প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০
হাজীগঞ্জে মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগের সমর্থক মোঃ মহিন উদ্দিন মঞ্জুকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। হাজীগঞ্জ পৌরসভার মকিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জু গত ১৩ অক্টোবর হাজীগঞ্জ বাজারে মন্দির ভাংচুরের জড়িত থাকার কারণে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।
মঞ্জু যুবলীগের ঠিক কোন্ পদে বা আদৌ সে যুবলীগ করে কিনা এমন বিষয়ে হাজীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক ও হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন জানান, মহিন উদ্দিন মঞ্জু পৌর যুবলীগের সদস্য নয়, এমনকি ওয়ার্ড যুবলীগের কোনো পদেও নেই। অপর এক প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী-যুবলীগ বৃহৎ রাজনৈতিক যুব সংগঠন। কেউ যদি আমাদের অগোচরে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে পদ-পদবী ব্যবহার করেন, সেটা তো আমাদের অজানা থেকে যায়।
অপর দিকে উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন সোহেল জানান, মহিনউদ্দিন মঞ্জু উপজেলা যুবলীগের কোনো পদে নেই এবং উপজেলা যুবলীগের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশিদ জানান, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ক্লিপ দেখে গ্রেফতার এবং গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে যাদের নাম পাওয়া যায় শুধুমাত্র তাদেরকেই আটক করা হচ্ছে। অন্যথায় কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না এবং হবেও না বলে জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহিন উদ্দিন মঞ্জু নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও শহর (পৌর) যুবলীগের সম্মানিত সদস্য উল্লেখ করে উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে গত ঈদুল আযহায় শুভেচ্ছা জানান। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিন উদ্দিন মঞ্জু পদ-পদবীতে না থাকলেও যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর হাজীগঞ্জ বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পূজা ম-প ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশের ২টি ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৮টি মিলিয়ে মোট ১০টি মামলা করা হয়। এই সকল মামলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যে প্রায় ৩জনকে শনাক্তসহ আটক করা হয়েছে ৭৮ জনকে।