প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:৪২
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৪৯
জনপ্রতিনিধি হওয়া মানে ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবার বড় দায়িত্ব
----মো. ইদ্রিস আলী মুন্না

মতলব পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস আলী মুন্না। তিনি প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান। তাঁর মতে—সততা, জবাবদিহিতা, জনগণের কাছে সহজলভ্যতা এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাই একজন জনপ্রতিনিধির মূল যোগ্যতা। পৌরসভা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান এবং পরিকল্পিত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
|আরো খবর
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারটি প্রশ্নোত্তর আকারে নিচে তুলে ধরা হলো :
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিন।
মো. ইদ্রিস আলী মুন্না : আমি দীর্ঘদিন ধরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তাঁদের ছোট-বড় নানা সমস্যা সমাধানে সাধ্যমতো আন্তরিক থেকেছি। সেই অনুভূতি ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা থেকেই এবার কাউন্সিলর পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধি হওয়া মানে ক্ষমতাচর্চা নয়, বরং এটি মানুষের সেবা করার একটি মহান দায়িত্ব। একজন সৎ, পরিশ্রমী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিনিধি হিসেবে আমার লক্ষ্য—একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ওয়ার্ড গড়ে তোলা।
ব্যক্তিগত পরিচয়ে আমি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক। বাবা মো. সামছুল হক ও মা আকলিমা বেগম। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। বর্তমানে চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে আপনার ওয়ার্ডের জন্য প্রথম তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী হবে?
মো. ইদ্রিস আলী মুন্না : নির্বাচিত হলে আমার অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রধান তিনটি কাজ হবে : ১. সড়ক উন্নয়ন, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান।২. এলাকাকে মাদক, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংমুক্ত করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। ৩. পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব ধরনের নাগরিক সেবা দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করা।
চাঁদপুর কণ্ঠ: আপনার ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যাগুলো কী এবং সেগুলো সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?
মো. ইদ্রিস আলী মুন্না : আমার দৃষ্টিতে এই ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কিছু রাস্তার সংকীর্ণতা এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। নির্বাচিত হলে পৌরসভা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করবো। এলাকার প্রতিটি উন্নয়নকাজ জনগণের সম্পৃক্ততা নিয়েই বাস্তবায়ন করতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : ভোটাররা অন্যান্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আপনাকেই কেন বেছে নেবেন বলে মনে করেন?
মো. ইদ্রিস আলী মুন্না : আমি ফাঁকা প্রতিশ্রুতি না দিয়ে কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। আমি মনে করি সততা, জবাবদিহিতা, সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং জনগণের কাছে সহজে পৌঁছানোর মানসিকতাই একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান গুণ। নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমান প্রাধান্য দেবো এবং আমার দুয়ার সবার জন্য সর্বদা খোলা থাকবে।
চাঁদপুর কণ্ঠ: উপরোক্ত আলোচনার বাইরে ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা আছে কি?
মো. ইদ্রিস আলী মুন্না : আমি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের সম্মানিত ভোটারদের কাছে দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা কামনা করছি। সুযোগ পেলে ইনশাআল্লাহ জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ মর্যাদা দেব। একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গড়ায় থাকবে আমার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা। আপনাদের প্রতিটি মূল্যবান ভোট হোক উন্নয়ন, সততা ও সেবার পক্ষে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








