মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৫

শাহরাস্তির সড়ক দুর্ঘটনায় মুন্নার বেঁচে ফেরার গল্প

জানালার কাচ ভেঙে ছিটকে পড়ে বেঁচে গেলেন!

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক নিয়ে প্রশ্ন

আব্দুল্লাহ আল মামুন।।
জানালার কাচ ভেঙে ছিটকে পড়ে বেঁচে গেলেন!
শাহরাস্তিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে ফিরলেন মুন্না

লক্ষ্মীপুরে থাকা বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে রংপুরের পাগলাপীর থেকে আল আরাফাহ পরিবহনের বাসে চেপে যাত্রা করেছিলেন ৩০ বছর বয়সী মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না। কে জানত প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া সেই যাত্রাই তাকে নিয়ে যাবে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি!

১০ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) রাত ৮টার দিকে রংপুরের পাগলাপীর থেকে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে আল আরাফাহ বাসে যাত্রা শুরু করেন মুন্না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ১১ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচৌ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

ভয়াবহ ওই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাসযাত্রী মফিজুল ইসলাম মুন্নাও। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় মুন্নাকে। তার মুখের নিচের অংশ ফুলে গেছে, থুতনিতে কেটে যাওয়ায় দুটি সেলাই দিতে হয়েছে। দুই হাতেও কেটে যাওয়ার ক্ষত রয়েছে। এছাড়া হাঁটু ছিলে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর থেকে তার বড় ভাই শাহরাস্তিতে ছুটে আসেন তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুন্না বলেন, বাসটি বেশ দ্রুতগতিতে চলছিল। দুর্ঘটনার প্রায় দু মিনিট আগে চালক পান খেতে শুরু করেন। তার ধারণা, চালক হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন এবং অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

মুন্না জানান, সংঘর্ষের মুহূর্তে তিনি জানালার কাচ ভেঙে বাইরে পড়ে যান। ভয়াবহ দুর্ঘটনার মধ্যেও প্রাণে বেঁচে যাওয়াকে তিনি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত হিসেবে দেখছেন। বারবার আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে আছি।’

একদিকে স্বজন হারানোর আহাজারি, অন্যদিকে আহতদের কাতরানো—বানিয়াচৌ এলাকায় দুর্ঘটনার পর সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তা, শোক ও অপূরণীয় ক্ষতির মধ্যে ঠেলে দেয়। যাঁরা আপনজন হারান, তাঁরাই জানেন—একটি প্রাণ হারানোর সঙ্গে একটি পরিবারের কত বড় সম্পদ হারিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বানিয়াচৌ এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে সড়কে একটি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এ ধরনের বাঁককে ঘিরে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। ফলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক। সম্ভব হলে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সরলীকরণ করা এবং সড়কের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, একটি দুর্ঘটনার পর শুধু উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নয়—দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। যাতে আর কোনো মুন্নাকে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে না হয়, আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়