সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৪

ঈদ-কেনাকাটায় মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভিড়

মো. মিজানুর রহমান
ঈদ-কেনাকাটায় মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভিড়
ছবি ক্যাপশন- ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে হকার্স মার্কেট, জেএম সেনগুপ্ত রোড এবং পুরাণবাজার খলিফা পট্টির দৃশ্য।

চাঁদপুর শহরের বাজারগুলো এখন পুরোপুরি ঈদের আমেজে ভরপুর। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের ভিড় যেনো ঈদের আনন্দকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট-বড় সকলেই তাদের বাজেট অনুযায়ী শপিং করতে ব্যস্ত। শহরের বিভিন্ন অভিজাত বিপণী বিতান, শপিংমল এমনকি ফুটপাতে উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে দুপুর ও বিকেল থেকে সন্ধ্যা-রাত পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীতে ঠাসা থাকে বেচাকেনার সকল স্থান। উদ্দেশ্য আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্যে নতুন পোশাক এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিস কেনা।

চাঁদপুর শহরের চাঁদপুর পৌরসভা কার্যালয় থেকে কালীবাড়ি, কোর্ট স্টেশন, জেএম সেনগুপ্ত রোড, জোড়পুকুর পাড়, রেলওয়ে হকার্স মার্কেট, বাইতুল আমিন মসজিদের আশপাশের মার্কেটগুলো, হাকিম প্লাজা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের বিভিন্ন মার্কেট, বাস স্ট্যান্ড ফয়সাল শপিং কমপ্লেক্সসহ শহরের সব ছোট-বড় মার্কেট ও দোকান, পুরাণ বাজারের খলিফা পট্টি, ট্রাংক পট্টি, মসজিদ পট্টি, যুগী পট্টিতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জোড়পুকুর পাড়, জেএম সেনগুপ্ত রোড, কুমিল্লা রোড, কালীবাড়ি, রেলওয়ে হকার্স মার্কেট এলাকায় অবস্থিত মার্কেটগুলোতে মানুষের চাপ থাকে বেশি।

২৪ রমজান শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকে পৌর এলাকার মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের সামগ্রীর দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই এসব মার্কেট ও আশপাশের অলিগলিতে ক্রেতার চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। ব্র্যান্ড শপগুলোতে ভিড় বেশি হলেও সাধারণ দোকান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ১৫ রমজানের পর থেকে ভিড় বেড়েছে। মেইন রোডের জুতা ব্যবসায়ী রাতুল বলেন, দুপুর পর্যন্ত তেরো জোড়া জুতা বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। ওইদিন সরজমিনে দেখা গেছে, মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। দোকানের সামনে ঝুলছে রঙিন পোশাক, আর ভেতরে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম। দোকানগুলোতে সারি সারি সাজানো হয়েছে শিশুদের ফ্রক, গাউন, স্কার্ট, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, টি-শার্টসহ নানা ধরনের পোশাক। বিশেষ করে শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে তাদের পছন্দের পোশাক কিনছেন। রঙিন ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের পোশাকগুলো শিশুদের চোখে সহজেই ধরা পড়ছে। অনেক শিশুকে দেখা গেছে নিজেদের পছন্দের পোশাক বেছে নিতে।

প্রসাধনী ও রেডিমেড পোশাক ব্যবসায়ী অমর দে বলেন, গত দু-তিন দিন ধরে ক্রেতা বাড়ছে, ঈদের সপ্তাহে বেচাকেনা আরও বাড়বে। ক্রেতা ইশতিয়াক জানিয়েছেন, অফিস ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে আগে কেনাকাটা করতে পারেননি, শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিন থাকায় তাই মার্কেটে এসেছেন। ঈদ মার্কেটের কারণে শহরে যানজটও বেড়েছে। পাল বাজার ব্রিজ চত্বর থেকে কালীবাড়ি মোড়, তাজমহল লাইব্রেরি, রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন, বাইতুল আমিন মসজিদ চত্বর, হকার্স মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, গণিস্কুলের সামনে হতে চিত্রলেখা মোড় রাজু চত্বর, কলেজ গেট, বিপণীবাগ, মাতৃপীঠ স্কুল মোড়, মিশন রোড মোড়, স্টেডিয়াম সড়ক, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মার্কেটের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের কেনাকাটার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এসব এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়ার আশা করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। এবারে ঈদের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে জুতা, থ্রি পিস, শাড়ি এবং ছোট বাচ্চাদের পোশাক। বাজারে আগত ক্রেতারা জানাচ্ছেন, এবার ঈদ শপিংয়ে অনেক বেশি ভালো লাগছে। কারণ, পছন্দমতো সব কিছু পেয়ে যাচ্ছেন। মেয়েদের পোশাকের মধ্যে এবার পাথরের কাজের তুলনায় সুতার কাজের কামিজগুলো ভালো চলছে। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দোকানি ও ক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ভারতীয় কাপড়ে জরি, সুতা, পুঁতি, চুমকি, কুন্দন ইত্যাদি দিয়ে নকশা করা সালোয়ার-কামিজের চাহিদা আছে বেশ। সুতি পোশাকের চাহিদাটা একটু বেশি। ছেলেদের ঈদ কেনাকাটায় পাঞ্জাবি, প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়