান্ত আলাপে পুলিশ সুপার জানান, ​চাঁদপুরকে কিশোর গ্যাং এবং মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান। এই অভিযানের সবচেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্য হলো, পুলিশ সুপার নিজে মাঠে নেমে বিভিন্ন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর এই সরাসরি অংশগ্রহণ এবং সপ্তাহব্যাপী চলমান কঠোর তৎপরতায় চাঁদপুরবাসী ও সাধারণ শহরবাসীর মাঝে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

​অপরাধবিজ্ঞানের আলোয় ‘কিশোর গ্যাং’ ও অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের এই সমস্যাটিকে অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় কিশোর বিচ্যুতি বলা হয়। এ বয়সে মূলত সঙ্গদোষের কারণে কিশোররা উদ্দেশ্যহীনভাবে রাত সাড়ে ৯টা বা ১০টার পর রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে এবং কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ তা অনুধাবন করতে পারে না।

​পুলিশ শুধু অপরাধী ধরা নয়, বরং তাদের দীর্ঘস্থায়ী সংশোধনের ওপর জোর দিচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এক অনন্য মানবিক ও ধর্মীয় মডেলের কথা জানিয়ে বলেন, ​আমরা রাতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো কিশোরদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে নিয়ে আসি। এরপর তাদের অভিভাবক বা পিতা-মাতাকে ডেকে পাঠানো হয়। তাদের সম্মতি ও পরামর্শে কিশোরদের মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত স্থায়ী পরিবর্তনের জন্যে আল্লাহর ঘর অর্থাৎ মসজিদে তাবলীগে (৪০ দিন বা ১২০ দিনের জন্যে) পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কুরআন ও হাদিসের এই সংশোধন পদ্ধতিই সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও কার্যকর।

​তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যারা স্বেচ্ছায় তাবলীগে যেতে চায় না, তাদের জোর করা হয় না। তবে তাদের অভিভাবকদের কাছে কড়া বার্তা দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয় যেনো সন্তানরা কোনো খারাপ সঙ্গীর সাথে মেলামেশা না করে।

​ পিতা-মাতাকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ​পুলিশ সুপার মনে করিয়ে দেন, সন্তান পিতা-মাতার জন্যে মহান আল্লাহর দেয়া সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার। সন্তান যাতে কোনোভাবেই বিপথে না যায়, সেজন্যে ছোটবেলা থেকেই তাদের নীতি-নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসন শেখাতে হবে। সন্তানদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখা বাবা-মার প্রধান দায়িত্ব।

​চাঁদপুরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে ​পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান চাঁদপুরকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এবং কিশোর গ্যাংমুক্ত করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, শহরের কোথায় কী ধরনের অপরাধ ঘটছে, তা পুলিশকে তথ্য বা পরামর্শ দিয়ে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​পুলিশের এই ব্যতিক্রমী ও কঠোর অভিযানের ফলে চাঁদপুরের সাধারণ মানুষের মাঝে এক নতুন আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। সকলের প্রত্যাশা, এ অভিযানের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর আগামীতে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় জেলা হিসেবে গড়ে উঠবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়