প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০১:৩৩
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪৭ কিলোমিটার দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু
প্রথমদিনে ২০০ স্থাপনা উচ্ছেদ

চাঁদপুর জেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সওজের ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। রোববার (৩ মে ২০২৬) সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
|আরো খবর
ভিডিও প্রতিবেদন
অভিযানের প্রথমদিনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকা থেকে শুরু করে বাবুরহাট বাজার পর্যন্ত চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু পাশে প্রায় ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কের দু পাশে গড়ে ওঠা দোকানপাট, বসতঘর ও অন্যান্য স্থাপনার কারণে সড়কের প্রস্থ সংকুচিত হয়ে পড়েছিলো, যা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছিলো।
সওজের অবস্থান
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী জানান, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত কোনো স্থাপনা মেনে নেয়া হবে না। ইতোমধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাও প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
আইন ও নির্দেশনা
এদিকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুযায়ী সড়কের উভয় পাশে নির্ধারিত সীমারেখা থেকে ১০ মিটার (৩৩ ফুট)-এর মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, চলমান এই উচ্ছেদ অভিযান চাঁদপুর থেকে শাহরাস্তির খাজুরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিচালিত হবে।
অভিযানের প্রভাব
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-লালমাই-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর-বেগমগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক-এর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাজার ও স্থাপনাগুলো যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিলো। এই অভিযান বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমন্বিত অভিযান
উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতা রয়েছে। ইতোমধ্যে মাইকিং ও মৌখিকভাবে সতর্কতা প্রদান করে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
জনমত
স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি ছিলো।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, দখলমুক্তকরণের পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং করা হবে এবং যাতে পুনরায় কেউ অবৈধভাবে দখল করতে না পারে, সেজন্যে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








