প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩০
কিছু পরিকল্পনায় নদী রক্ষাবাঁধটি হতে পারে মনোমুগ্ধকর স্থান

চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার হরিসভা থেকে রণাগোয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর তীরটি হতে পারে এক সম্ভবনাময় বিনোদন কেন্দ্র। বর্তমানে নদীর তীর ঘেঁষে চলমান নদীরক্ষা বাঁধের যে কাজ চলছে, যেভাবে ব্লক বিছানো হচ্ছে, সে কাজ দেখে মনে হচ্ছে, চাঁদপুরের এই স্থানটিও হতে পারে বৈকালিক বিনোদনের জন্যে একটি মনোমুগ্ধকর স্থান। নদীরক্ষা বাঁধে এই ব্লক স্থাপন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি যেনো সম্ভাবনাময় এক নান্দনিক জনপরিসরে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
|আরো খবর
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরাণবাজার হরিসভা থেকে শুরু করে রণাগোয়াল পর্যন্ত নদীর পাড়ে বড়ো বড়ো পাথরের ব্লক সারিবদ্ধভাবে বিছিয়ে নদীর পাড়কে শক্তিশালী করা হচ্ছে। নদীর ঢেউ আর ভাঙ্গনের চাপ সামাল দিতে এই ব্লকগুলো কার্যকর হলেও, একই সঙ্গে পুরো এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহ।
বাঁধের পাশ ঘেঁষে রয়েছে যান চলাচলের সড়কও। যা হাঁটা চলা, সাইকেল চালানো কিংবা বিকেলের অবসর সময় কাটানোর জন্যে বেশ উপযোগী হয়ে উঠছে। নদীর দিকে তাকালে দেখা যায়, মেঘনা নদীর ঢেউয়ের সৌন্দর্য, লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল, জেলেদের মাছ ধরার ছোট ছোট নৌকা আর নদীর পাড়ে পাথরের সারি এবং এক পাশে গাছগাছালিতে ঘেরা পরিবেশ। এসবের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক অনন্য দৃশ্যপট। বিকেলের নরম আলোয় এই এলাকা সহজেই মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
এই প্রকল্পটি মূলত চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার লক্ষ্য নদী ভাঙ্গন রোধ করে শহরকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে এটি হয়ে উঠতে পারে শহরবাসীর জন্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন কেন্দ্র। পাথরের ব্লকের ওপর কিংবা সড়কের পাশে বসার বেঞ্চ, ফুলের বাগান, ছায়া দেওয়ার জন্যে গাছ, আর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা গেলে সন্ধ্যার পর জায়গাটি হবে অনেক প্রাণবন্ত।
তবে একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ রয়েছে বর্ষা মৌসুমে। জোয়ারের পানিতে নিচু অংশগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এখন থেকেই প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা। উঁচু ওয়াকওয়ে, টেকসই বেঞ্চ, আর পানির উচ্চতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বসার ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে বর্ষাতেও এই এলাকাকে ব্যবহারযোগ্য রাখা সম্ভব। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও নজরদারি থাকলে এই নদীতীর শুধু ভাঙ্গনরোধী বাঁধ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তার সাথে জায়গাটি চাঁদপুরের একটি নতুন বিনোদনের স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে। যেখানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে পারবে, শিশুদের জন্যে থাকবে খেলার জায়গা, আর প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যে থাকবে খোলা আকাশ ও নদীর স্রোতের সঙ্গ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মেঘনা নদীর তীরবর্তী উন্নয়ন কাজ চাঁদপুরের জন্যে একদিকে যেমন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি তৈরি করছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








