প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০১:২৩
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৩৭
সরকারি বরাদ্দের পুরোটা এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করবো ইনশাআল্লাহ
.......... মো. সাখাওয়াত হোসেন

মো. সাখাওয়াত হোসেন একজন তরুণ রাজনীতিবিদ। বয়সে এখনো তরুণ, তবে যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন অনেক দূর। ছাত্র রাজনীতি শেষ হতে না হতেই বড়ো দলের বড়ো পদ ক্যারি করছেন। অর্থাৎ তরুণ বয়সেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ২০০২ সালে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সমর্থক হন। একই বছর হন কর্মী। ২০০৩ সালে ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ফরিদগঞ্জ থানা অফিস সম্পাদক এবং ২০০৯ সালে ফরিদগঞ্জ থানা সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে ফরিদগঞ্জ থানা সভাপতি নির্বাচিত হন। তার সাংগঠনিক দক্ষতার গুণে তিনি ২০১১ সালে ইসলামী ছাত্র শিবিরের চাঁদপুর জেলা কমিটির অফিস সম্পাদক নির্বাচিত হন। অফিস সম্পাদক মানেই হলো সামনে বড়ো কিছু অপেক্ষা করছে। ২০১২ সালে শিবিরের জেলা সেক্রেটারি এবং ২০১৪ সালে চাঁদপুর জেলা সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ছাত্রশিবিরের মিশন শেষ করেন। তার যোগ্যতা, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে তিনি এ পর্যায়ে চলে এসেছেন। এ যেনো আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। তাছাড়া ঐ সময়টুকু ছিলো শিবিরের জন্যে সবচেয়ে কঠিনতম সময়। সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিবেশে তাকে সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে। পরের অধ্যায়টি আরো চমকপ্রদ। শিবিরের অধ্যায় শেষ করেই যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীতে এবং ২০১৬ সালে চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি, ২০১৯ সালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সহকারী সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ২০২১ সালে জামায়াতে ইসলামী ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। ২০২৫ সালে গোপন ভোটের মাধ্যমে তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নির্বাচিত হন এবং বর্তমানেও সে পদে বহাল রয়েছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাঁদপুর সদরে ১৩ এবং ফরিদগঞ্জে ১২সহ মোট ২৫টি মামলার আসামী হয়েছেন এবং দুবার গ্রেফতার হয়ে ৪৪ দিন কারাবরণ করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষকতা এবং ব্যবসা করছেন। রাজনীতিতে যেমন তিনি সফল একজন মানুষ, জনপ্রতিনিধি হলে কি সফল হবেন? সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোন্ পদে প্রার্থী হচ্ছেন?
সাখাওয়াত হোসেন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমি ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো ইনশাআল্লাহ।
চাঁদপুর কণ্ঠ : অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন?
সাখাওয়াত হোসেন : নিজে সরাসরি নির্বাচন না করলেও নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন?
সাখাওয়াত হোসেন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেহেতু দলীয় প্রতীক নেই, অতএব দলের সমর্থনেরও প্রয়োজন বোধ হয় নেই। তাছাড়া আমি দলের নয়, জনগণের প্রার্থী হতে চাই। আর নির্বাচিত হয়ে জনগণের হয়ে থাকতে চাই, তাদের সেবা করতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান, নাকি বিজয়ী হওয়ার জন্যে নির্বাচন করবেন?
সাখাওয়াত : পরিচিতির জন্যে নয়, বিজয়ী হয়ে জনগণের সেবা করার জন্যে নির্বাচন করতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
সাখাওয়াত হোসেন : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকার সুষ্ঠু করবে বলে আমি আশাবাদী।
চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?
সাখাওয়াত হোসেন : আমি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে সরকার আমাকে যতোটুকু বরাদ্দ দেবে তা পুরোপুরি এলাকার উন্নয়নে কাজে লাগাতে। সুযোগ থাকলে অন্যান্য সামাজিক সংগঠনকেও ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজে লাগাবো ইনশাআল্লাহ।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজের কোনো উদাহারণ আছে? থাকলে দু-একটি বলতে পারেন।
সাখাওয়াত হোসেন : আমি ছোট বেলা থেকেই জনকল্যাণমূলক কাজ করে আসছি। সাধারণত অন্যের উপকার করে বলে বেড়ানোর দর্শনে আমি বিশ্বাসী না। যেহেতু আপনারা জানতে চেয়েছেন, সে কারণে বলছি, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের ইউনিয়নের অনেক কাঁচা ঘর ভেঙ্গে যায়। আমার উদ্যোগে হর্ণি দূর্গাপুর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে প্রায় ১০টি কাঁচা ঘর করে দিয়েছি। ২০১৯ সালে করোনাকালীন সময়ে আমি যুব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য বিতরণ করেছি। ২০২৪ সালের বন্যা বা জলাবদ্ধতায় পুরো উপজেলায় হাজারো মানুষকে খাদ্য এবং খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। এছাড়া প্রতিবছর রোজা, ঈদ ও অন্যান্য উৎসবে খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করে থাকি।








