প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০১:১৪
কড়ৈতলী বাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কড়ৈতলী বাজারে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত রেটের চার্ট লিস্ট টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়নি। কৌশলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করায় বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
|আরো খবর
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে গিয়ে ইজারাদার জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। বিশেষ করে বাজারের মাছ ব্যবসায়ী, কাঁচা তরকারির ব্যবসায়ী, ফুটপাতের কলার ব্যবসায়ী, পানের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত রেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ী ও অন্যান্য ব্যবসায়ীর মধ্যে অনেকেই জানান, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইজারাদার বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করে। এতে করে একদিকে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাছ ব্যবসায়ীদের সংকট
মাছ ব্যবসায়ীরা বলেন, গত বছর থেকে এর আগে যে কোনো সময় আমরা বাজারে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে আসছিলাম। প্রতি বাজারে আমরা ৩০ টাকা বা ৫০ টাকা দিয়ে ব্যবসা করতাম। এই বাজারে ১০ থেকে ১২ জন মাছ ব্যবসায়ী ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু বর্তমান ইজারাদার আমাদেরকে নির্ধারিত করে দিয়েছেন দু শ' থেকে ৪০০ টাকা তাকে দিতে হবে। তাই মাছ ব্যবসায়ীরা এই বাজার থেকে চলে গেছে। এখন আমরা দুজন ব্যবসায়ী আছি। কয়েকজনের কাছে বাকি টাকা পাবো। সেই টাকা কালেকশন হয়ে গেলে আমরা আর এই বাজারে হয়তো আসবো না।
অন্যান্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
একাধিক কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী, ফল ব্যবসায়ী এবং পানের ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন জানান, আগে আমরা ২০ থেকে ৩০ টাকা দিয়েছি। বর্তমান ইজারাদার আমাদের কাছ থেকে ৫০/১০০ টাকা দাবি করে আসছে। ইজারাদারের নির্ধারিত টাকা না দিলে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করে। এসব কারণে আজ কয়েকদিন বাজারে অনেক ব্যবসায়ী আসছে না। আমরাও হয়তো আর কয়েকদিন দেখে অন্য বাজারে চলে যাবো।
বাজারের জৌলুস হারানো
এসব নিয়ে বাজারে আগন্তুক কয়েকজন পথচারী এবং কাস্টমারের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ক'দিন আগেও বাজারে ব্যাপক লোক সমাগম হতো। ১০/১২জন মাছ ব্যবসায়ী ও অনেক কাঁচা তরকারির ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীদের আগমনে বাজার সরগরম হতো। কিন্তু বর্তমান নতুন ইজারাদারের অতিরিক্ত খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে অনেক ব্যবসায়ী এখন আর এই বাজারে আসছে না। তাদের দাবি, এই বাজারের জৌলুস ফিরিয়ে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
বাজার কমিটির বক্তব্য
অন্যদিকে বাজার কমিটির সভাপতি মাসুদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বর্তমান ইজারাদারের বিভিন্ন খামখেয়ালিপনার কারণে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মাছ ব্যবসায়ীরা চলে গেছে। অন্যান্য কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী ও আরো বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাও চলে যাওয়ার পথে।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








