প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০৩
প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর প্রতি সিভিল সার্জনের নির্দেশনা ও অনুরোধ
মানবিক দিক বিবেচনায় জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের বিশেষ ছাড়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করুন

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় হতদরিদ্র রোগীদের আরো বেশি উন্নত সেবা নিশ্চিতে এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে উদ্যোগ নিচ্ছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশনায় রোগীদের হয়রানিমুক্ত আরো উন্নত সেবা দেয়া এবং কম খরচে ভালো সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়ার পর এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি দপ্তরটি।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এ হাসপাতাল ছাড়া অন্যত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হলে হ্রাসকৃত মূল্যে যেনো প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় সে লক্ষ্যে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের সাথে আলোচনা সভা করেছেন সিভিল সার্জন। সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় সিভিল সার্জন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলার নেতৃবৃন্দও বিশেষ ছাড়ে জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. নূরে আলম দ্বীন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জেনারেল হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে আসে তাদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র। নানা সীমাবদ্ধতা থাকার পরও সেবা দেয়া হচ্ছে৷ সেবার মান বাড়াতে এবং রোগীদের হয়রানি বন্ধে আমরা আরো সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছি। নানা সময় প্রয়োজনেই রোগীদের নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রাইভেট হসপিটাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করতে হয়, এতে বাড়তি টাকা গচ্ছা যায় রোগীদের৷ কম খরচে বা বিশেষ ছাড়ে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা যেনো সেবা পায় সে লক্ষ্যে প্রাইভেট হসপিটাল এবং ডায়াগনস্টিক মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে৷ তিনি বলেন, মানহীন কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেনো পরিচালিত না হয় সেদিকে আমাদের পাশাপাশি প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব রয়েছে৷ আপনারা যেহেতু সেবার মনোভাব নিয়েই ব্যবসা করতে এসেছেন তাই একটু বেশি ছাড় দিতে হবে৷
সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুল্লা আল যোবায়েরের উপস্থাপনায় আরো বক্তব্য রাখেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুর রহমান, প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকের পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, রেইনবো হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসীন ভূঁইয়া, ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মিয়া আরিফ, আজাদ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান, হিলশা মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু বক্কর, মীম ডায়াগনস্টিকের পরিচালক কার্তিক চন্দ্র, পদ্মা হাসপতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এম সফিউল্যাহ প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকতা ডা. রফিকুল হাসান ফয়সাল, মেডিকেল অফিসার ইমামুল মুস্তাসিরসহ বিভিন্ন বেসরকারি হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অর্ধশতাধিক মালিক।
সভায় সদর হাসপাতালের রোগীদের প্রাইভেট হসপিটাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা হলে একটা ভালো পার্সেন্টেজে ছাড় দেয়ার বিষয়ে সভায় ঐকমত্য হন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।








